বৃহস্পতিবার , ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > জাতীয় > অস্থির চালের বাজার

অস্থির চালের বাজার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হু হু করে বাড়ছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় টাকা। আর পাইকারি বাজারে বেড়েছে প্রায় ৩ থেকে ৫ টাকা। দাম বাড়ার দিক থেকে সব চেয়ে বেশি এগিয়ে মোটা চাল। গতকাল রাজধানীর জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, ঠাঠারীবাজার, বাবুবাজার, কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের পর থেকে থেমে থেমে বাড়ে চালের দাম। এতোদিন যদিও তা দৃশ্যমান ছিল না এখন তা অনেকটা প্রকাশিত। এর পেছনে রয়েছে একশ্রেণীর অসাধু চক্র। যারা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম উপায়ে বাড়িয়ে দিয়েছে চালের দাম। গতকাল খুচরা বাজার ঘুুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা, আটাশ ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা, পারিজাত ৩৬ থেকে বেড়ে ৪৪ টাকা, স্বর্ণা ৩৩ থেকে বেড়ে ৪২ টাকা, ভাল মানের মিনিকেট ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম জানান, ঈদের পর থেকে আস্তে আস্তে দাম বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু কেন বা কারা বাড়াচ্ছে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এদিকে খুচরার পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও কেজিতে প্রায় ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল কাওরানবাজারের পাইকারি দোকান ঘুুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ৪৪ থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা, আটাশ ৩৮ থেকে বেড়ে ৪৪ টাকা, পারিজাত ৩৬ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, স্বর্ণা ৩৩ থেকে বেড়ে ৩৭ টাকা, টাকায় বিক্রি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরানবাজারের একজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে এমনটি হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শ্রেণীর সিন্ডিকেট সক্রিয়। প্রথমত: মিল মালিকরা, দ্বিতীয়ত- মহাজনরা। এদের কারণেই সব সময় পণ্যের দাম ওঠানামা করে। আর ভোগান্তির শিকার হয় ভোক্তা শ্রেণী আর উৎপাদক শ্রেণী। এর বাইরে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াকেও দায়ী করেন এ ব্যবসায়ী। অন্যদিকে চালের এ দাম বৃদ্ধির জন্য দেশের চাল মজুতদার ও আড়ৎদারদেরও দায়ী করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই সব ব্যক্তিদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলেও তা তারা স্বীকার করছেন না। বাবুবাজারের আড়ৎদার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ইরি ধানের ভরা মওসুমে দেশের সর্বত্রই ধান-চালের দাম কম থাকলেও মওসুমের শেষ দিকেই দফায় দফায় দাম বাড়ছে ধান-চালের। সূত্র জানায়, কিছু অসাধু মিল মালিক একচেটিয়া মুনাফা করতে মওসুমের শুরুতেই কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে ব্যাপক মজুত রেখে আবার রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে বর্তমানে চড়া দামে বিক্রি করছেন ধান-চাল। বাবুবাজারের একাধিক আড়ৎদার জানান, মিলের নিয়ন্ত্রকরা ইচ্ছামতো মজুতদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে প্রতি বছরই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। আড়ৎদাররা জানান, চলতি বছর ইরি ধানের মওসুমে মণপ্রতি ধানের দর ছিল ৫০০ টাকারও নিচে। তখন ঠিকই মিলাররা ধান মজুত করেছে। কিন্তু সে সময় বাজারে চাল ছাড়েননি তারা। এখন রাজনৈতিক কারণ ও বিভিন্ন জায়গায় বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে বেশি দাম আদায় করছেন মিলাররা। রাইস এজেন্সির মালিকরা বলেন, মফস্বল কৃষকদের হাতে ধান নেই। বড় মিলারদের হাতে মজুত ধান বাজারে ছাড়ছেন না। এজন্যই বাজারে চালের দাম বেড়েই চলছে। তারা বলেন, অন্যান্য পণ্যের মতো সরকারের চালের দামের প্রতিও নজরদারি করা উচিত। যে সব মিলার কারসাজি করে মোটা অংকের টাকা চালের বাজার থেকে হাতিয়ে নেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে চালের দাম আরও বাড়বে।

>