শনিবার , ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ , ২রা মাঘ, ১৪২৭ , ২রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > শীর্ষ খবর > ‘আধুনিকায়ন হলেই পাটকলগুলো লাভজনক করা সম্ভব’

‘আধুনিকায়ন হলেই পাটকলগুলো লাভজনক করা সম্ভব’

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
‘গত পাঁচ দশকে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে কোনো বিনিয়োগ হয়নি। অর্থের সঙ্কট নয় বরং সদিচ্ছার অভাবেই পাটশিল্পের কারখানাগুলো লোকসানের মুখ দেখছে। যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নিলেই লোকসানি পাটকলগুলোকে লাভজনক করা সম্ভব’ বলে মত দিয়েছে ‘সর্বজন কথা’ নামের একটি সংগঠন।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পাটকল-চিনিকল বিষয়ে সরেজমিন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মতামত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, চলতি বছরের ২ জুলাই ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে দেয় সরকার। করোনার সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন বিপুল প্রণোদনার মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে তখন বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমান জমিসহ পাটকলগুলো বেসরকারিকরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। খুলনার খালিশপুরসহ দেশের বিভিন্ন মিল এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই তাদের উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাওনা পরিশোধ না করে কোনোভাবেই শ্রমিককে তার বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করার কথা নয়। কিন্তু এই কাজ করে সরকার নিজেই শ্রম আইন লঙ্ঘন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধের কারণ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরের মধ্যে ৪৪ বছরই লোকসান হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রতিষ্ঠার পর থেকে বা গত পাঁচ দশকে পাটকলগুলোতে নতুন কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি। যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। লোকসান ঠেকাতে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হলেও শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই লোকসানি মিলগুলোকে লাভজনক করা সম্ভব ছিল।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সবমিলিয়ে মাত্র ১০০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করলেই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা অনেকগুন বৃদ্ধি পেত এবং প্রতি ইউনিটে উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসতো। কিন্তু আমরা দেখলাম এতো বছরেও এই বহুল আলোচিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পাটকল ও চিনিকল রক্ষার্থে সকল শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, মিলগুলো অবিলম্বে খুলে দিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও লোকসান কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।

>