সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম কমছে

কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম কমছে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা বর্ষণ ও পরের সপ্তাহেই  রমজান শুরুর প্রভাবে মরিচের বাজার যেভাবে  গরম হয়েছিল, এখন তা নরম হতে শুরু করেছে।
একই সঙ্গে রোজার মাসের হাকডাক কাটিয়ে মহানগরীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। স্বস্তি দেখা গেছে, অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের বাজারেও।
রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার, মোহম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, যে কাঁচা মরিচের দাম একশ ৬০ টাকা থেকে একশ ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, তা চলতি সপ্তাহের শুরুতে ৮০ থেকে একশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার রোজার পণ্য হিসেবে যে শসার কদর বেশি হওয়ার সুযোগে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২২ থেকে ২৪ টাকায়। গত সপ্তাহেও যে টমেটো একশ ২০ থেকে একশ ৩০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।
ইফতারের পছন্দনীয় পদ বেগুনির জন্য রোজায় বেগুনের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তা কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সব ধরনের সবজিতেও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতি কেজি ঝিঙে  ৩৬ থেকে ৪০ টাকার বদলে ২৮ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩২ টাকার পরিবর্তে ২০ থেকে ২২ টাকা, পটল ২৮ থেকে ৩০ টাকার পরিবর্তে ২০ থেকে ২২ টাকা, ৪০ টাকা কেজির বরবটি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।
আর ২৮ থেকে ৩০ টাকার ঢেড়শ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৪ টাকার মধ্যেই। গত সপ্তাহের ৪০ টাকা কেজির করলা বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে। আবার আলুর দাম কমে ১৮ থেকে ২০ টাকার পরিবর্তে ১৫ থেকে ১৬ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে আগের দাম ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায়ই মিলবে দেশি পেঁয়াজ। একই সঙ্গে বড় পেঁয়াজও (আমদানি করা) মিলবে   ৪২ থেকে ৪৬ টাকায়।
সবজি ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষণের পরেও কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, আলু ছাড়া সবজির দাম বাড়েনি। তবে অবস্থার পরিবর্তন না হলে সবজির দর বেড়ে যাবে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, রসুন, আদার দামে কিছুটা নরম সুর। রসুন দোকান ভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১৩০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০৫ টাকা থেকে দোকান ভেদে ১১৫ টাকা। আবার মোটা মসুর ডাল মিলবে ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যেই।
মোটা মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, খেসারি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোলা ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা, বুট ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সয়াবিন তেল খোলা একশ ১৫ থেকে একশ ২০ টাকা লিটার, ৫ লিটার তীর সয়াবিন বোতল মিলবে ছয়শ ২৫ টাকায়, আবার রূপচাঁদা ছয়শ ৫০ টাকা হলেও সঙ্গে একই কোম্পানির একশ গ্রাম সরিষার তেল ফ্রি।
মাছের বাজারেও নরম সুরেই কথা বলছেন মাছ বিক্রেতারা। বাজারে প্রতিকেজি মুরগির ডিম (ফার্ম) ৩০ থেকে ৩২ টাকা হালি। কিন্তু হাঁসের ডিম মিলবে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায়। তবে দেশি মুরগির ডিমের জন্য হালিতে পাক্কা ৪৫ টাকা গুনতে হবে।
একই রকম সুর মাংসের বাজারেও। প্রতিকেজি গরুর মাংস  দুইশ ৮০ থেকে দুইশ ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খাসির মাংসের দাম কেজি কত জিজ্ঞাসা করলে বিক্রেতা ঠিক সাড়ে চারশ টাকা দর হাকালেও শেষ বেলায় আপনি চারশ ২৫ টাকায়ও কিনতে পারবেন।
এদিকে, একশ ৬৫ থেকে একশ ৭০ টাকায় যে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হতো, তা সপ্তাহের শুরুতে দেখা গেল দেড়শ টাকা থেকে একশ ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
সার্বিক দ্রব্যমূল্যে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছেন ক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে নিয়মিত বাজার করেন জহিরুল হক। তিনি বলেন, ‘রোজার শুরু থেকেই যেভাবে জিনিস পত্রের দাম বাড়ছিল, তাতে মনে হচ্ছিল পবিত্র মাসে রোজায় পরিবারের সদস্যদের জন্য ভালো ইফতার বা সেহেরির ব্যবস্থা হবে না। কিন্তু, আজ বাজারে এসে জিনিসপত্রে দাম যথেষ্ট স্বস্তিজনক মনে হচ্ছে।’
সূত্রাপুরের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সব সময়ই রোজার শুরুতে জিনিসপত্রের দামে কিছুটা অস্বস্তি থাকে। এ বছরও ছিল। কিন্তু, পাইকারি বাজারে সবকিছুর দাম কিছুটা নিচের দিকে এসেছে। তার প্রভাব বাজারে পড়েছে।’
তবে মহল্লার ছোট্ট কাঁচা বাজারের তুলনায় একটু দূরে বড় কোনো বাজারে গেলে হাজার টাকার বাজারে অনায়াসেই ক্রেতা এক থেকে দেড়শ টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। অবশ্য এ জন্য তাকে কিছু রিকশা ভাড়া আর একটু বেশি সময় দিতে হবে।

>