শনিবার , ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ , ২রা মাঘ, ১৪২৭ , ২রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > জাতীয় > কাপাসিয়ায় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কাপাসিয়ায় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

শেয়ার করুন

আকরাম হোসেন রিপন
চীফ রিপোর্টার ॥
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের সহ-ধর্মিণী বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আওয়ামীলীগের র্দুদিনের কান্ডারী, মহিয়সি নারী নেত্রী, সাবেক প্রেসিডিয়ামের এক নম্বর সদস্য সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী গতকাল রোববার স্বাস্থ্য বিধি মেনে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বক্তব্য রাখেন তার মেজো মেয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি। অপরদিকে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলজের শক্ষিক ও ছাত্রছাত্রীরা মরহুমার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক র্অপণ, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। প্রভাষক মরিয়ম বেগমের সভাপতিত্বে ও জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রভাষক সামসুন নাহার, শিউলি বেগম, আতিকুর রহমান, বেলী নাদিরা এবং ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে বিদীপ বিশ্বাস প্রমুখ।

উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সভাপতি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রধানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. মোঃ আমানত হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন আহমেদ সেলিম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রধান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সৈয়দ মুজিবুর রহমান, কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মামুন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, তিনি ঢাকার বনানির বাসায় বাথরুমে পরে গিয়ে কোমড়ে গুরুতর আঘাত পান। এতে তাঁর কোমড়ের হার ভেঙ্গে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি এমপিকে সাথে নিয়ে দিল্লি যান। পরে তার অবস্থা আরো অবনতির দিকে গেলে দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসার তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে এয়ার এম্বুলেন্সযোগে দেশে এনে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০১৩ সালের ২০শে ডিসেম্বর চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
জোহরা তাজ ১৯৩২ সালে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক ভিটেবাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলায়। ১৯৫৯ সালে বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তিনি ১৯৬০ সালের আন্দোলনে বাংলাদেশ কারাবন্দি সাহায্য কমিটির যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতাকে হত্যার পর পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের চরম ক্রান্তিকালে দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে কাপাসিয়া ও ১৯৯৬ সালে মেহেরপুর থেকে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে মহিলা পরিষদের কমিটিতে কবি সুফিয়া কামালের সাথে সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর একমাত্র ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ ২০০১ ও ২০০৮ সালে কাপাসিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে সোহেল তাজের ছেড়ে দেয়া আসনে ২০১২ সালে উপনির্বাচনে জোহরা তাজের মেজো মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর বড় মেয়ে শারমিন রিপি প্রবাসি ও ছোট মেয়ে মাহজাবিন মিমি দেশে বসবাস করছেন।

>