বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > কালীগঞ্জের মাদক ব্যবসা জমজমাট যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার!

কালীগঞ্জের মাদক ব্যবসা জমজমাট যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার!

শেয়ার করুন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) থেকে শাহিন মোড়ল ॥
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যেখানেই হাত বাড়ায় সেখানেই মিলছে মাদক। কালীগঞ্জকে ঘিরে জমে উঠেছে এখানকার রমরমা মাদক ব্যবসা। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এলাকার বেকার যুবসমাজ ও অশিতি রিক্সা চালকদের। কাজেই যুবসমাজের ভবিষ্যৎ একবারেই অন্ধকার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিন যত যাচ্ছে মাদকের ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে কালীগঞ্জ উপজেলাটি। কালীগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীরা একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানের মাদকের দিক দিয়ে কালীগঞ্জের যে ভয়াবহ অবস্থা, এলাকাবাসী আশা করছে চলতি বছর বা আগামী বছরের মধ্যেই কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের ভাদার্ত্তী গ্রামটি দেশের অথবা জেলার এক নাম্বর মাদক স্পট হিসেবে চিহ্নিত হবে। গাজীপুর জেলা তথা কালীগঞ্জ উপজেলার প্রশাসন এই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কেননা, কোন প্রকার ব্যবস্থা নিলে হয়তো কালীগঞ্জে মাদকের ভয়াবহতা এতটা প্রকোট আকার ধারণ করতো না। কালীগঞ্জে এখনও পর্যন্ত মাদকের বেশ কিছু অভিযান হলেও মোটা দাগের কোন অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি প্রশাসন।

কালীগঞ্জের ৯টি ইউনিয়নেই মাদকের অভয়ারণ্য। এর মধ্যে পৌর এলাকা ৩নং ওয়ার্যের অবস্থা বেশি ভয়াবহ এখানে সন্ধ্যার পর গ্রামটি পরিণত হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারীদের এক অনন্য মিলন মেলায়।
অভিযোগ আছে, অত্র গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে ইয়াবা ডিলার মোঃ রফিকুল ইসলাম ভাদার্ত্তী জামে মদজিদের সহ-কোষাধ্য হিসেবে বহাল আছেন। এজন্য তার দাপটে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের আশ-পাশের জায়গা গুলোতে রিক্সা, সাইকেল, মটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার পার্কিং করে চলে মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা। শুধুমাত্র সমাজ সেবক নামধারী এই মাদক ব্যবসায়ির ভয়ে এলাকাবাসী কিছুই বলতে পারছে না।
জানা যায়, রফিক জোড়া খুনের ও পুশিলের হাতকড়া নিয়ে পলাতক আসামিও। অত্র এলাকার মাদকে কেন্দ্র করে মাদক সেবি ও বিক্রেতার মটরসাইলে চাপা পরে তিন জন এলাকাবাসী নিতহ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত ভাদার্ত্তী গ্রামে কয়েক দফা মাদকের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। অত্র এলাকায় বর্তমানে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার করছে, মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে ডিলার মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ মোনতাজ উদ্দিনের ছেলে সাব ডিলার মোঃ ইমরান হোসেন, মৃত কামাল উদ্দির ছেলে মোঃ মাহবুবুর রহমান, মৃত ইদ্রিশ আলীর ছেলে নুরুল আলম, মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে কাশেম, মৃত শাহজাহানের আলীর ছেলে মোঃ সালাউদ্দিন, আলালের ছেলে আমিনুল ইসলাম, মোঃ মতিউর রহমানের ছেলে মাসুদ রানা কুটু ও মোঃ মোনতাজ উদ্দিনের আরেক ছেলে মোঃ ফোরকানসহ বেশ কিছু রিক্সা চালক ও বেকার যুককরা।
ইয়াবা ব্যবসায়িদের কাছ থেকে জানা যায়, যুবলীগ নেতা আক্রাম ও নুরা প্রতি মাসে মোটা অংকের চাঁদা নিয়ে থানা ম্যানেজ করে। যে কারণে অত্র এলাকার মাদক ব্যবসায়িরা সব সময়ই থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জানা যায়, ভাদার্ত্তী গ্রামের গন্যমান্য ও এলাকার যুব সমাজকে সাথে নিয়ে তিন সমন্বয়ে (উপদেষ্টা, পরিচালনা ও কার্যকরী ) একটি মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়।
যে ইয়াবা ছিল শুধুমাত্র রাজধানী অভিজাত এলাকা কেন্দ্র্রীক, সে ইয়াবা এখন পাওয়া যায় কালীগঞ্জের আনাচে-কানাচে। কালীগঞ্জ রাজধানীর খুব কাছে থাকার কারণে, সন্ধ্যারপর রাজধানী থেকে খুব দ্রুতই ছুটে আসে মাদক সেবিরা। তারা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারে করে খুব সহজেই ইয়াবা, ফেনসিডিল, বাংলা মদ ও গাঁজা সংগ্রহ করছে কালীগঞ্জের স্থানীয় মাদক ব্যবসায়িদের দৈনিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কারা ভ্রাম্যমান জনবলের কাছ থেকে। আর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার ভ্রাম্যমান জনবল হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে স্থানীয় অশিতি গরীব রিক্সা চালক ও বেকার যুবকদেরকে। তারা জানেনা, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়োগ করা ভ্রাম্যমান জনবলের প্রত্যেকের কাছেই থাকছে একটি করে মোবাইল ফোন। আর এটাকেই তারা যোগাযোগের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সেবনকারী জানতে পারে কোথায় আছে তাদের কাংতি মাদক বিক্রয় প্রতিনিধি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যেখানেই থাকুক মোবাইল ফোনেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়ে আসতে হবে তাদের মাদক দ্রব্য। কালীগঞ্জ তথা সারা বাংলাদেশের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের বসত বাড়ীতেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করছে কয়েকটি চক্র। দৈনিক চুক্তিবিত্তিক নিয়োগকরা ভ্রাম্যমান জনবলের মাধ্যমেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে এই চক্রটি।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, নানা উপায়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয়। পৌরসভার আনাচে-কানাচে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। মাদক ব্যবসায়িদের নিয়োগকরা ভ্রাম্যমান জনবলের মাধ্যমে নানা উপায়ে মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেয়। কালীগঞ্জের কয়েকটি স্পটে ভ্রাম্যমান বিক্রয় প্রতিনিধিরা মাদক বিক্রি করছে। যার মধ্যে, কালীগঞ্জ গুদারা ঘাট, কালীগঞ্জ খাদ্য গুদামের সামনে, মসলিন কটন মিলস্, ভাদার্ত্তী পুরাতস সাব রেজিষ্টি অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন রাস্তা, মিল গেইট, আড়িখোলা, কাপাসিয়া রোড, জামালপুর গ্রামীন টাউয়ার সংলগ্ন, আলীরটেক, দোলান বাজার, ফুলদি বাজার, জাঙ্গালীয়া বাজার আনাচে-কানাচে, নাগরী উলুখলা বাজার, সেনপাড়া, মানিকপুর, ধনুন, করান, দারকা বাঙ্গা, চড়োখোলা, ভাসানিয়া উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও অনেকে হোম সার্ভিস ডেলিভারির মাধ্যমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিনব উপায়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পরেছে। আগে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকের চালান এনে গোপন এলাকায় সংরণ করে রাখতেন। বর্তমানে ব্যবসায়িরা আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর হাতে আটকের ভয়ে এলাকার বাইরে থেকে চালান এনে বিক্রি করেদেন। অনেক মাদক ব্যবসায়ির ভাসমান এজেন্ট রয়েছে। যাদের মাধ্যমে তারা চিহ্নিত লোকজনের কাছে মাদক পৌঁছেদেয়। কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান বিক্রয় প্রতিনিধরা গ্রেফতার হলেও নেপথ্যের নায়কেরা সব সময়ই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর এই সব নেপথ্যের নায়ককেরা অনেকেই কোন না কোন মামলার আসামী। আর এ ব্যাপারে অভিযোগ আছে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। মাদক ব্যবসায়িদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে তাদের ব্যবসায় পূর্ণ সহযোগীতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

>