শনিবার , ৬ই মার্চ, ২০২১ , ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ , ২১শে রজব, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > এবি ব্যাংকে ভুয়া নথিতে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ

এবি ব্যাংকে ভুয়া নথিতে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টান ॥ ভুয়া গ্রাহক বানিয়ে নকল নথিপত্রের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করছে এবি ব্যাংক লিমিটেডের একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র। কনজুমার ক্রেডিট (ভোক্ত ঋণ) প্যাকেজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যাংকের প্রতারক চক্র। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।
জানা গেছে, কনজুমার ক্রেডিটে প্রতারণার অভিযোগটি দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসায় অনুসন্ধান টিম এ বিষয়ে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অপরাধের ধারা উল্লেখ করে জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ চেয়েছে অনুসন্ধান টিম। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে তাদের মধ্যে এবি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে জুনিয়র কর্মকর্তারাও জড়িত।
দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বাংলানিউজকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ব্যাংকটির ধানমন্ডি শাখায় কনজুমার ক্রেডিটের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুদক। অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক দল অনুসন্ধান চালিয়ে এখন পর্যন্ত আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। চলমান তদন্তে অন্যান্য আত্মসাতের আরও প্রমাণ তাদের হাতে আসবে বলে দলটি আশা করছে।
দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘কনজুমার ক্রেডিটের মাধ্যমে জালিয়াতির ঘটনায় গত ১৯ মার্চ এবি ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর আগে গতবছর এ বিষয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ২০০৩ সালে এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ওই ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার কর্মকর্তারা ভোগ্যপণ্য কেনার নামে ৫০টি ভুয়া কনজুমার ক্রেডিট (ঋণ) মঞ্জুর করে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
জালিয়াতির ঘটনায় চলতি বছরের ১৯ মার্চ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) এনায়েত আফজাল, মো. শাহ আলম, সিনিয়র অফিসার সৈয়দ একরাম উল্লাহ এবং জুনিয়র অফিসার মো. রেজাউল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় ব্যাংকটির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় এবি ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার সিনিয়র এসএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার নাসরিন কাদরী (ধানমন্ডি শাখায়ও কাজ করেছেন) এবং ধানমন্ডি শাখার সাবেক জুনিয়র কর্মকর্তা চৌধুরী হাফেজ রুহানকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০।
দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তা ভুয়া চার ব্যক্তিকে দেখিয়ে বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত কাজে প্রত্যেকের নামে পাঁচ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই চার ব্যক্তি হলেন মো. ফয়সাল খান, মো. এইচ এম এ সুমন, মো. আবদুল জলিল এবং নূরজাহান। অথচ অনুসন্ধানে এই চার ব্যক্তির কারো কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাসরিন কাদরী ও হাফেজ রুহান পরস্পরের যোগসাজশে এবং তাদের সঙ্গে জড়িত ওই শাখার ব্যবস্থাপক মৃত মো. আসিরুল হক ভুয়া ব্যক্তির নামে নকল নথিপত্র তৈরি করে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন।
দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সম্প্রতি ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগও জমা পড়েছে দুদকে। অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানকে বিধি-বহির্ভূতভাবে ব্যাংকটির ঋণ দেওয়ার অভিযোগ এসেছে দুদকে।
দুদক জানায়, শিগগিরই এবি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধানে যাচ্ছে দুদক। অনিয়ম দুর্নীতিতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের হস্তপে রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখবে দুদক।
এদিকে ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম ফজলুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

>