মঙ্গলবার , ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ , ৫ই মাঘ, ১৪২৭ , ৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > ইসলাম > আইসোলেটিং পৃথিবীতে আমরা কি কেউ সুস্থ আছি?

আইসোলেটিং পৃথিবীতে আমরা কি কেউ সুস্থ আছি?

শেয়ার করুন

এমএ করিম ইবনে মছব্বির ॥
করোনাকালীন আইসোলেটিং পৃথিবীতে আমরা কেউ কি সুস্থ আছি? করোনা কালীন কোয়ারেনটাইন পৃথিবীতে আমরা কেউ কি সুস্থ আছি? নিশ্চয়ই এ প্রশ্নের উত্তর একমাত্র মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন ব্যতীত আর কেউ দেবার ক্ষমতা বা জ্ঞান কোন মানুষের নেই। করোনা ভাইরাস কালীন সময়ে মানুষের রক্ত পজিটিভ না নেগেটিভ টেষ্ট রিপোর্টের হতাশা তে দৈনন্দিন ঘুরপাক খাচ্ছে আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক জীবন।

করোনা ভাইরাস হোক বা না হোক আমরা সবাই করোনার রোগী হয়ে গেছি। আজ বা কারো করোনা টেষ্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আগামীকাল হয়তো বা পজিটিভ। অর্থাৎ রক্তের পজিটিভ নেগেটিভের বেড়াজালের রোগে আমরা কেউ না কেউ ভুগছি। ইতিমধ্যে দুনিয়ার বাজারে করোনা ভাইরাসের টিকা ও আসছে কিন্তু সেই করোনা ভাইরাসের টিকাটা ও আশা নিরাশার দোলাচলে দোল খাচ্ছে। অতীতে পজিটিভ যে বিষয় ছিলো হা সূচক অর্থাৎ গুডলাক। এখন না কি করোনা কালীন সময়ের টেষ্ট রিপোর্ট নেগেটিভ হলে হা সূচক গুডলাক। সবই যেনো উল্টা পাল্টা। করোনা ভাইরাস থেকে আমরা বাঁচার জন্য মহান আল্লাহর নিকট যে দোয়া পাঠ করি, সেটা হলো। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাছি, ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি ,ওয়া মিন ছাইয়িল আছকাম। অর্থাৎ হে আল্লাহ। আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ,কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ( আবু দাউদ, তিরমিজী) এখানে স্মরতব্ব দোয়ার একটা অংশ হলো যে মিনাল জুনুনি অর্থ পাগলামি থেকে পানাহ চাই।

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু ভয় ভীতি ও ক্ষুধা দিয়ে অভাব দিয়ে। আরো ও পরীক্ষা করবো সম্পদ, প্রাণ ও ফসলের ঘাটতি করে। এ সকল ক্ষেত্রে যারা ধৈর্য ধারণ করে আপনি তাদের সুসংবাদ প্রদান করুণ। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৫)

যারা মনে করে যে, নেক লোকদের কোন বিপদ নেই, আসলে তাদের সে ধারণা ভুল। বরং বিপদ, মুছিবত ই হচ্ছে ঈমানের পরিচয়। রাছুলে পাক সা, কে প্রশ্ন করা হলো কোন মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্থ হয়? রাসূল সা, উওর দিলেন, নবীগণ, তারপর নেককারগণ, তারপর তাদের নিকটবর্তী গণ। ধর্মের দৃঢ়তা অনুযায়ী মানুষ কে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ধর্মীয় দিক থেকে যদি সুদৃঢ় হয়, তবে তার বিপদ আপদ ও বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। তাঁর ধর্মীয় দিক যদি হালকা হয় তবে তার বিপদ আপদ ও হালকা ধরণের হয়। (ইবনে মাজাহ শরীফ)। বিপদ আপদ হচ্ছে বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার একটি অন্যতম আলামত।

রাছুল (সা.) বলেন, ওয়া ইন্নাল্লাহা ইযা আহাব্বা কাওমান ইবতালাহুম। অর্থাৎ আল্লাহ পাক যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে বিপদে আক্রান্ত করেন। (তিরমিজী )

এ ছাড়া বিপদাপদ হলো বান্দার প্রতি আল্লাহর কল্যাণের একটি পরিচয় । রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তখন গুনাহ করার পর ও তাকে শাস্তি প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন। অতঃপর সেই শাস্তি কিয়ামত দিবসে পুর্ণ রুপে দান করেন। (তিরমিজী)
বিপদ মছিবত সামান্য হলে ও তা গুনাহ মাফ হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। নবী করিম সা. এরশাদ করেন যে, কোন মুসলমান যদি কাঁটা দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা তাঁর চেয়ে কোন বড় বিপদ পড়ে তবে এমনভাবে আল্লাহ তা দ্বারা পাপকে মোচন করেন, যেমন গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে। (বুখারী ও মুসলিম)

মহান আল্লাহ পাক করোনা ভাইরাস কালীন সময়ে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধারণসহ ঈমানের উপর মুজবত থাকার তাওফিক দান করুন। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলের সহায় হোন। আমিন।

>