বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > অর্থ-বাণিজ্য > আট কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান

আট কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আট কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিমায়িত খাদ্য চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। খুলনাঞ্চলের ৫৬টি চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সকল চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভালভাবে চলছে মাত্র ১৫টি প্রতিষ্ঠান বাকিগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। চিংড়িতে নাইট্রোফোরান ইস্যু ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দেয়া সার্টিফিকেট টেম্পারিং করা, পুশ করে দাম বাড়ানো, ইউরোপের বাজারে ক্রয় মতা কমে যাওয়া, কম দামে মাছ বিক্রি, উৎপাদন কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায় এ নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস খুলনায় ‘পরিবেশবান্ধব চিংড়ি নীতি ও চিংড়ি সেক্টরের উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় চিংড়িতে পুশসহ নাইট্রোফোরান ইস্যুতে কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। বন্ধ হয়ে যাওয় চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- কসমস সি ফুডস লি:, এফিশ কোম্পানি লি:, এশিয়ান সী ফুড, ডেলটা ফিশ লি:, সিগমা সী ফুড লি:, এনাম সী ফুড লি:, এ্যাপেক্স ফুডস লি:, বাংলাদেশ সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, চালনা মেরিন প্রডাকটস লি:, হাজী এ মালেক আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লি:, বায়োনিক ফিশ প্রসেসিং লি:, এ্যাকুয়া রিসোর্স লি:, এইচ আর সী ফুড লি:, কোয়ালিটি শিমস এক্সপোর্ট প্রা:লি:, মোস্তফা অর্গানিক ও শ্রিমস প্রডাকট লি: সহ ২৩টি চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, রপ্তানি হওয়ার পর বিদেশে নাইট্রোফোরান ধরা পড়ার কারণে গত ৬ মাসে প্রায় ৩০ কনটেইনার চিংড়ি ফেরত এসেছে। ৬টি কোম্পানির এ চিংড়ির মূল্য কমপে ৪০ কোটি টাকা। এজন্য কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন অংকের জরিমানা ও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ালিটি কন্ট্রোলের সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় ৩টি কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত রাখা হয়েছে। চিংড়িতে নাইট্রোফোরান ইস্যু ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দেয়া সার্টিফিকেট টেম্পারিংয়ের দায়ে রপ্তানিকারক প্রষ্ঠানকে বর্তমানে জরিমানা ও লাইসেন্স স্থগিত করা হচ্ছে। কিন্তু চিংড়ি রপ্তানিকারকরা এজন্য সরাসরি মৎস্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের নতুন অর্ডিন্যান্সকে দায়ী করছেন। তারা অবিলম্বে অর্ডিন্যান্সের সংশোধন এনে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে চিংড়ি শিল্পকে রার দাবি জানিয়েছেন। চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্ত বলেন, এ ব্যাপারে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করে গুরুতর শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এতে বিপুল সংখ্যক লোক বেকার হচ্ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে তিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র। এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করে প্রথমবারের জন্য ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয়বারের জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং তৃতীয়বার একই অপরাধ করলে লাইসেন্স স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নীতি-নির্ধারক জানান, চিংড়িতে নাইট্রোফোরানের উপস্থিতি এবং তা ধরতে না পারার জন্য মৎস্য বিভাগ ও চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগই মূলত দায়ী। নিম্নমানের ও অ্যান্টি-বায়োটিকযুক্ত খাবার ব্যবহার করে খামারিরা চিংড়ি উৎপাদন করার কারণে নাইট্রো-ফোরান ধরা পড়ছে। এসব দেখাশোনা ও বন্ধ করার দায়িত্ব মৎস্য বিভাগের। রপ্তানিযোগ্য চিংড়িতে নাইট্রোফোরান আছে কিনা তা পরীার দায়িত্ব চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দায়ী না থাকলেও যারা দায়ী সেই মৎস্য বিভাগ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বিচারকের ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানায়, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থেকে চিংড়ি সার্টিফিকেট পেতে কমপে ২০ দিন, সর্বোচ্চ ৩৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ রপ্তানি অর্ডার পাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই চিংড়ি বিদেশে পাঠাতে হয়। এতে কোম্পানিগুলো চরম হয়রানির শিকার হয়। এছাড়া ক্রেতারা একই তারিখের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট জমা দেয়াসহ নানা শর্ত দেয়। যা পূরণের জন্য তারিখসহ কয়েকটি পয়েন্ট হয়তো টেম্পারিং করা হতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই পুরো সার্টিফিকেট কেউ জালিয়াতি করে না। মূলত সার্টিফিকেট সম্পৃক্ত জটিলতা সৃষ্টির জন্য মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ দায়ী। তাদের পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই। এজন্য তারা তাদের দায়ভার এড়ানোর জন্য উল্টো কোম্পানিগুলোকে কঠোর শাস্তি দিচ্ছে। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস খুলনায় ‘পরিবেশবান্ধব চিংড়ি নীতি ও চিংড়ি সেক্টরের উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় চিংড়িতে পুশসহ নাইট্রোফোরান ইস্যুতে কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন এবং এ ব্যাপারে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। ওই সময় চিংড়ি রপ্তানিকারকরা ুব্ধ হলেও কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি মন্ত্রী । এর আগে খুলনা শ্রিম্প টাওয়ারে কোম্পানি মালিকদের সংবর্ধনা গ্রহণকালে মন্ত্রী বলেন, বুঝে-শুনে-জেনে সবকিছু করবেন। ওই অনুষ্ঠানে খুলনার সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক লাইসেন্স স্থগিত হওয়া কোম্পানি চালু করার জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সূত্র আরও জানায়, রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি বিশ্ব বাজারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কেও নীতি-নির্ধারকদের ধারণা ও উপলব্ধি না থাকায় সমস্যা আরও বাড়ছে। মৎস্য মন্ত্রী খুলনায় দু’বার সফরে এলেও এর জন্য করণীয় কি তা নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে একটিবারও কথা বলেননি। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি খলিলুল্লাহ বলেন, ইউরোপের বাজারে ক্রয়মতা কমে যাওয়া, কম দামে মাছ বিক্রি, উৎপাদন কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায়সহ কয়েকটি কারণে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি বলেন, নাইট্রোফোরান ইস্যুতে মৎস্য বিভাগ মাছ কোম্পানির ঘাড়ে জরিমানার যে বোঝা চাপায় তা এক ধরনের অত্যাচার। তিনি বলেন, নাইট্রোফোরান পরীার জন্য সরকার দীর্ঘদিনেও একটি মেশিন কিনতে পারেনি। মেশিনের দাম সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তা কিনে দিয়েছে সরকারকে। এখন যত দ্রত সম্ভব খুলনা ও চট্টগ্রামে দুটি নাইট্রোফোরান পরীার ল্যাব করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। পরীার ল্যাব দুই বিভাগে বসালে নাইট্রোফোরান পরীার সার্টিফিকেট পাওয়া আরও সহজ হবে। সার্টিফিকেট টেম্পারিংয়ের ঘটনা বন্ধ হবে। তবে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও ভাল করছে যেসব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তার মধ্যে রয়েছে এটলাস সী ফুড লি:, ব্রাইট সী ফুডলি:, ফ্রেস ফুডর লি:, ফ্রেজেন ফুড লি:, জেমিনি সী ফুড লি:, ইন্টারন্যাসনাল শ্রিমস এক্সপোর্ট লি:, জহানাবাদ সী ফুড লি:, জালালাবাদ ফ্রজেন ফুড লি:, লকপুর ফিশ প্রসেসিং কোম্পানি লি:, মডার্ন সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, ন্যাশনাল সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, অর্গানিক শ্রিমস এক্সপোর্ট লি:, রুপসা ফিশ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, সালাম সী ফুড, সী ফ্রেস লি:, সাউদার্ন ফুডস লি: ও এস্টার সী ফুড লি.। বিএফএফইএ’র তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। এ ছাড়া বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, রাশিয়া, সৌদি আরব, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে।

আট কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আট কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিমায়িত খাদ্য চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। খুলনাঞ্চলের ৫৬টি চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সকল চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভালভাবে চলছে মাত্র ১৫টি প্রতিষ্ঠান বাকিগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। চিংড়িতে নাইট্রোফোরান ইস্যু ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দেয়া সার্টিফিকেট টেম্পারিং করা, পুশ করে দাম বাড়ানো, ইউরোপের বাজারে ক্রয় মতা কমে যাওয়া, কম দামে মাছ বিক্রি, উৎপাদন কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায় এ নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস খুলনায় ‘পরিবেশবান্ধব চিংড়ি নীতি ও চিংড়ি সেক্টরের উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় চিংড়িতে পুশসহ নাইট্রোফোরান ইস্যুতে কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। বন্ধ হয়ে যাওয় চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- কসমস সি ফুডস লি:, এফিশ কোম্পানি লি:, এশিয়ান সী ফুড, ডেলটা ফিশ লি:, সিগমা সী ফুড লি:, এনাম সী ফুড লি:, এ্যাপেক্স ফুডস লি:, বাংলাদেশ সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, চালনা মেরিন প্রডাকটস লি:, হাজী এ মালেক আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লি:, বায়োনিক ফিশ প্রসেসিং লি:, এ্যাকুয়া রিসোর্স লি:, এইচ আর সী ফুড লি:, কোয়ালিটি শিমস এক্সপোর্ট প্রা:লি:, মোস্তফা অর্গানিক ও শ্রিমস প্রডাকট লি: সহ ২৩টি চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, রপ্তানি হওয়ার পর বিদেশে নাইট্রোফোরান ধরা পড়ার কারণে গত ৬ মাসে প্রায় ৩০ কনটেইনার চিংড়ি ফেরত এসেছে। ৬টি কোম্পানির এ চিংড়ির মূল্য কমপে ৪০ কোটি টাকা। এজন্য কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন অংকের জরিমানা ও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ালিটি কন্ট্রোলের সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় ৩টি কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত রাখা হয়েছে। চিংড়িতে নাইট্রোফোরান ইস্যু ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দেয়া সার্টিফিকেট টেম্পারিংয়ের দায়ে রপ্তানিকারক প্রষ্ঠানকে বর্তমানে জরিমানা ও লাইসেন্স স্থগিত করা হচ্ছে। কিন্তু চিংড়ি রপ্তানিকারকরা এজন্য সরাসরি মৎস্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের নতুন অর্ডিন্যান্সকে দায়ী করছেন। তারা অবিলম্বে অর্ডিন্যান্সের সংশোধন এনে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে চিংড়ি শিল্পকে রার দাবি জানিয়েছেন। চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্ত বলেন, এ ব্যাপারে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করে গুরুতর শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এতে বিপুল সংখ্যক লোক বেকার হচ্ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে তিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র। এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করে প্রথমবারের জন্য ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয়বারের জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং তৃতীয়বার একই অপরাধ করলে লাইসেন্স স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নীতি-নির্ধারক জানান, চিংড়িতে নাইট্রোফোরানের উপস্থিতি এবং তা ধরতে না পারার জন্য মৎস্য বিভাগ ও চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগই মূলত দায়ী। নিম্নমানের ও অ্যান্টি-বায়োটিকযুক্ত খাবার ব্যবহার করে খামারিরা চিংড়ি উৎপাদন করার কারণে নাইট্রো-ফোরান ধরা পড়ছে। এসব দেখাশোনা ও বন্ধ করার দায়িত্ব মৎস্য বিভাগের। রপ্তানিযোগ্য চিংড়িতে নাইট্রোফোরান আছে কিনা তা পরীার দায়িত্ব চিংড়ি মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দায়ী না থাকলেও যারা দায়ী সেই মৎস্য বিভাগ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বিচারকের ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানায়, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থেকে চিংড়ি সার্টিফিকেট পেতে কমপে ২০ দিন, সর্বোচ্চ ৩৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ রপ্তানি অর্ডার পাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই চিংড়ি বিদেশে পাঠাতে হয়। এতে কোম্পানিগুলো চরম হয়রানির শিকার হয়। এছাড়া ক্রেতারা একই তারিখের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট জমা দেয়াসহ নানা শর্ত দেয়। যা পূরণের জন্য তারিখসহ কয়েকটি পয়েন্ট হয়তো টেম্পারিং করা হতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই পুরো সার্টিফিকেট কেউ জালিয়াতি করে না। মূলত সার্টিফিকেট সম্পৃক্ত জটিলতা সৃষ্টির জন্য মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ দায়ী। তাদের পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই। এজন্য তারা তাদের দায়ভার এড়ানোর জন্য উল্টো কোম্পানিগুলোকে কঠোর শাস্তি দিচ্ছে। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস খুলনায় ‘পরিবেশবান্ধব চিংড়ি নীতি ও চিংড়ি সেক্টরের উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় চিংড়িতে পুশসহ নাইট্রোফোরান ইস্যুতে কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন এবং এ ব্যাপারে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। ওই সময় চিংড়ি রপ্তানিকারকরা ুব্ধ হলেও কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি মন্ত্রী । এর আগে খুলনা শ্রিম্প টাওয়ারে কোম্পানি মালিকদের সংবর্ধনা গ্রহণকালে মন্ত্রী বলেন, বুঝে-শুনে-জেনে সবকিছু করবেন। ওই অনুষ্ঠানে খুলনার সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক লাইসেন্স স্থগিত হওয়া কোম্পানি চালু করার জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সূত্র আরও জানায়, রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি বিশ্ব বাজারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কেও নীতি-নির্ধারকদের ধারণা ও উপলব্ধি না থাকায় সমস্যা আরও বাড়ছে। মৎস্য মন্ত্রী খুলনায় দু’বার সফরে এলেও এর জন্য করণীয় কি তা নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে একটিবারও কথা বলেননি। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি খলিলুল্লাহ বলেন, ইউরোপের বাজারে ক্রয়মতা কমে যাওয়া, কম দামে মাছ বিক্রি, উৎপাদন কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায়সহ কয়েকটি কারণে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি বলেন, নাইট্রোফোরান ইস্যুতে মৎস্য বিভাগ মাছ কোম্পানির ঘাড়ে জরিমানার যে বোঝা চাপায় তা এক ধরনের অত্যাচার। তিনি বলেন, নাইট্রোফোরান পরীার জন্য সরকার দীর্ঘদিনেও একটি মেশিন কিনতে পারেনি। মেশিনের দাম সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তা কিনে দিয়েছে সরকারকে। এখন যত দ্রত সম্ভব খুলনা ও চট্টগ্রামে দুটি নাইট্রোফোরান পরীার ল্যাব করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। পরীার ল্যাব দুই বিভাগে বসালে নাইট্রোফোরান পরীার সার্টিফিকেট পাওয়া আরও সহজ হবে। সার্টিফিকেট টেম্পারিংয়ের ঘটনা বন্ধ হবে। তবে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও ভাল করছে যেসব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তার মধ্যে রয়েছে এটলাস সী ফুড লি:, ব্রাইট সী ফুডলি:, ফ্রেস ফুডর লি:, ফ্রেজেন ফুড লি:, জেমিনি সী ফুড লি:, ইন্টারন্যাসনাল শ্রিমস এক্সপোর্ট লি:, জহানাবাদ সী ফুড লি:, জালালাবাদ ফ্রজেন ফুড লি:, লকপুর ফিশ প্রসেসিং কোম্পানি লি:, মডার্ন সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, ন্যাশনাল সী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, অর্গানিক শ্রিমস এক্সপোর্ট লি:, রুপসা ফিশ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, সালাম সী ফুড, সী ফ্রেস লি:, সাউদার্ন ফুডস লি: ও এস্টার সী ফুড লি.। বিএফএফইএ’র তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। এ ছাড়া বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, রাশিয়া, সৌদি আরব, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে।

>