বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > আদিল গ্রেপ্তারে বিব্রত পেশাদার কূটনীতিকরা

আদিল গ্রেপ্তারে বিব্রত পেশাদার কূটনীতিকরা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘অধিকার’ সম্পাদক আদিলুর রহমান খানের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে তাতে বিব্রত পেশাদার কূটনীতিকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ কাজকে ‘ইল-এডভাইস’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। কোন রকম রাখ-ঢাক না করে মহাজোট সরকারের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, সরকারের শেষ সময়ে ‘মানবাধিকার’-এর ওপর এমন দৃশ্যমান আঘাত ‘সঠিক হয়নি’। এজন্য জেনেভা, ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস, লন্ডন, হামবুর্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান ও ফোরামে বাংলাদেশকে জবাবদিহি করতে হবে। কেবল মানবাধিকার সংগঠন, সংগঠক-ই নয়, এর সঙ্গে একজন সম্পাদকের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়াবলি দেখভাল করেন এমন কর্মকর্তারা তো বটেই ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা এমনকি পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে কাজ করেন এমন কূটনীতিরাও এ ইস্যুতে বিব্রত-বিরক্ত। তাদের মতে, সরকারকে বিব্রত করতে ভেতরে থেকে কোন পক্ষ এ নেতিবাচক কাজগুলো করছে। গতকাল দিনভর পররাষ্ট্র দপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাদার কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপে এ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কূটনীতিকদের আলাপের বড় অংশ জুড়ে ছিল মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ প্রসঙ্গ। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মধ্য দিয়ে সরকার কি অর্জন করতে চায়, কার জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি কতটা বাড়বে, চূড়ান্ত বিচারে কে জয়ী হবে, সরকার না মানবাধিকার ইত্যাদি। প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে ভিন্ন মত দমনে সরকারের বিগত দিনের বিভিন্ন অ্যাকশনের বিষয়ও। এক কূটনীতিক বললেন, অনেক দিন হয়ে গেছে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার জেলজীবন নিয়ে খুব একটা রিপোর্ট দেখা যায় না। কিন্তু বিদেশীরা এটা ভোলেননি। প্রায় প্রতিনিয়ত কোন না কোন রাষ্ট্র বা সংস্থা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা জানতে চায়, কেন তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে? তার নিয়ন্ত্রণাধীন পত্রিকার ছাপাখানা বন্ধ কেন? আমার দেশ ছাপার সুযোগ আদৌ সরকার দেবে কিনা? দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কূটনীতিক বেশ বিরক্তি নিয়ে বলেন, এক মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে কোয়ারি শেষ হচ্ছে না, এর মধ্যে আরেক রহমান (আদিলুর রহমান) এসে গেছে! আদিলুর রহমানের যেন কোন ক্ষতি না হয় এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং তার প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার সংবেদনশীল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের জোটগুলো তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। ১০ই জুলাই তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিবৃতি, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কিংবা মিশনগুলোর মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে এ তাগিদ দেয়া হচ্ছে। গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের তরফে উদ্বেগ জানিয়ে পাঠানো চিঠি পররাষ্ট্র দপ্তরে পৌঁছেছে। এর আগে ইইউ জোটভুক্ত অনেক রাষ্ট্র আলাদাভাবে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ঢাকাস্থ দূতাবাস দফায় দফায় আটক মানবাধিকারকর্মীর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ব্যাখ্যা চেয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। সংস্থা দু’টির বিবৃতিতে এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে চাপ দেয়ার জন্য দাতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। আদালত তার রিমান্ড স্থগিত করেছে। এখন মুক্তির অপেক্ষা। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় দেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা কভার করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘এইড মেমোয়ের’ পাঠানো হয়েছে। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত যেমন উল্লেখ করা হয়েছে তেমনি মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে আরও কিছু উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী-সচিব ঢাকায় ফিরলে উদ্যোগগুলো দৃশ্যমান হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা।

>