মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > অসাংবিধানিক শক্তি ১০ বছরেও নির্বাচন দেবে না

অসাংবিধানিক শক্তি ১০ বছরেও নির্বাচন দেবে না

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতায় এলে দেশে ১০ বছরেও নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অসাংবিধানিক শক্তিকে যদি একবার ক্ষমতায় আনা হয়, তাহলে ২ বছর নয়, ১০ বছরেও নির্বাচন হবে না। দেশে গণতন্ত্রও থাকবে না।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের গণতন্ত্র বজায় রাখতে সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় এবং গণতন্ত্র বজায় রেখে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগই একমাত্র অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়ার সাহস রাখে। আগামী জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

ইফতার মাহফিল সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিকাল ছয়টায় আসার কথা থাকলেও আধা ঘণ্টা আগে তিনি ইফতার অনুষ্ঠানে পৌঁছান। শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের টেবিল ঘুরে ঘুরে সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সাংবাদিকরাও তাকে অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজে মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, ডিইউজে সভাপতি ওমর ফারুক।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, পরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল, প্রবীন সাংবাদিক এবিএম মূসা, মাহবুবুল আলম, হাবিবুর রহমান মিলন, আলতাফ মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালেরকণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বৈশাখী টিভির প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্য ঘটনা তুলে ধরুন। কাবা শরীফের গিলাপ পরিবর্তনকে যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে মানববন্ধন এমন মিথ্যাচার করা থেকে বিরত থাকুন। এ ধরনের কাজ কোনো পত্রিকা করলে তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অষ্টম ওয়েজ বোর্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদে আগে ঘোষণা করার ইচ্ছে ছিল। তবে একটি মাত্র মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকায় তা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে।’

সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক গৌতম হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য হত্যার বিচারও হবে। সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় আমাদের সংসদ সদস্য রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা কাউকে ছাড় দেইনি।’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘তথ্য কোনো পণ্য নয়। এটা দায়বদ্ধতার বিষয়। এ দায়বদ্ধতা, গণতন্ত্রের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার। এখানে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা বনাম গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিরপেক্ষ সাজার চেষ্টা করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে। কিন্ত মিথ্যাচার, চরিত্র হরণ, খণ্ডিত বক্তব্য উপস্থাপন থেকে বিরত থাকুন।’

ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণনয় করা হয়েছে। শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

>