বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > খেলা > এ মাসেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

এ মাসেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

শেয়ার করুন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অনেক নাটক, আর জল ঘোলা করার পর অবশেষে বিসিবি’র নির্বাচনের আপাতত বাধা কাটলো। আদালতের নির্দেশে আপাতত নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আর কোন বাঁধা না থাকলেও যে কোন মুহুর্তে তা বাতিল হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। গতকাল এনএসসি’র সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্বাচনের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলেরও অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে আপিল বিভাগ বলেছেন, ‘এ নির্বাচন বৈধ হবে কি না তা নির্ভর করবে আপিল নিষ্পত্তির রায়ের ওপর।’ বিসিবি’র সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমরা একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। এডহক কমিটির দায়িত্বই ছিল নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন দেয়া। কিন্তু গঠনতন্ত্র ছাড়া আমরা নির্বাচন করতে পারছিলাম না। এই রায়ের পর নির্বাচন করতে আর কোন বাধা থাকলো না। আমরা নির্বাচন করতে পারবো।’
গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আপিল বিভাগের আদেশের প্রতিক্রিয়াতে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটি একটি ভালো দিন। এ  দেশের ক্রিকেটের ওপর যে হুমকিটা ছিল সেটা সরে গেছে। ২৯শে জুলাইয়ের বোর্ড সভায় আলোচনা করে এ মাসেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার চেষ্টা করবো। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সঙ্গে কথা বলে নিতে হলে তাও বলবো।’ নির্বাচন না হলে আমাদের আইসিসির সদস্য পদ ও বিশ্বকাপের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন বিসিবি’র সভাপতি।
এই বিষয়ে নাজমুল হাসান  বলেন, ‘বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যারা  আইসিসির বেধে দেয়া মধ্যে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছি গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে না পারায়। তাই আমরা ভয় ছিল এই প্রভাবটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বাকাপের উপর পড়তে পারে। বিশেষ করে সামনে ভেন্যু পরিদর্শনে আসবে আইসিসির প্রতিনিধি দল। আর ভেন্যু নিয়ে যে জটিলতা হয়েতে তাতে এমনটা হতেও পারে। তাই বলতে পারি গঠনতন্ত্রের সংশোধনের প্রক্রিয়া ভুল হলে তা ঠিক করে নেযা যায়। আইন ভুল হলে আইন ঠিক করে নেয়া যায়। কিন্তু বিশ্বকাপ এখান  থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলে বা আইসিসি সদস্যপদ হারালে তা ফিরে পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে।’
অন্যদিকে এডহক কমিটির একমাত্র দায়িত্ব ছিল নির্বাচন দেয়া। গত বছরের ২৬শে নভেম্বর দায়িত্ব নেয়ার পর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন দিতে পারেন নি নাজমুল হাসানের এডহক কমিটি। কেন পারেন নি তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রয়োজন হয়। আমাদের কাছে গত বছরের ২৯শে নভেম্বর এনএসসি অনুমোদিত একটি গঠনতন্ত্র ছিল। সেটা দিয়েই নির্বাচন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটি নিয়ে মামলা হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া আটকে যায়। আইসিসি জুনের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে রাজনৈতিক হস্তপেমুক্ত ও নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। একমাত্র আমরাই তা পারিনি। ২০০৮ সালের একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে যেটি আইসিসির গাইডলাইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই গঠনতন্ত্র দিয়ে নির্বাচন দেয়া সম্ভব নয়। বিগত কমিটি অবলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলরদের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। তাই আমার পে  কোনো ব্যবস্থা নেযা সম্ভব হয়নি।
গঠনতন্ত্র নিয়ে জটিলতায় আগের কমিটিকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, ‘আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলেছিল এনএসসি। নয় মাস সময় পেয়েও তারা সেটি করেন নি। আমরা (এডহক কমিটি) সংশোধন করলে অনেক বেশি প্রশ্ন উঠতো।’
ওদিকে নাজমুল হাসান নিজে নির্বাচন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি নির্বাচন করবো। মনে হয় আমার একটা প্যানেল থাকবে। একাধিক প্যানেল হলে আমি নির্বাচন নাও করতে পারি। সভাপতি হিসেবে আমি নিরপে থাকতে চাই। সেেেত্র হয়তো সরাসরি সভাপতি পদে নির্বাচন করবো। নির্বাচন করবো কি না পুরোপুরি মনস্থির করতে পারিনি। আমি নির্বাচন করে বোর্ডে আসিনি। সরকার ও এনএসসির মাধ্যমে এসেছি। নির্বাচন করার আগে তাদের মতামতও আমাকে জানতে হবে।
তবে নাজমুল হাসান পাপনকে নির্বাচন করতে হলে এই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বোর্ডের পরিচালক হয়েই সভাপতি পদে নির্বাচন করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি গঠনতন্ত্র দেখবো, তারপরই সিদ্ধান্ত নিব কি করা যায়। যদি গঠনতন্ত্রে থাকে আমাকে পরিচালক হয়ে নির্বাচন করতে হবে তাহলে পরিচালক হিসেবে নির্বাচন করব। আর যদি পরিচালক না হয়ে সরাসরি নির্বাচন করা যায় সেটাও দেখবো।’
এনএসসি গঠনতন্ত্রের যে সংশোধন করেছে নাজমুল হাসান তা তিনি কিছুই জানেন না বলে বারবারই উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই গঠনতন্ত্রটি সংশোধন করেছিল এনএসসি। আমরা এই বিষয়ে কিছু জানতাম না। আমাদের নিয়ে যেদিন এডহক কমিটি করেছিল সেই দিন এনএসসি থেকে নির্বাচনের জন্য গঠনতন্ত্রটি আমাদের পাঠানো হয়েছিল।’

>