শুক্রবার , ১৮ই জুন, ২০২১ , ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ , ৭ই জিলকদ, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > অফিসিয়াল সিক্রেসী অ্যাক্ট হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কালো আইন: গোলাম মোহাম্মদ কাদের

অফিসিয়াল সিক্রেসী অ্যাক্ট হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কালো আইন: গোলাম মোহাম্মদ কাদের

শেয়ার করুন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সাংবাদিক রোজিনা হেনেস্তা ও তার বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা রোজিনা ইসলামের জামিন দেয়ার দাবী জানাচ্ছি। তিনি বলেন, যারা সাংবাদিক রোজিনাকে হেনেস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরী সুরক্ষা এবং কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলের পৈশাচিক হামলা বন্ধ এবং দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের একথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের সাথে যে বর্বরতা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক তথ্য সংগ্রহ করবেন এতে অপরাধের কিছু নেই। অনুসন্ধানী প্রতিবেদকদের জন্যই আমরা জানতে পারি বিভিন্ন দপ্তরে লুটপাটের খবর। তিনি উল্লেখ করে বলেন, করোনাকালে মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তা অনুসন্ধানী প্রতিদেকরাই জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আবার করোনা টিকা আমদানী করে একটি কোম্পানী ইতোমধ্যেই পঞ্চাশ কোটি টাকা লোপাট করেছে। বর্তমানে টিকা আমদানীতে কি হচ্ছে আমরা জানিনা। রোজিনা ইসলাম তাঁর পেশার স্বার্থেই তথ্য সংগ্রহ করেছে। জাতিকে জানাতে এবং দেশের স্বার্থেই সে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহ কখনো চুরি হতে পারেনা।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারমান আরো বলেন, অফিসিয়াল সিক্রেসী অ্যাক্ট হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কালো আইন। ১৯২৩ সালে বৃটিশ সরকার তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে নিবর্তনমূলক এই আইনটি পাশ করে। স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন কালো আইন জনস্বার্থ বিরোধী। সরকার যখন তথ্য অধিকার আইন প্রনয়ন করেন, সেসময় আমরা জনগণের পক্ষ হতে দাবী করেছিলাম, যে রাষ্ট্র বিরোধী ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরুপ সেসমস্ত তথ্যই শুধু গোপন রাখার ব্যবস্থা রেখে আর সকল তথ্য উন্মুক্ত রাখা জনস্বার্থে প্রয়োজন। এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, তথ্য অধিকার আইনটি শেষ পর্যন্ত সেভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। বর্তমানে তথ্য অধিকার আইনটিও উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অর্থাত সরকার এবং জনগণ রাজা ও প্রজা এ ধারণাটিকে লালন করা হচ্ছে। আমরা এর ঘোর বিরোধীতা করছি। তথ্য অধিকার আইনকে যত দ্রুত সম্ভব সংশোধন করার দাবী জানাচ্ছি।

এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বর্বর হামলার সমালোচনা করে বলেন, ফিলিস্তিনীদের জীবন বাঁচাতে ফিলিস্তিনে জাতীসংঘের শান্তিরক্ষী নিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের নেতৃত্বে শক্তি প্রয়োগ করে নিবৃত করতে হবে ইসরাইলকে। আলোচনার ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগ নিতে হবে।

এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ইসরাইল দানবীয় আচরণ করছে ফিলিস্তিনের ওপর। জাতীসংঘ সহ বিশ^ সম্প্রদায়ের অনুরোধ উপেক্ষা করে পৈশাচিক বর্বরতা চালাচ্ছে নিরিহ ফিলিস্তিনীদের সাথে। প্রতিদিন অসংখ্য নিরিহ-নিরাপরাধ মানুষের রক্তে লাল হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম তীর্থস্থান। নিহত হচ্ছে শত শত মানুষ, হাজারো মানুষ পঙ্গু হচ্ছে চিরদিনের জন্য। প্রতিদিন হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিমান হামলায় ফিলিস্তিনীদের বাড়ি-ঘর মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। ইসরাইলের বর্বর হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেনা হাসপাতাল, উদ্বাস্তু শিবির এবং গণমাধ্যমের অফিস। বিশ্ব সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানবতা বিরোধী হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইল। সভ্য যুগে ইসরায়েলি নৃশংসতা বেমানান। নারী, শিশু সহ বেসামরিক মানুষের ওপর নারকীয় বিমান হামলা বর্বরতার নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে আছি এবং থাকবো।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাথে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর আঘাত। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বাদ হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায়। গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে গণতন্ত্রের স্বার্থেই। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে মুক্তি দিলেই হবেনা, তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। যারা সাংবাদিক রোজিনার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এসময় ইসরাইলের বর্বর হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখতে চাই। তিনি বলেন, পশ্চিমা যেসব রাষ্ট্র সবসময় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই এখন ইসলাইলকে সমর্থন দিচ্ছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ভেটো দিচ্ছে আমেরিকা সহ তার মিত্ররা, এটা সভ্য সমাজে বেমানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, রোজিনা ইসলামকে যেভাবে হেনেস্তা করা হয়েছে, তা স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু আজ দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে, মানুষ কথা বলতে পারছেনা। গণমাধ্যম কর্মীরা সত্য প্রকাশ করতে পারছেনা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের যেসকল কর্মী সত্য প্রকাশে এগিয়ে আসছে তাদের বিরুদ্ধে অবর্ণনীয় নির্যাতন নেমে আসছে। রোজিনা ইসলামের উপর যে হামলা হয়েছে তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায়না। রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আরো বলেন, আমরা গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা চাই। অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতেই আমাদের রাজনীতি। এসময় বিশ্ব সম্রদায়ের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলি হামলা মানবতা বিরোধী অপরাধ। বর্বর ইসরাইল ফিলিস্তিনি নারী, শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের উপর পৈশাচিক বিমান হামলা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে। ইসরাইলকে নিবৃত্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের বর্বর হামলা মেনে নেয়া যায়না। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে ইসরাইলের নির্মমতা দেখে। ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের ক্ষত বিক্ষত দেহ, নারী ও শিশুদের আর্তনাদ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিনিদের পাশে ছিলো। ফিলিস্তিনিদের উপর হামলায় বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় নীরব থাকতে পারেনা। জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরাইলকে নিবৃত্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সভ্য সমাজে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে নির্মমতা কখনো সমর্থনযোগ্য নয়।

জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে এবং জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল-এর পরিচালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, এডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, এমরান হোসেন মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, নাজমা আক্তার এমপি, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য- জহিরুল আলম রুবেল, হেনা খান পন্নি, নাজনীন সুলতানা, ভাইস-চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, শফিকুল ইসলাম শফিক, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ, তারেক এ আদেল। যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মোঃ বেলাল হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক- মোঃ হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক- সুজন দে, শরফুদ্দিন আহমেদ শিপু, জাতীয় তরুণ পাটির সাধারণ সম্পাদক মোড়ল জিয়াউর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন- উপদেষ্টা ড: নূরুল আজহার শামীম, সরদার শাহজাহান, নূরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, ভাইস-চেয়ারম্যান-মোস্তফা আল মাহমুদ, মেজর (অব.) আব্দুস সালাম, আহসান আদেলুর আদেল এমপি, যুগ্ম মহাসচিব-আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, সাংগঠনিক সম্পাদক- নির্মল চন্দ্র দাস, এনাম জয়নাল আবেদীন, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন তোতা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মিজানুর রহমান, সম্পাদক মন্ডলী-সুলতান মাহমুদ, এম এ রাজ্জাক খান, মাসুদুর রহমান মাসুম, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, খোরশেদ আলম খুশু, যুগ্ম সম্পাদক- দেলোয়ার হোসেন খান মিলন, নূরুল হক নূরু ,আক্তার হোসেন দেওয়ান, এম এ সোবাহান , সুজন দে, শাহজাহান কবির, সহিদ হোসেন সেন্টু, মোঃ হেলাল উদ্দিন, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, এসএম রহমান পারভেজ, শেখ মোহাম্মদ শান্ত, মাসুদুর রহমান, ডা: সেলিমা খান, ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফাত্তাহ, মীর সামসুল আলম লিপ্টন, শারমিন পারভীন লিজা, আজাহার সরকার, দীন ইসলাম শেখ, কেন্দ্রীয় সদস্য- মনিরুজ্জামান টিটু, মোস্তাইন বিল্লাহ, নাজমুল খান, ফারুক শেঠ, আলমগীর হোসেন, জেসমিন নূর প্রিয়ংকা, হাজী লিটন, হাজী আব্দুল বাতেন, মিনি খান, রিতু নূর , মোমেনা বেগম, মাওঃ মোঃ খলিলুর রহমান সিদ্দিকী, লোকমান ভূঁইয়া রাজু, তাসলিমা আকবর রুনা, সারোয়ার হোসেন, এডভোকেট এমদাদ, হুমায়ূন কবির শাওন, আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি-ইব্রাহীম খান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক -আল মামুন সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

>