রবিবার , ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ , ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৫ই রজব, ১৪৪২

হোম > রাজনীতি > এরশাদের জাতীয় পার্টি ভাঙছে!

এরশাদের জাতীয় পার্টি ভাঙছে!

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) আবার ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনটি স্রোতধারা সৃষ্টি হয়েছে। একটি স্রোত আওয়ামী লীগপন্থি এবং আগামী নির্বাচনে মহাজোটে থাকার পক্ষে। আরেকটি জোট বিএনপিপন্থি এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়তে চায়। তৃতীয় স্রোতটি এরশাদের অনুগত এবং এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নেবেন- তাইই মেনে নেবে। এমনি পরিস্থিতিতে যেকোন সময় জাপা দ্বিখন্ডিত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে জাপা ভেঙে নেতা-কর্মীরা যদি আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে যোগদান করেন তবে আগামী নির্বাচনে তাদের কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।

সংশ্লিষ্টদের মতে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং রওশন এরশাদ আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়তে আগ্রহী। প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জিয়াউদ্দিন বাবলু মহাজোটে থাকার পক্ষে। জাপার মহাজোটে যোগদানের ক্ষেত্রেও এই দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে এরশাদ মহাজোটে থাকলে দলের বিএনপিপন্থি নেতা-কর্মীরা দল থেকে বের হয়ে আসবেন। গত শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিলে জাপার বিএনপিপন্থি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কাজী জাফর আহমেদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে জাপার এই অংশটি যে কোন সময় দল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

জাপায় ভাঙন প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠলেও দলের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। কাজী জাফর আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে চাননি। কাজী ফিরোজ রশীদ অবশ্য সরাসরি মহাজোটে না থাকার ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, জাপা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই নিজস্ব প্রার্থী দেবে। দলের চেয়ারপারসন এইচ এম এরশাদকে প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী নির্বাচনে জাপা কোন জোটে যাবে না কি একক নির্বাচন করবে- এ বিষয়ে দল এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় আছে। পরিস্থিতি বলবে আমরা কোন জোটে যাব।

এদিকে, জাতীয় পার্টি (জাপা) ভেঙ্গে নেতা-কর্মী অন্যদলে যোগদান করলেও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা প্রধান বিরোধী দল বিএনপিতে যোগদান করে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে নতুনভাবে নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলে যোগদান করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’র সংশোধিত বিধানের (২০০৯ সাল) ১২ (ঞ) ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসাবে ৩ বছর না থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হবেন। আর মাত্র ৪ মাস পরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এখন কেউ কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া কোন রাজনৈতিক দল যদি কোন সদস্যকে বহিষ্কার করে কিংবা তিনি দল ত্যাগ করেন তাহলে ওই ব্যক্তি অন্যকোন দলে যোগ দিয়েও অংশ নিতে পারবেন না। কেননা এখন তিনি যদি কোন রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন তাহলে নির্বাচনের আগে তিন বছর দলে থাকার যে বাধ্যবাধকতা তা পূরণ হচ্ছে না। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোন বাধা থাকবে না। এক্ষেত্রেও রয়েছে বাধ্যবাধকতা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর লাগবে। ফলে জাপা ভাঙ্গলেও আইনী জটিলতার কারণে অনেক নেতার প্রধান দু’দলে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। তবে জাপায় থাকলে তারা দু’দলের যে কোন দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। এছাড়াও নতুন কোন নিবন্ধিত দলে যোগদান করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)এর ১২(ই) তে বলা আছে। নির্বাচন কমিশনের মতে কোন রাজনৈতিক দলের প্রথম নিবন্ধিকরণের ক্ষেত্রে ৩ বছরের সদস্য থাকার নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

>