বৃহস্পতিবার , ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষার উন্নয়নে সূচিত হলো ঐতিহাসিক মাইলফলক। অবশেষে এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ইসলামপ্রিয় মানুষের ৭৮ বছর অপেক্ষার অবসান হলো। জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে বহুল প্রতিক্ষিত এফিলিয়েটিং (স্বতন্ত্র) ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন অনুমোদিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেকে মাদরাসা শিক্ষাধারার ফাজিল/স্নাতক ও কামিল/স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডিগ্রী প্রদান করা হবে। গতকাল (বুধবার) রাত ৯ টা ১৫ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিল-২০১৩’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। কোন ধরনের বিরোধিতা ছাড়াই বিলটি অনুমোদন করেন জাতীয় সংসদের সদস্যগণ। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বিলটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ আকারে জাতীয় সংসদে প্রেরণ করে। এখন থেকে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, ফাজিল/¯স্নাতক, কামিল/¯স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাক্রম/পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষাঙ্গনগুলোর তদারকি ও পরিবীক্ষণ এবং পরীক্ষা পরিচালনাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। বিল পাসের প্রক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দেশের আলেম সমাজের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিধান প্রণয়ন করছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আলেম সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং ইসলাম প্রিয় মানুষ এদেশে ইসলামী শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মাদরাসা শিক্ষকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন জমিয়াতুল মোদার্রেছীন বহু বছর যাবত মাদরাসা শিক্ষার জন্য পৃথক একটি এফিলিয়েটিং ক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মাদরাসা শিক্ষা আধুনিকায়নের ঘোষণা দেয়। শিক্ষানীতিতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে দ্রুত এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন। গত ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দ এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি এফিলিয়েটিং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত আলেম-ওলামাদের সাথে আলোচনার পর এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন প্রণয়ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। গত ৬ আগস্ট ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১২ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা কমিটি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গতকাল অবশেষে আলেম-ওলামাদের দীর্ঘ স্বপ্ন-সাধানার বাস্তাবায়ন হলো।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এদেশে ৭৮ বছর আগে আলেম-ওলামগণ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার, পাকিস্তান সরকার এমনকি বিগত দিনে বাংলাদেশের কোন সরকারও তাদের এই দাবি বাস্তাবায়ন করেনি। কিন্তু দুই বছর আগে এদেশের শীর্ষ আলেমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে কথা বলে তা গ্রহণ করে আইন প্রণয়ন করার কথা বলেন। আজ এই বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে ৭৮ বছর পর হলেও আলেম-ওলামাদের স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন থেকে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, ফাজিল-¯স্নাতক, কামিল/¯স্নাতককোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাক্রম/পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষাঙ্গনগুলোর তদারকি ও পরিবীক্ষণ এবং পরীক্ষা পরিচালনাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে কেবল মাদরাসা শিক্ষার জন্য পৃথক একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। যেটি হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনুমোদনকারী বা এ্যাফিলিয়েটিং ক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। স্বতন্ত্র ইসলামিক আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ফাজিল/স্নাতক ও কামিল/স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ডিগ্রি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া হবে। দেশে এ ধরনের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় এটাই প্রথম।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কাজ হবে ফাজিল এবং কামিল পর্যায়ের মাদরাসাগুলোর অনুমোদন দেয়া, অনুমোদন বাতিল করা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা গ্রহণ, ডিগ্রি প্রদান করা। তবে সরকারী কারিকুলাম অনুযায়ী না চলার কারণে দেশের কওমী মাদরাসাগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে না। দেশে কামিল এবং ফাজিল পর্যায়ের এক হাজার ৯শ’ মাদরাসা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো:

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ভিসি, একজন প্রো-ভিসি ও একজন ট্রেজারার থাকবেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সমান যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিই প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পদ হবেন ভিসি। বিলে বলা হয়, এই বিধান অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত স্থানে একটি পৃথক ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় এর উপযুক্ত বিবেচনায় দেশের অন্য যে কোন বিভাগীয় শহরে এর আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করতে পারবে। বিলে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার এবং সিন্ডিকেট ও একাডেমীক কাউন্সিলের সদস্য সমন্বয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে পরিগণিত হবে। বিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা, দায়িত্ব শিক্ষাদান, মঞ্জুরী কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মাদরাসা পরিদর্শক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র, অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিটি, অধিভুক্ত কমিটি, নির্বাচনী বোর্ডের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলীসহ সংশি¬ষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে। এছাড়া বিলে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল, বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব, পরিদর্শক ও পরিদর্শন, মাদরাসায় শিক্ষাদান এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার মধ্যে সহযোগিতা, মাদরাসা সংক্রান্ত সাধারণ বিধান, বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রম ভর্তি, পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন, প্রবিধান, শিক্ষার মাধ্যমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।

দীর্ঘ ৭৮ বছর আগে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ওঠে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। ব্রিটিশ যুগের অবসান হয়ে হয় পাকিস্তান। বাংলার শীর্ষ উলামা-মাশায়েখ পীর আওলিয়া ও ইসলামী শিক্ষাবিদদের বহু কাক্সিক্ষত এ বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৩ বছর অতীতের প্রতিটি সরকারের সামনে ছিল এ দাবি বাস্তবায়নের সুযোগ। কিন্তু ঐতিহাসিক এ বিষয়টির কৃতিত্ব তাদের ভাগে পড়েনি। এরই মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। যারা এ দাবি, তুলেছিলেন যৌক্তিকতা বর্ণনা করে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাদের সবাই প্রায় চলে গেছেন পরপারে। এ সৌভাগ্য লেখা ছিল সমসাময়িক নেতৃত্বের ললাটে। বর্তমান সরকার, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, সরকার ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা তাদের ইতিহাসের অংশ করে দিয়েছে। দেশের ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় অঙ্গনের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদের চলতি অধিবেশনে পাস হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অসামান্য

আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। গতকাল রাতে সংসদে যখন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ঐতিহাসিক এ বিলটি সংসদে তোলার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার জন্য স্পীকারের অনুমতি চাইছিলেন, তখন সংসদ সদস্যদের কৌতূহল ছিল স্পষ্ট। তারা ভাবছিলেন বিল উত্থাপনের আগে শিক্ষামন্ত্রী আবার কী বলতে চান। দীর্ঘ ৭৮ বছর আগের দাবিটি আগের বিভিন্ন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ না হলেও বর্তমান সরকার, বিশেষ করে প্রধামন্ত্রীর চোখে গুরুত্ব পাওয়া এ বিলের পেছনে তার আন্তরিকতা ছিল তার উপস্থাপনে স্পষ্ট। মূলত এটি ইসলামী অঙ্গনের শতাব্দী প্রাচীন স্বপ্নপূরণ।

টিভি পর্দায় বিল পাসের সংবাদটি প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে দেশের ইসলামী শিক্ষা ও জ্ঞান গবেষণার অঙ্গনে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। মাদরাসা শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা পরস্পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অভিভাবকদের মাঝে শুরু হয় মোবারকবাদের ধারা। দেশের প্রখ্যাত আলেমগণ তাৎক্ষণিক মন্তব্যে বলেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ হবে মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্র। আমরা আশা করব, বর্তমান সরকার এর কাজ দ্রুত শুরু করবে। বিলটি সংসদে পাস হওয়ার পরপরই দেশের শীর্ষ রাজনীতিক, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিক, শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, ওলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক মহল থেকে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীনকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো শুরু হয়। তিনিও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদের জবাব দিতে থাকেন। পাশাপাশি এ বিলের পেছনে যাদের অবদান ছিল তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন।

জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের অভিনন্দন

মহান জাতীয় সংসদে গতকাল ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হওয়ায় মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের একক ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শোকর আদায় করে এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রী, তার সরকার, শিক্ষামন্ত্রী, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পীর-মাশায়েখ, বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও ইসলামী জনতাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানায়।

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন, মহাসচিব মাওলানা সাব্বির আহমদ মোমতাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা কবি রুহুল আমীন খান প্রমুখ অভিনন্দন বার্তায় বলেন, এ দেশে একটি এফিলিয়েটিং ক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রায় শত বছরের। দেশের পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের একক, অরাজনৈতিক ও শতাব্দীর ঐতিহ্যধন্য সংগঠন জমিয়াতুল মোদার্রেছীন দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছিল। দেশের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও ইসলামী জনতা এ দাবির প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। ছারছীনার মরহুম পীর ছাহেব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ (রহ.), ফুলতলী ছাহেব কিবলা হযরত মাওলানা আবদুল লতিফ (রহ.), জমিয়াতের মরহুম সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হযরত মাওলানা আবদুল মান্নান (রহ.), হযরত মাওলানা আযীযুর রহমান কায়েদ ছাহেব হুজুর (রহ.)সহ

যে সকল পীর মাশায়েখ তাদের নিজ নিজ সংগঠন নিয়ে এ আন্দোলনে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাদের সবাইকে আমরা স্মরণ করছি। বহু আন্দোলন ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পরে অবশেষে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করেন এবং তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গতকাল মহান সংসদে এ বিলটি পাস হয়েছে। এ সংবাদে দেশে ইসলামী জনতার মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। আমরা এ ঐতিহাসিক দাবি কার্যকরী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, জাতীয় সংসদ সদস্য বৃন্দ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। অভিনন্দন জানাচ্ছি, দেশের সে সকল পীর মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী জনতাকে যারা এ আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যবান সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে আমাদের উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। আমরা জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দ ও মাদরাসার সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকেও জানাচ্ছি আন্তরিক মোবারকবাদ।

ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় বিল মহান জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার মধ্যদিয়ে ইসলামী তথা মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়নের এক নব দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এখন সরেজমিনে যাতে এর কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয় আমরা সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের আশু নেক দৃষ্টি কামনা করছি।

>