শনিবার , ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ , ২রা মাঘ, ১৪২৭ , ২রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ‘অপবিত্র’ হবে বলেই ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবহার চাই না: নওফেল

‘অপবিত্র’ হবে বলেই ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবহার চাই না: নওফেল

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
‘অপবিত্র’ হবে বলেই ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবহার চাই না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি বলেন, ‘দ্বীন ইসলামের নামে কেনো রাজনীতি করা যাবে না- এটা আমার কাছে যদি কেউ প্রশ্ন রাখে, তাহলে বলবো- ঈমানের প্রশ্নে কোনো দ্বিমত করা যায় না। রাজনীতি করলে মত থাকবে, দ্বিমত থাকবে, আপনার একটা কথা থাকবে, আমার একটা কথা থাকবে, বাদ-প্রতিবাদ থাকবে। কিন্তু দ্বীনের প্রশ্নে, ইসলামের প্রশ্নে কি আমরা কোনো দ্বিমত করতে পারি। অপবিত্র হবে বলেই আমরা ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবহার চাই না।’

শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে নগরের চান্দগাঁও এলাকায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সবখানে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে অনেক অস্ত্র ব্যবসায়ীর লাভ। আমরা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান হতে দেব না।’

নওফেল বলেন, ‘রাসুলের (সা.) কোনো হাদিসে আপনারা দেখবেন না- তিনি বলেছেন যে, দ্বীন কায়েম করার জন্য রাজনীতি করো। কিন্তু আজকে অনেকে এটা করছে। এটা করে আমাদের যুব সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আমাদের নারী সমাজকেও এই বিষয়টা নানানভাবে মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।’

শিক্ষা উপ-মন্ত্রী বলেন, ‘আমার দ্বীন, আমার ঈমান, এটা আমার কাছে অত্যন্ত পবিত্র। আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সঙ্গে আমার রুহানী সম্পর্ক তৈরি হয়। এটা নিয়ে আমি রাজনীতি করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে একটা উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। সেখানে আমাদের সমৃদ্ধি হবে। সেখানে সহনশীলতা থাকবে। সেখানে শান্তি থাকবে।’

‘শুধু পয়সা ইনকাম করলে শান্তি আসে না। পৃথিবীর অনেক দেশে অনেক অর্থ আছে, কিন্তু শান্তি নেই। স্থিতিশীলতা না থাকলে মানুষে মানুষে সদ্ভাব না থাকলে, শান্তি আসে না।’

নওফেল বলেন, ‘সব পর্যায়ে আমাদের সংবিধানে নির্দেশিত মূলনীতিগুলোর চর্চা করতে হবে। জাতির পিতা সহনশীল, ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজের স্বপ্ন দেখিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তার আদর্শ যদি আজকে ভুলণ্ঠিত হয়, তাহলে কোনো বিনিয়োগের সুফল আমরা পাব না। কারণ অরাজকতা, অস্থিতিশীলতা, হানাহানি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এই বাংলাদেশ ভরে যাবে। নিজেদের শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার যে দুয়ার শেখ হাসিনা সরকার খুলে দিয়েছে, সেখানে আমাদের ঢুকে পড়তে হবে। নিজেদের উন্নত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দেশের আটটি স্থানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নাটোর, কুমিল্লা, নেত্রকোনা, বরিশাল ও মাগুরায় স্থাপন করা হচ্ছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালে শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয় এবং চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়।

আইসিটি বিভাগের অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রায় ২ হাজার বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং ৫৭০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে যাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১২ জনকে ল্যাপটপ প্রদান করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক। এ সময় বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী একটি ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, জব পোর্টাল ও ডাটা বেইস উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানান তিনি।

নুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসম জাশেদ খন্দকার, ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক এ এম এম শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান প্রমুখ।

>