বুধবার , ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > এরশাদের পা দুই নৌকায়

এরশাদের পা দুই নৌকায়

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই নৌকায় পা রেখেছেন এরশাদ। তিনি কখনও বলছেন এককভাবে নির্বাচন করবেন। এজন্য ৩শ’ আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আবার কখনও বলছেন ইসলামিক মূল্যবোধের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে পৃথক আরেকটি নির্বাচনী জোট করবেন। তবে জাপার একাধিক সূত্র বলেছে, তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেছেন। সূত্র বলেছে, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে দল জাপাকে অধিক আসন ছাড় দেবে সে দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করবেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর এসব নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইতোমধ্যে দরকষাকষি শুরু করেছেন এরশাদ।

দরকষাকষিতে বৃহত্তর রংপুরের একটি আসনও ছাড় দেবেন না শর্তও জুড়ে দিচ্ছেন তিনি। দলের নীতিনির্ধারকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, জাতীয় পার্টি আগামীতে সরকার গঠন করবে। সেই টার্গেট নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ নেতাকর্মীরা সারাদেশে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এতে জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি এখনও মহাজোটে রয়েছে। সময় বলে দেবে জাতীয় পার্টি কী করবে। ৭০ জনের তালিকা সম্পর্কে পার্টির মহাসচিব বলেন, এ সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। তবে ২০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি ১০০ আসনে যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কে জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার সহকারী সুজন জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। এ মুহূর্তে কথা বলতে পারবেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি হতে চান জাপা চেয়ারম্যান। এজন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে দুই দলের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য ৭০টি আসনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরশাদের স্বাক্ষরিত এ তালিকাটি এখন জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদের কাছে রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তালিকাটি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।

তালিকায় যে ৭০ জনের নাম রয়েছে তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বর্তমান এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর-৬ আসনে দেলোয়ার হোসেন, নীলফামারী-১ আসনে বর্তমান এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নীলফামারী-২ আসনে জয়নাল আবেদিন, নীলফামারী-৩ আসনে বর্তমান এমপি কাজী ফারুক কাদের, নীলফামারী-৪ আসনে আলহাজ শওকত চৌধুরী, লালমনিরহাট-১ আসনে এরশাদের একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আখতার, লালমনিরহাট-২ আসনে বর্তমান এমপি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, লালমনিরহাট-৩ আসনে বর্তমান এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, রংপুর-১ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জিএম কাদের ও বর্তমান এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার, রংপুর-২ আসনে বর্তমান এমপি আনিসুল ইসলাম মণ্ডল, রংপুর-৩ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, রংপুর-৪ আসনে করিম উদ্দিন ভরসা, রংপুর-৫ আসনে এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, রংপুর-৬ আসনে নুরে ইসলাম যাদু, কুড়িগ্রাম-১ আসনে বর্তমান এমপি একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ আসনে তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বর্তমান এমপি এটিএম মাঈদুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে ওয়াহিদুজ্জামান সরকার ও বর্তমান এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের, গাইবান্ধা-২ আসনে আবদুর রশিদ সরকার, গাইবান্ধা-৩ আসনে ব্যারিস্টার দিলারা, গাইবান্ধা-৪ আসনে লুত্ফর রহমান চৌধুরী, গাইবান্ধা-৫ আসনে বেগম রওশন এরশাদ, নওগাঁ-২ আসনে অ্যাডভোকেট মো. তোফাজ্জল হোসেন, কুমিল্লা-১১ আসনে কাজী জাফর আহমেদ, নোয়াখালী-২ আসনে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বর্তমান এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রাজশাহী-৫ আসনে অধ্যাপক আবুল হোসেন, নাটোর-১ আসনে বর্তমান এমপি এমএ তালহা, নাটোর-২ আসনে মজিবুর রহমান সেন্টু, নাটোর-৩ আসনে আবুল কাসেম সরকার, কুষ্টিয়া-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী কোরবান আলী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন, খুলনা-১ আসনে এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভরায়, সাতক্ষীরা-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, সাতক্ষীরা-২ আসনে বর্তমান এমপি এমএ জব্বার, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী আবদুর রউফ, পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বর্তমান এমপি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পটুয়াখালী-১ আসনে এসএম রহমান পারভেজ, বরিশাল-২ আসনে নাসির উদ্দিন, বরিশাল-৩ আসনে বর্তমান এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৬ আসনে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পিরোজপুর-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, পিরোজপুর-৩ আসনে ডা. রুস্তম আলী ফরাজি, টাঙ্গাইল-৫ আসনে আবুল কাসেম, টাঙ্গাইল-৭ আসনে জহিরুল ইসলাম জহির, জামালপুর-১ আসনে এমএ সাত্তার, ময়মনসিংহ-৪ আসনে বেগম রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৭ আসনে এমএ হান্নান, ময়মনসিংহ-৮ আসনে ফখরুল ইমাম, নেত্রকোনা-১ আসনে ফকির আশরাফ, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, ঢাকা-১ আসনে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৯ আসনে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, ঢাকা-১২ আসনে কাজী ফিরোজ রশীদ, গাজীপুর-১ আসনে খন্দকার এমএ সালাম, গাজীপুর-২ আসনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান এমপি নাসিম ওসমান, রাজবাড়ী-২ আসনে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দেওয়ান জয়নাল আবেদিন ও অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ, সিলেট-৫ আসনে সাব্বির আহমেদ, সিলেট-৬ আসনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে আতিকুর রহমান আতিক, বি-বাড়ীয়া-২ আসনে বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, বি-বাড়িয়া-৩ আসনে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও বি-বাড়িয়া-৪ আসনে জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল।

সূত্রে জানা গেছে, এ ৭০ জনের তালিকা নিয়ে দুই দলের সঙ্গে দরকষাকষি শুরু করেছেন এরশাদ। এর মধ্যে যে দল কমপক্ষে ৬০ আসন জাপাকে ছেড়ে দেবে সে দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন এরশাদ। তবে দেশের কয়েকটি জেলায় কয়েকটি আসন ছাড় দিলেও বৃহত্তর রংপুরের একটি আসনেও ছাড় দিতে নারাজ তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রধান কেন্দ্র বৃহত্তর ঢাকা জেলা ও মহানগরের মধ্যে ঢাকা-১, ঢাকা-৪, ঢাকা-১২ ও ঢাকা-৯ আসন নিজেদের দখলে নিতে চান এরশাদ। তাই এসব আসনের ঘোষিত প্রার্থীরা এরশাদের নির্দেশে তিন মাস আগে থেকে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

>