সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ইলিশে উপচে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের হিমাগারগুলো

ইলিশে উপচে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের হিমাগারগুলো

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বেশি দামের জন্য দেশের বাজারে ইলিশ কিনতে গিয়ে কয়েকবার ভাবতে হয় সাধারণ মানুষকে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে দেদার পাচার হয়ে যাওয়ায় ইলিশের বাজারে এমন আগুন অবস্থা। অন্যদিকে পাচারের ইলিশে সয়লাব পশ্চিমবঙ্গের হাটবাজার। সরবরাহ বেশি হওয়ায় এখানে ইলিশ মিলছে অনেক কম দামে। পশ্চিমবঙ্গের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও হিমাগার মালিকরা ইলিশ কিনছে না। বাংলাদেশ থেকে অবাধে পাচার হয়ে যাওয়া শত শত টন ইলিশ ইতিমধ্যে ওই সব হিমাগারে মজুদ করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে ইলিশ রাখার এক ইঞ্চি জায়গাও অবশিষ্ট নেই। যে কারণে পাচার হওয়া ইলিশ মহাজনরা কিনছে না। এ অবস্থায় চোরাপথে যাওয়া ইলিশ আবার একইভাবে ফিরিয়েও আনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে বৈধভাবে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে ব্যাপক চাহিদা থাকায় নদী ও সাগর থেকেই ইলিশ পাচার হয়ে যাচ্ছে। বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার বিভিন্ন নদী থেকে ইলিশ ধরার পর জেলেরা সরাসরি তা ট্রলারযোগে সাগরপথে সুন্দরবনের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করছে। স্থল সীমান্তপথেও ইলিশ পাচার হচ্ছে।

সরেজমিনে খবর নিয়ে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, হাবড়া, মসলেন্দপুর; কলকাতার শিয়ালদাহ, হাওড়াসহ উড়িষ্যার পুরীর উপকূল এলাকা পর্যন্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মাছ সংরণের জন্য পাঁচ শতাধিক হিমাগার ক রয়েছে। প্রতিটি করে ধারণমতা ১০০ থেকে ২৫০ টন। গড়ে ১০০ টন ধারণমতা ধরলেও ওই সব হিমাগারে কমপে ৫০ হাজার টন বাংলাদেশের ইলিশ মজুদ রয়েছে। হিমাগারগুলোতে জায়গা না থাকলেও চোরাপথে ইলিশ ঠিকই ঢুকছে। এ অবস্থায় খুব কম দামে পশ্চিমবঙ্গের পাইকারি বাজারে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

কলকাতার বাজারে এক সপ্তাহ ধরে ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৭০ থেকে ৪০০ রুপি দরে। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১৫০ রুপি। এ প্রসঙ্গে মসলেন্দপুরের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী কালা চাঁদ বলেন, ‘গত রবিবার আমি ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছ কিনেছি প্রতি কেজি ২৭০ রুপিতে। কিছুদিন আগেও এই মাছ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫০০ রুপি দরে।’

বারাসাতের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ চন্দ পাল জানান, ‘চোরাপথে আসা বাংলাদেশের ইলিশে পশ্চিমবঙ্গের সব হিমাগার এখন পরিপূর্ণ। বেশি টাকা দিয়েও হিমাগার ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে আমরা ইলিশ কেনা বন্ধ রেখেছি।’

পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ থাকায় ইলিশ ধরার পর নৌপথেই তা ভারতে পাচার হয়ে আসছে। আগে যে পরিমাণ মাছ বৈধভাবে আমদানি হতো এখন প্রায় সেই পরিমাণ মাছই চোরাপথে আসছে।’

যশোরের একজন প্রতিষ্ঠিত পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘হিমাগারে জায়গা সংকটের কারণে আপাতত ভারতে মাছ পাচার বন্ধ রয়েছে। অনেকে ভারতে মাছ নিয়ে গিয়ে তা আবার ফিরিয়েও আনছে। ফলে দেশের বাজারে এখন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ৬০০ থেকে ৭০০, ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই মাছের দাম দ্বিগুণ ছিল।’

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক দণি-পশ্চিমাঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রবিউল ইবনে কামরুল ইলিশপাচারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘স্থল ও নৌপথে প্রতিনিয়ত ইলিশ পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে। গত সাত মাসে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত থেকে ছয় সহস্রাধিক কেজি ইলিশ পাচারের সময় জব্দ করা হয়েছে। পাচার রোধে নৌ ও স্থলসীমান্তে বিজিবিকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের রুপালি ইলিশ দেশের মানুষ খেতে পারবে না, তা হতে পারে না।

>