মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ইস্তাম্বুলকে কাঁদিয়ে টোকিওতে উল্লাস

ইস্তাম্বুলকে কাঁদিয়ে টোকিওতে উল্লাস

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ২০২০ অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও। সর্বোচ্চ ভোটে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও তুরস্কের ইস্তাম্বুলকে হারিয়ে বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে তারা। টোকিও’র নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে টোকিওসহ জাপানের সব জায়গায় মানুষ আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ২০১১ সালে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এ দ্বীপ দেশটির মানুষের জন্য অনেক বড় আনন্দের একটি উপলক্ষ এনে দিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে এ ক্রীড়া আসরের আয়োজক বেছে নিতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে শনিবার ভোটাভুটিতে যেতে হয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে, যার চূড়ান্ত রাউন্ডে তুরস্কের ইস্তাম্বুলকে ৬০-৩৬ ভোটে পেছনে ফেলে টোকিও। মাদ্রিদ বাদ পড়ে যায় প্রথম রাউন্ডেই। স্থানীয়ভাবে মাদ্রিদ সব দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও টোকিও সামগ্রিক উপস্থাপনায় এগিয়ে যায়। অলিম্পিক গেমস ২০১২ অনুষ্ঠিত হয়েছিল লন্ডনে। তবে তার আগেরবার ২০০৮-এ আয়োজক ছিল এশিয়ারই বেইজিং শহর।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান জ্যাক রগ, যিনি ১২ বছরের দায়িত্ব পালন শেষে মঙ্গলবার অবসরে যাবেন- বিজয়ী শহরের নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই টোকিও’র প্রতিনিধিরা আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন এবং জাপানের পতাকা নেড়ে সবাইকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। দুই বছরের অব্যাহত প্রচেষ্টার এ অর্জনের আনন্দে অনেকের চোখ দিয়ে পানিও পড়তে দেখা যায়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনঝো বলেন, ‘আমি অলিম্পিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং বলতে চাই যে, আমরা সুন্দর ও চমৎকার একটি গেমস উপহার দিবো।’ জাপানের প্রধানমন্ত্রী নিজেই অলিম্পিক গেমস নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন সবার সামনে।
তুরস্ক আয়োজনে সমর্থ হলেও তাদের হেরে যাওয়ার অন্যতম কারণ দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ ছাড়া দেশটির অ্যাথলেটদের ডোপিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া, বিরোধী রাজনীতিকদের কারাগারে রাখা ও প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বও তাদের বিপক্ষে কাজ করেছে।
ইস্তাম্বুলের ব্যাপারে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ এরদুগান রাশিয়ায় জি-২০ সম্মেলন থেকে সরাসরি বুয়েন্স আয়ার্সে আইওসি’র সভায় যোগ দেন। কিন্তু তার এ প্রয়াস ভেস্তে যায়। এ নিয়ে পাঁচবার তাদের আয়োজক হওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে গেল। যদি তারা সফল হতো তবে মুসলিম অধ্যুষিত কোন দেশে এটিই হতো প্রথম অলিম্পিক গেমস আয়োজন।
আগামী ২০১৬ অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে। তখনও আয়োজক তালিকার ভোটাভুটিতে এগিয়ে ছিল টোকিও। কিন্তু ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোর কাছে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় তারা। জাপান সরকার খেলার প্রস্তুতি বাবদ এরই মধ্যে ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার জমা করেছে অলিম্পিক ফান্ডে।
এশিয়ার প্রথম কোন শহর হিসেবে দুইবার অলিম্পিক গেমস আয়োজন করবে টোকিও।
১৯৬৪ সালের প্রথমবারের মতো ক্রীড়াঙ্গনের এই মহোৎসব আয়োজন করে দূর প্রাচ্যের এই শহরটি। ১৯৪০ সালেও তারা আয়োজক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে সেবার গেমস অনুষ্ঠিত হয়নি।

১৯৭২ থেকে আয়োজক যারা
১৯৭২ মিউনিখ, পশ্চিম জার্মানি
১৯৭৪ মন্ট্রিল, কানাডা
১৯৮০ মস্কো, রাশিয়া
১৯৮৪ লস অ্যানজেলস, যুক্তরাষ্ট্র
১৯৮৮ সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া
১৯৯২ বার্সেলোনা, স্পেন
১৯৯৬ আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র
২০০০ সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
২০০৪ অ্যাথেন্স, গ্রিস
২০০৮ বেইজিং, চীন
২০১২ লন্ডন, যুক্তরাজ্য
২০১৬ রিওডি জেনিরো, ব্রাজিল।

>