সোমবার , ১লা মার্চ, ২০২১ , ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৬ই রজব, ১৪৪২

হোম > আন্তর্জাতিক > কৃষি আইন নিয়ে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক চান মমতা

কৃষি আইন নিয়ে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক চান মমতা

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
দিল্লিতে কৃষক বিক্ষোভ এখন তুঙ্গে। এর প্রেক্ষিতে কৃষি আইন নিয়ে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একগুঁয়েমি ছেড়ে যত দ্রুত সম্ভব সব বিরোধী দলের সঙ্গে কেন্দ্রের কথা বলা উচিত।

পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, মমতার দাবি মেনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলে কৃষি আইন নিয়ে বিরোধী শিবিরের যুক্তি কেন্দ্রকে চাপে ফেলবে। আবার বৈঠক না ডাকলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুর আরও চড়িয়ে দেয়ার সুযোগ পাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে বঙ্গ বিধানসভার ভোটের আগে মমতার কৌশলকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

প্রসঙ্গত, সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রীতি অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি সর্বদলীয় বৈঠক হওয়ারই কথা আছে, যা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিরোধীদের কথায় কর্ণপাত না করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে মানুষের ওপরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার বিরোধিতায় মমতা বরাবরই সরব। ভারতের নতুন কৃষি আইন প্রসঙ্গেও তিনি মনে করেন, একগুঁয়ে অবস্থান ছেড়ে কেন্দ্রের উচিত বাকিদের বক্তব্যকেও গুরুত্ব দেয়া।

মমতার ভাষায়, ‘এটা ইগো বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যাপার নয়। নম্বর রয়েছে বলেই গায়ের জোর দেখানোটা গণতন্ত্রের শর্ত হতে পারে না। অন্যদের কথাও শুনতে হবে।’

৬৫ দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছেন ভারতের কৃষকরা। গত মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে রুপ নেয় দেশটির রাজধানী। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন কৃষক আন্দোলনের বিষয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি তোলেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ময়দান ছাড়ছেন না। কৃষকদের আন্দোলন সমর্থন করছে বেশির ভাগ বিরোধী রাজনৈতিক দল। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমর্থনও পাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে কেন্দ্রের অবস্থানের উল্টো দিকে একটা জোরালো মতামত তৈরি হচ্ছে।

তাই সংসদে প্রথাগত আলোচনার বাইরে সব দলকে সঙ্গে এ বিষয়ে কেন্দ্রের কথা বলা জরুরি। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রকে বুঝতে হবে, এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দল পরিচালনা করছে না। ফলে এই আন্দোলনের গায়ে দলীয় রং লাগিয়ে দেয়া যুক্তিযুক্ত নয়।’

বিরোধীদের অভিযোগ, তিন কৃষি আইন আনার আগে কৃষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি কেন্দ্র। আইনের সুফল সম্পর্কেও কোনো কৃষক সংগঠনকে কিছু জানানো হয়নি। বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা এড়িয়েই সংসদে বিল পাশ করায় মোদী সরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় কৃষি বিলগুলো বিনা বাধায় পাশ হয়ে যায়। তার পর থেকেই কৃষক আন্দোলন ক্রমশ সংগঠিত হয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্র একাধিক বার বৈঠক করলেও সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। অভিযোগ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এখনো বিরোধীদের বৈঠকে ডাকছে না কেন্দ্র।

গত মঙ্গলবার কৃষকদের লালকেল্লা অভিযান ঘিরে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে দিল্লির রাজপথ। লালকেল্লার প্রাচীরে আন্দোলকারীদের পতাকা লাগানোর ছবি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বুধবার আন্দোলনকারীদের একাংশের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। তার বক্তব্য, যে ব্যক্তি লালকেল্লায় পতাকা লাগানোর চেষ্টা করছিলেন, তাকে অতীতে কয়েকজন বড় মাপের বিজেপি নেতার সঙ্গে একাধিক বার দেখা গেছে। ফলে আন্দোলনের প্রকৃত অভিমুখ গুলিয়ে দেয়ার কারণেই মঙ্গলবারের ওই গোলমাল সংগঠিত হয়েছিল কি না, এদিন সেই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

>