মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ওয়ালটনের নতুন কারখানায় বছরে তৈরি হবে ১০ লাখ টিভি

ওয়ালটনের নতুন কারখানায় বছরে তৈরি হবে ১০ লাখ টিভি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উচ্চ প্রযুক্তির টেলিভিশন সেট তৈরির নতুন কারখানা স্থাপন করছে ওয়ালটন। গাজীপুরের চন্দ্রায় কারখানা স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। আগামি বছরের শুরুতে উৎপাদনে যাবে এই কারখানা।

এর ফলে একদিকে বদলে যাবে বাংলাদেশের টিভি ইন্ডাস্ট্রির চিত্র; অন্যদিকে ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে সব ধরণের টেলিভিশনের দাম। তবে দেশ লাভবান হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং দ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে।

নতুন এই কারখানা স্থাপনের ফলে ওয়ালটনের উৎপাদন মতা বাড়বে ১০ গুণ। বাড়বে কারখানার জায়গা বা কর্ম এলাকাও। কর্তৃপ জানায়, গাজীপুরের চন্দ্রায় বিশাল এলাকাজুড়ে ওয়ালটন মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৮ লাখ বর্গফুট কর্ম এলাকায় শুরু হবে কাজ। পরে তা ১৪ লাখ বর্গফুটে উন্নীত হবে।

কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্মানকাজ পরিদর্শন করেছেন। ২০১৪ সালের শুরুতেই এখানে উৎপাদন শুরু হবে।

এই কারখানায় বছরে ১০ লাখ সেট টিভি তৈরি হবে; যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করা যাবে। এখানে তৈরি হবে উচ্চ প্রযুক্তির স্মার্ট টিভি, ওএলইডি, এলইডি, টুকে এলইডি, ফোরকে এলইডি ছাড়াও সিআরটি টিভি। সেইসঙ্গে টেলিভিশনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, পিসিবি বোর্ড, প্যানেল, মাদারবোর্ড, কেবিনেট ইত্যাদি উৎপাদিত হবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে টেলিভিশন শিল্পে। এটি বাংলাদেশে এখন আর বিলাসপণ্য নয়। শিা উপকরণ এবং তথ্য ও বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে টিভি। ফলে দেশ-বিদেশে এ পণ্যের বাজার দ্রুত বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং রপ্তানির ল্য নিয়েই এগোচ্ছে ওয়ালটন।

ওয়ালটনের ক্রিয়েটিভ এন্ড পাবলিকেশন বিভাগের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম জানান, এশিয়ার একটি দেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য টিভি সেট তৈরি করছে। কিন্তু সেখানে শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের মান না বাড়লেও দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে বিশ্ববাজার দখলের।

উদয় হাকিম আরো বলেন, আমাদের সামনে এমন একটা সময় অপো করছে- যখন পুরো বিশ্ব সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে বাংলাদেশ মুখী হবে।

এরইমধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণের মাধ্যমে ফ্রিজের বাজারের সিংহভাগ শেয়ার নিজেদের করে নিয়েছে ওয়ালটন। এছাড়া মোটরসাইকেল, টিভি সেট, এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে ওয়ালটন ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্সে ওয়াশিং মেশিন, হেয়ার ড্রায়ার, ব্লেন্ডার, জুসারসহ দশটি নতুন ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরি হবে।

কর্তৃপরে দাবি-ওয়ালটন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে নিজেদের দতার স্বার রেখেছে। তারা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশে তৈরি পণ্য গুনগত দিক দিয়ে বিশ্বমানের।

ওয়ালটন মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘নতুন কারখানায় প্যানেল তৈরির প্ল্যান্ট বসানো হবে। যা কেবল বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরই আছে’। তিনি বলেন, ‘ওয়ালটনের কারখানায় নিজস্ব মোল্ড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরি করব। আমরা নিজেদের গবেষণালব্দ জ্ঞান প্রয়োগ করে ইউনিক ডিজাইন নিয়ে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় তৈরি হচ্ছি’।

ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা এসএম জাহিদ হাসান বলেন, ওয়ালটন শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিভিশন উৎপাদন এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হতে পারে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের হাব বা কেন্দ্র। দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পের চিত্র পাল্টে দিতে কাজ করছে ওয়ালটনের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ।

>