শনিবার , ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > শিক্ষাঙ্গন > আন্দোলনে দ্বিধাবিভক্ত জাবি শিকরা

আন্দোলনে দ্বিধাবিভক্ত জাবি শিকরা

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে শিক সমিতির প্রসাশনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচির এক মাস অতিক্রান্ত হলেও সঙ্কট সমাধানে কোনো আশার আলো দেখছে না বিশ্ববিদ্যালয় শিক ও শিার্থীরা। সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগও নিচ্ছে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল।

জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের হাতে এক শিক লাঞ্ছিত হন। কিন্তু ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের যথাযথ বিচার না হওয়ায় ২০ এপ্রিল থেকে কাস বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক সমিতি। পরে শিার্থীদের কথা বিবেচনা করে কাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ১৯ জুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে।

একই সঙ্গে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ তুলে পদত্যাগের এক দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের কর্মসূচি দেয় শিক সমিতি। শিকদের অবরোধের কারণে মাস্টার্সের শিার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম আটকে পড়ে। এছাড়াও আটকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম। অনেক বিভাগে ফলাফল প্রকাশিত হচ্ছে না উপাচার্য স্বারের কারণে। ৮ মাসেও ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে বিােভ মিছিল করেছে নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিার্থীরা। সিনেট অধিবেশন না হতে পারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট পাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারছে না প্রশাসন।

এদিকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে শিক সমিতির নেতারাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সাম্প্রতি শিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ৪ সদস্য (প্রফেসর ড. মো. আব্দুলাহ খান, প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলাম, মো. ফজলুল করিম পাটোয়ারী, ড. কেএম মহিউদ্দিন) দাবি করেছেন, দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত হয়ে শিকদের অধিকার ও স্বার্থ রা এবং পেশাগত মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করার েেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক সমিতি দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সমিতির নামে বিশেষ ব্যক্তি বা গ্রুপের অস্পষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের প্রচেষ্টা আমাদের মর্মাহত করেছে। তবে তারা শিক লাঞ্ছনার বিচার না হওয়া ও তদন্ত কাজে শ্লথগতির বিষয়ে ােভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শিকদের মর্যাদা ও মতামতকে ুণ্ন করে উপাচার্যের বক্তব্য বা মন্তব্য প্রদানে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে উপাচার্য ও শিক সমিতির সমালোচনা করে নিরপে অবস্থানে রয়েছেন ১৭ শিক নিয়ে গঠিত ‘শিক মঞ্চ’ নামে বামপন্থী শিকরা। তারা শিক সমিতির আন্দোলনকে অনৈতিক দাবি করছেন এবং উপাচার্যকে তার বেফাস মন্তব্য ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য্য ধ্বংস থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে কোনো ব্যক্তি ভুল করলেই সঙ্গে সঙ্গে তার পদত্যাগ চাওয়া ঠিক নয়। তাকে সময় দেয়া উচিৎ। এজন্য তারা উপাচার্য সোধরাবার জন্য শিক সমিতিকে তিন মাস দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থীদের বড় সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক সমাজ’ স্বয়ং উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থা নেয়ায় কোণঠাসা ও বিব্রত হয়ে পড়েছেন অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন। কটুক্তি ও তাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আওয়ামীপন্থী শিকরা। পরবর্তীতে আওয়ামীপন্থী সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির ও তার গ্রুপের প্রভাবশালী শিকরা উপাচার্য পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামে। আর চলমান এ শিক সমিতির আন্দোলনের পালে বাতাস দিচ্ছেন বিএনপিপন্থী শিকরাও।

অপরদিকে আন্দোলনকারী শিকদের বিরুদ্ধে উপাচার্যপন্থী ২১ শিকের একটি গ্রুপ কাজ করছে বলে জানা গেছে। আর এ গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইংরেজি বিভাগের শিক অধ্যাপক আহমেদ রেজা।

উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘শিক সমিতির সব যৌক্তিক দাবি মানা হয়েছে সুতরাং তাদের আন্দোলন করা অযৌক্তিক।’

এ গ্রুপের অন্যান্য নেতারা দাবি করেছেন, নির্বাচিত একজন উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও অশোভন। তারা এ ধরনের আন্দোলনের তীব্র বিরোধীতা করছেন।

তবে যার বিরুদ্ধে এতোসব অভিযোগ এবং যাকে নিয়ে শিকদের মধ্যে গ্রুপিং সেই উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, ‘সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বরাবর শিক সমিতিকে আলোচনায় বসার জন্য চিঠির মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমি এখনো আশা করি, তারা আলোচনায় বসে সব সমস্যার সামধান করবে।’

এদিকে চলমান সঙ্কট নিরসনে সরকারি হস্তপে কামনা করছে শিক সমিতি। তারা ইতোমধ্যে উপাচার্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেটকে চিঠির মাধ্যমে জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার শিক সমিতির আনিত সব অভিযোগ রাষ্ট্রপতিকে খতিয়ে দেখার আহ্বানও জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনরত সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘উপাচার্য স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিকদের এ আন্দোলন। তার একগুঁয়েমির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির বিরাজ করছে।’

শিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম বলেন, ‘ক্যাম্পাস ছুটি হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। তবে ঈদের পর উপাচার্য পদত্যাগ দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’

>