সোমবার , ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ , ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ , ৪ঠা জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > কাপাসিয়ায় ফের ডেবে গেছে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল

কাপাসিয়ায় ফের ডেবে গেছে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল

শেয়ার করুন

আকরাম হোসেন রিপন/তাওহীদ হোসেন
গাজীপুর: কাপাসিয়া উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে দস্যু নারায়নপুর এলাকায় গত বৃহস্পতিবার শেষরাতে ফের ৪০ হাজার ভূমি ডেবে গেছে। এতে কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই উপজেলার ব্যস্ততম সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের পাশে দাস পাড়ার ২০টি পরিবার আতংকের মধ্যে রয়েছে।

জানা যায়, কাপাসিয়া সদর থেকে ৩ কিমি পশ্চিমে কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের দস্যু নারায়নপুর বাজার সংলগ্ন দাসপাড়া এলাকায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ মূল সড়কের প্রায় ২ শত ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট চওড়া, ১০ফুট গভীরে দেবে গেছে। সড়কের পাশে ২ বিঘা ফসলী জমি ও পার্শ্বেও শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে ডেবে গেছে। সড়কের সামনে ও পিছনে সবই ঠিক আছে কিন্ত মাঝ খান থেকে হঠাৎ সড়কের অংশ দেবে দুই দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সড়কের পাশের দাস বাড়ির রতন দাস জানান, শুক্রবার ভোরে ঘুম থেকে জেগে বাহিরে এলে সড়কটি প্রায় ১০ ফুট নীচে দেবে রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়েছে এবং পাশে তাদের ফসলী জমিও নদীর দিকে ডেবে গেছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মফিজউদ্দিন জানান, এর আগেও একই স্থানে আরো তিন বার ভূমিডেবে যাবার ঘটনা ঘটে ছিল।
স্থানটি সর্ব প্রথম ১৯৬৮ সালে ডেবে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পরে দ্বিতীয় দফায় ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাস্তা ও একটি বাড়িসহ এই বিশাল এলাকা প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গিয়েছিল । তৃতীয় দফায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একই এলাকা বেশ কিছু গাছপালা, কলাবাগান ও রাস্তাটিসহ প্রায় ১০ ফুট নিচে দেবে যায়। ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল স্থানটি পরিদর্শন করেন। তারা মাটির নমুনা পরীক্ষা করে জানান, এখানকার মাটির গভীরে অতি মাত্রায় কাঁদামাটি ও পিট কয়লা জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে এগুলো শুকিয়ে শূন্যতা তৈরি হয় এবং এর ফলে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভূ-তাত্বিক অধিদপ্তর পরিদর্শন করে জানান, পাশের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অত্যাধিক বালি উত্তোলনের ফলে এ ভুমি দেবে যাবার ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপদ বিভাগ রাস্তাটির উত্তরপাশে নিচ থেকে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে মজবুত করে নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাসের মাথায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই এলাকায় রাস্তার মাঝ বরাবর ফাটল দেখা দিয়ে প্রায় ৪ ইঞ্চি পরিমাণ দেবে যায়। পরে সেখানে পিচ ঢালাই দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ আশঙ্কাজনক এ রাস্তার দুইপাশে ‘সয়েল সেটেলমেন্ট পর্যবেক্ষণ চলিতেছে’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করে দেয়। ফলে এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীরা ওই স্থানে গিয়ে সাবধানে চলাচল করত। চতুর্থ বারের মতো বুহস্পতিবার শেষরাতে সড়কসহ একই এলাকা প্রায় ১০ ফুট নিচে ডেবে যায়। খবর পেয়ে কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, সড়ক ডেবে যাওয়ার ঘটনাটি দুঃখ জনক। সড়কটি ডেবে যাওয়ার কারণ জেনে দ্রুত তা মেরামত করা চলছে। আগামীকাল শনিবারে মধ্যে সাময়িক ভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে আশা করা যাচ্ছে।

>