বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > এবার মেঘনার পানি খাবে ঢাকাবাসী!

এবার মেঘনার পানি খাবে ঢাকাবাসী!

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৪৫ থেকে ২৫০ কোটি লিটার। ওয়াসা জানিয়েছে, ২২৫ থেকে ২৩০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয় এই ঢাকা শহরে। ফলে প্রতিদিন ঢাকাতে পানির ঘাটতি থাকছে প্রায় ২০ কোটি লিটার।

তবে এবার ঢাকাতে আর পানির কোনো ঘাটতি বা সংকট থাকবে না বলে জানা গেছে।

সরকার ঢাকার পানির ঘাটতি মেটানোর জন্য ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (ডিএএসডাব্লিউএসপি) শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন আরও বাড়তি ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকাতে সরবরাহ করা হবে। যে পানি আনা হবে মেঘনা নদী থেকে।

এ প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদী থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশ্বনদী, আড়াইহাজার রুপগঞ্জ হয়ে গন্ধার্বপুর এলাকায় ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পরিশোধন করা হবে। এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি পাওয়া যাবে।

ঢাকা মহানগরীর পুরান ঢাকা, মতিঝিল, পুরানা পল্টন, ফকিরাপুল, উত্তরা, গুলশান, বনানী, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, বাড্ডাসহ সমগ্র মিরপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় পানি সরবরাহ কম। মেঘনার পানি এসব এলাকায় সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে।

এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭’শ ৩৯ কোটি, জাইকা দেবে ৩ হাজার ৪’শ ৯৯ কোটি এবং ওয়াসা দেবে ১০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি শুরু হবে ২০১৪ সালের জানুয়ারি এবং শেষ হবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার শেরে বাংলানগরস্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্প প্রসঙ্গে ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ড. তাকসিম এ খান বলেন, প্রকল্পটি ঢাকাবাসীর পানির চাহিদা মেটানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রতিদিন ওয়াসা মহানগরীতে ২২৫ থেকে ২৩০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে তবুও ২০ কোটি লিটার পানির ঘাটতি থেকে যায়। শুষ্ক মৌসুমে সেই জন্য আমরা অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ করতে পারিনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫০০ এমএলডি লিটার বা প্রতিদিন ঢাকা নগরীতে ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারবো। এতে করে নগরীতে আর কোনো বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি থাকবে না।

তাছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মান প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। পানি পরিশোধনও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই মেঘনা নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে ঢাকাবাসীর মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্প এলাকা: নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশ্বনদী, আড়াইহাজার রুপগঞ্জ ও গন্ধার্বপুর।

প্রকল্পের কাযক্রম: প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য ৫০০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ। ২ হাজার মিলি মিটার ট্রান্সমিশন লাইন তৈরি। ৬০০ থেকে ১৮০০ মি.মি ডিস্ট্রিবিউশন লাইন তৈরি। ৭৫ মিলি মিটার থেকে ৪৫০ মিলি মিটার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন করা। এর পাশাপাশি ২০৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রথম ফেজে ৫০০ এমএলডি এবং দ্বিতীয় ফেজে আরও ৫০০ এমএলডি পানি সরবরাহের প্রস্তাব করা হবে।

প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য: ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ভূ-উপরিস্থ উৎস হতে পানি সরবরাহ করা। জনসাধারণের জন্য নিরপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পরিবেশ সম্মত স্যানিটেশনের মাধ্যমে ডাইরিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ হ্রাসকরণ।

>