সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ‘এখন গোপালগঞ্জের অবস্থা কী হবে’

‘এখন গোপালগঞ্জের অবস্থা কী হবে’

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার :
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আওয়ামী লীগের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর যদি এই অবস্থা হয় তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে গোপালগঞ্জের অবস্থা কী হবে?

‘আমার এক বন্ধু আওয়ামী লীগ নেতা বলেছিলেন, গাজীপুর আওয়ামী লীগের আরেক গোপালগঞ্জ’ এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অগ্নিসেনা আয়োজিত ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

সরকারের কথা দেশের মানুষ আর বিশ্বাস করছে না উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, তাহলে বিগত সিটি নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিত।

মওদুদ বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে আন্দোলন করতে দিচ্ছে না কিন্তু জনগণ ঠিকই আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলন সুপ্ত। বিএনপির আন্দোলনের চেয়ে শত গুন সফলতা জনগণ এনে দিয়েছে। শুধু পাঁচটি সিটিতে বিজয় নয় সারাদেশে একই জনমত তৈরি হয়ে আছে।’

সরকারকে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে কার্যকর রেখে ২৫শে আক্টোবর বা ২৫ শে জানুয়ারির আগেই সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। সংশোধনী ছাড়া সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিলে ১৮ দল সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।’

সংসদ রেখে নতুন সংসদ নির্বাচন পৃথিবীর কোথাও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে তারা গত সাড়ে চার বছরে অনেক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু সরকারের উন্নয়নের জোয়ার ভোটের জোয়ারে ভেসে গেছে। সরকারের জনপ্রিয়তা তলদেশে চলে গেছে। এই রুগ্ন সরকার এ অবস্থা থেকে তারা আর বেরিয়ে আসতে পারবে না। তারা শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।’

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিরোধীদলের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন করেছে এমনকি সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি। আমরা অনেক অসুবিধায় ছিলাম। পাঁচটি সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ছিল না। তারপরও নিজেদের অবস্থা যাচাই করার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নেই। জনগণ আমাদের জয়ী করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সাড়ে চার বছরে সরকার ক্ষমতার যে অহমিকা দেখিয়েছে আমরা তার প্রতিক্রিয়া সিটি নির্বাচনে দেখতে পাচ্ছি। আমরা জানি সরকার এতো সহজে তত্ত্বাবধায়কের দাবি মানবে না।’

তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এমন একটি মুহূর্ত আসবে সরকার বোকামি করবে না। বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নেবে। না হলে নির্বাচন হবে না। এক এগারোর মতো অবস্থা হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। সরকার এমনটা করবে না। তারা সম্মান বাঁচাতে গণতন্ত্রের পথে হাটবে।’

সরকার পদ্মা সেতুর দুর্নীতি থেকে একজনকে রক্ষা করার জন্য সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তীকে নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংগঠনের সভাপতি তালুদার জহিরুল হক তুহিনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

>