রবিবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ইলিশের প্রতিশোধে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ!

ইলিশের প্রতিশোধে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ!

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ একবছর আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ সরকার। এবার ভারতীয় পিঁয়াজ আসা বন্ধ হতে চলেছে বাংলাদেশ। সোমবার ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ঢাকায় পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় বলে জানায় হিন্দুস্থান টাইমস। সম্প্রতি দু দেশেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এই ভোগ্যপণ্যটির দাম বেড়ে গেছে।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সদস্য পঙ্কজ রায় পত্রিকাটিকে বলেন, ‘বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানির কোন প্রশ্নই আসেনা। এখন দেশেই এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এর ওপর সরকার যখন এর ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।’

এসময় তিনি হিন্দুস্থান টাইমস প্রতিনিধিকে উল্টো প্রশ্ন করেন, কেন, ‘আপনারা কি ইলিশ অভিজ্ঞতার কথা ভুলে গেছেন?’

ইলিশ সমুদ্রের মাছ হলেও এটি ডিমপাড়ার সময় হলে ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে চলে আসে।। ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের এই সুস্বাদু মাছটির ব্যপক চাহিদা রয়েছে। আর সেটি যদি পদ্মার ইলিশ হয় তাহলে তো আর কথাই নেই! কিন্তু ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ৫শ গ্রাম থেকে এককিলো ওজনের একটি ইলিশের দাম নির্ধারণ করে ছয় ডলার। আর দেড় কেজির ওপরে হলে তার দাম দাঁড়ায় ১২ ডলার। এরপর গত বছর জুলাই মাসে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ। রমজানে মাছের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। আর ওই সিদ্ধান্তটি এখনও বলবৎ রয়েছে।

বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কৃষ্ণা ট্রেডার্সের কর্ণধার দেবাশিষ সাহা বলেন, ‘সরকার রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন আমাদের পক্ষে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। রপ্তানির জন্য পাঠানো ট্রাকবোঝাই পিঁয়াজ কয়েকটি স্থলবন্দরে আটকা পড়ে আছে। কয়েকদিনের ভিতর এগুলো পঁচে যাবে। এ কারণে রপ্তানিকারকরা এখন বাধ্য হয়ে দেশি বাজারেই পিয়াজ বিক্রি করছে। এর আগে আমরা প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টন পিঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এখন তা শতকরা পাঁচ ভাগে নেমে এসেছে।’

এ অবস্থায় ভারতীয় পিঁয়জের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ এখন মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আমদানি করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করতে ভারত সরকার এর রপ্তানি মূল্য ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ ডলার করেছে। ভারতের রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির ফলে এখন নতুন এলসিতে ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানি বন্ধের পথে।

>