মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > শীর্ষ খবর > ইমেজ উদ্ধারের চেষ্টা আওয়ামী লীগের

ইমেজ উদ্ধারের চেষ্টা আওয়ামী লীগের

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপার্টার ॥ দলের ভগ্ন ইমেজ উদ্ধার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের হারে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে রমজানের পর থেকে টানা সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনের
জন্য প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী প্রচারণা চলবে দলীয়ভাবে। দলীয় প্রচারণায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার সঙ্গে বিরোধী দলের অপপ্রচারেরও জবাব দেয়া হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, হেফাজতে ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছে এসবের জবাবও দেয়া হবে দলীয় প্রচার-প্রচারণায়। দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, দলের ইমেজ উদ্ধার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলবে। এ কাজে সরাসরি তত্ত্বাবধান করবেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে তিনি ইতিমধ্যে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারের শরিক ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শিগগির বৈঠক করবেন। এছাড়া সমমনা রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও তার বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ কার্যক্রম শেষ হলে উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকেও নির্বাচন প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকের পর দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ঈদের পর আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামবে। তিনি জানান, সরকারের সাফল্যগুলো জনসমে তুলে ধরতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। নির্বাচন প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম জানান, ইতিমধ্যে নির্বাচনী কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমরা নানাভাবে কাজ করছি। বিরোধী দল বলছে তত্ত্বাবধায়ক না দিলে তারা নির্বাচনে যাবেন না। আর এটি করলে আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের বক্তব্য হলো যথাসময়ে নির্বাচন হবে। তারা যদি নির্বাচনে অংশ না নেন তাহলে তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবেন। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নিজেই তদারক করছেন। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেছেন। দলীয়ভাবেও প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নাসিম জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা পর্যায়ে কর্মসূচিও হাতে নেয়া হয়েছে। দলকে নির্বাচনমুখী করতে আওয়ামী লীগের ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ঈদের পর আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর ও বর্ধিত সভা করার পরিকল্পনা আছে। এসব সফরে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা যোগ দেবেন। মন্ত্রী-এমপিদের  সঙ্গে কর্মীদের এবং দলের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমানোর বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত বাছাইপর্ব শেষ করে মনোনীতদের মাঠে কাজ করার গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হবে। দল মনোনীত প্রার্থীরা যাতে আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে পারেন এজন্য আগাম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিগত সময়ে যেসব সংসদ সদস্য তৃণমূলে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি বা তারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলছেন সব দিক বিবেচনায় তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের বিষয়েও ভেবেচিন্তে মনোনয়ন দেয়া হবে। এদিকে গত চার বছরে যেসব কারণে দলের ইমেজ ুণ্ন হয়েছে এই বিষয়গুলোও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে দলের তরফে। এেেত্র সিনিয়র নেতাদের দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে অংশ নেয়া এবং দলীয় সভা-সমাবেশে এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা ও প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ ল্েয কয়েকজন সিনিয়র নেতা ইতিমধ্যে রাজনৈতিক সফর শুরু করেছেন। অনেক নেতা তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে সাংগঠনিক কাজ করছেন। পদ্মা সেতু, ড. ইউনূস প্রসঙ্গেও জনসমে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরা হবে। সর্বশেষ পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের পর অনেকটা মনোবল ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। তারা আগামী নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও শঙ্কিত। নেতাকর্মীদের এই হতাশা কাটিয়ে তুলতে দলের প থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় ও জাতীয় সরকার নির্বাচন এক নয়। যেসব কারণে এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে সামনে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এেেত্র সরকারের সাফল্যগুলো তুলে ধরতে হবে। নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান সংবিধানের আলোকেই জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে বিরোধী দল ও অংশ নেবে। এেেত্র নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা হতে পারে। এদিকে নির্বাচনে মহাজোটের শরিকদের নিয়েই নির্বাচন করার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ। কারণে শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিগগিরই নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাজোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন। এই দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান হতাশা ও ােভ কাটানোর চেষ্টা করা হবে বলে সূত্র দাবি করেছে।  জোটের শরিকরা এতদিন সরকারের কড়া সমালোচনা করলেও পাঁচ সিটির নির্বাচনের পর তারা এখন আওয়ামী লীগের প্রতি অনেকটা নমনীয় হয়েছেন। শরিক দলের নেতারা নিজে থেকেই জোট সমপ্রসারণ ও ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। গতকাল মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংবাদ সম্মেলন করে মহাজোট সমপ্রসারণ ও ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, মহাজোট সরকার আবার মতায় না এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। দণ্ডপ্রাপ্তরা বেরিয়ে আসবে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো দণি এশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে।

>