বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > আলোচনায় বসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

আলোচনায় বসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

শেয়ার করুন

খুলনা প্রতিনিধি ॥ বাণিজ্য ও দ্রব্যমূল্যের সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলো নিয়ে আলোচনায় বসলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আনোয়ারুল কাদির।

শনিবার খুলনায় অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের তেত্রিশতম পর্বে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারো যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণের জন্যে কি সরকারের কঠোর হওয়া উচিত? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নগরীর বয়রায় খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুন অর রশিদ, খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, শিক্ষাবিদ আনোয়ারুল কাদির এবং খুলনা ভিত্তিক দৈনিক পত্রিকা দৈনিক পূর্বাঞ্চলের ম্যানেজিং এডিটর ফেরদৌসি আলী।

মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেন, “সরকার আসলে আমদানিকারক বা ভোক্তা কাদের পক্ষে যাচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। কঠোর হওয়ার সময় এখনই। সরকারের পৃষ্ঠপোষকাতেই একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যারা এ দ্রব্যমূল্য বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। মনে রাখতে হবে, এবারের রমজান এ সরকারের শেষ রমজান।”

ফেরদৌসি আলী বলেন, “আমাদের জাতীয় ঐক্য নেই। সরকারের আসলে সবার সাথে বসে এটা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।”

হারুন অর রশীদ বলেন, “এ সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলেরও পার্লামেন্টে এসে আলোচনায় বসে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত সব সিন্ডিকেট এবং অসৎ ব্যক্তিদের।”

দর্শকের প্রথম প্রশ্ন-যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেওয়া বাজার সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কি অর্থনীতির জন্যে বড় একটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে?

উত্তরে মো. মনিরুজ্জামান মনি বলেন, “এমন একটা সিদ্ধান্ত আসবে, আগেই সিগনাল পাওয়া যাচ্ছিল। তাই সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটা সিদ্ধান্তের কারণে কানাডা বা ব্রিটেনের মতো দেশও সরে যেতে পারে। এটা সরকারেরই ব্যর্থতা।”

ফেরদৌসি আলী বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ সুবিধা বন্ধ করলেও বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজীনা বলেছেন, আবারও বাংলাদেশ এ সুবিধা ফিরে পেতে পারে। খুব একটা অসুবিধা না হলেও, এর প্রভাব ব্রিটেন বা কানাডার সিদ্ধান্তের উপর পড়তে পারে।”

তৃতীয় প্রশ্ন ছিল এক সময় খুলনার পরিচিতি ছিল শিল্পনগরী হিসেবে। খুলনাকে আবারো শিল্প-কারখানার নগরীতে পরিণত করতে হলে কি করা প্রয়োজন?

উত্তরে ফেরদৌসি আলি বলেন, “খুলনাকে আবারও শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবারই একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।”

আনোয়ারুল কাদির বলেন, “বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই এ ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই আসলে উদ্যোগ নেয়নি এ বন্দরের উন্নয়নে।”

হারুন অর রশীদ বলেন, এ সরকার আসার পর খালিশপুরের অনেকগুলো কলকারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। মংলা বন্দরের উন্নয়নের কাজ চলছে।”

মো. মনিরুজ্জামান মনি বলেন, “উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত রেল-সড়ক যোগাযোগ সব কিছু নিয়ে চট্টগ্রাম এগিয়ে গেছে। খুলনায় গ্যাস আনতে হবে।”

চতুর্থ প্রশ্ন ছিল সুন্দরবন সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের জন্যে ঝুঁকি থাকা স্বত্ত্বেও বিদ্যুতের স্বার্থে রামপালের কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ কি এগিয়ে নেওয়া যায়?

উত্তরে হারুন অর রশীদ বলেন, “এর ফলে পরিবেশ খুব একটা ঝুঁকিতে পড়বে না। এ বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন বাঞ্ছনীয়।”

বিবিসি বাংলা ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন যৌথভাবে এ বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ। উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় প্রতি রোববার রাত ৮টায় এবং পুন:প্রচারিত হয় মঙ্গলবার রাত ৮টায়।

এছাড়া চ্যানেল আইয়ে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে এবং পুন:প্রচারিত হয় প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৫টা এবং দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে।

>