রবিবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > কেজিতে ১৭ টাকা ব্যবধানে ভোজ্যতেল

কেজিতে ১৭ টাকা ব্যবধানে ভোজ্যতেল

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও খুচরায় দাম বেড়েছে। পাইকারিতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও খুচরায় তা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। অন্যদিকে পাইকারির চেয়ে খুচরা বাজারে কেজিতে পাম অয়েল ১৫ ও সুপার পাম অয়েল ১৬ টাকা ৫০ পয়সা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে বাজার মনিটরিং করা হলেও খুচরায় তা না করায় বিক্রেতারা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করছেন বলে দাবি পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই মাস ধরে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে বুকিং কমে যাওয়ায় দেশের পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিম্নমুখী।

কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরায় সরবরাহসংকটের কথা বলে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, রোববার খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন বিক্রি হয় ৪ হাজার ২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি সয়াবিনের পাইকারি দর ১০৭ টাকা ৭২ পয়সা। কিন্তু চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের খুচরা ও পাইকারিতে পার্থক্য ১৭ টাকা। ওইদিন পাইকারিতে মণপ্রতি পাম অয়েল ২ হাজার ৬৫৫ এবং সুপার পাম অয়েল ২ হাজার ৯২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। অন্যদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাম অয়েল ৮৫-৮৭ এবং সুপার পাম অয়েল ৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

অর্থাৎ খুচরা বাজারের সঙ্গে পাইকারিতে পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের দামের পার্থক্য যথাক্রমে ১৫ এবং ১৬ টাকা ৫০ পয়সা। রমজান উপলক্ষে অধিক লাভের আশায় খুচরা বাজারে কয়েক হাত ঘুরে বেশি দামে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স হোসাইন অ্যান্ড ব্রাদার্স ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এম হায়দার এ বিষয়ে বলেন, বিশ্ববাজারে বুকিং কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিম্নমুখী। মিলগেট থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়ায় রোজায়ও বাজার স্থিতিশীল। তবে খুচরা বাজারে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছেন সবাই। বাজার মনিটরিং কমিটি পাইকারি ব্যবসায়ীদের তদারক করলেও খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এদিকে সয়াবিনের মণপ্রতি দাম ৪ হাজার টাকায় নেমে এলেও বোতলজাত সয়াবিনের দাম কমাচ্ছে না কোম্পানিগুলো। ছয় মাস ধরে দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৩০-১৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ছয় মাস আগে সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিজনিত কারণে এর দাম লিটারপ্রতি (৯২২ গ্রাম) ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে কোম্পানিগুলো।

এদিকে খোলা ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিনের পরিবর্তে সুপার পাম অয়েল বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গরমে সুপার পাম ও সয়াবিনের পার্থক্য খালি চোখে দেখা যায় না বলে অধিকাংশ খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সয়াবিনের পরিবর্তে সুপার পাম অয়েল বিক্রি করে।

সয়াবিন তেলের দাম বেশি হওয়ায় সুপার পাম অয়েল বিক্রি করে লাভের হার বেশি থাকে বলে জানান একাধিক খুচরা বিক্রেতা। তবে সাধারণ ক্রেতারাও গরমের মৌসুমে সুপার পাম অয়েলকে কম দামে সয়াবিন হিসেবেই কেনে বলে জানান খুচরা বিক্রেতারা।

খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম এক বছর ধরে অস্থির হয়ে আছে। দেশীয় আমদানিকারকরাও তাই তেল আমদানির মাধ্যমে লোকসানে রয়েছেন।

>