মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > কোচিং-প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকের এমপিও বাতিল

কোচিং-প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকের এমপিও বাতিল

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পর পর দুই বছর এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৭০ শতাংশের কম হলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও (শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) বাতিল করা হবে। এ ছাড়া কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকের বেতন ভাতা বাতিল হবে।

শিক্ষকদের কর্ম মূল্যায়নে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সনদ, দেশে-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ, অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট বা উৎসাহ বোনাস, পছন্দ অনুসারে উপযুক্ত পোস্টিং প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অদক্ষতা, কর্তব্যে অবহেলা বা মন্দ কাজের জন্য শাস্তি দেয়া হবে। এজন্য একটি আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতোই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা ছুটি ভোগ করবেন। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পদায়ন ও অবস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিশেষ ভাতা দেয়া হবে। এমন বিধান রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ‘শিক্ষা আইন-২০১৩’ এর খসড়া। জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই আইন প্রণয়ন করছে।

৬৫টি ধারা সংবলিত ২৫ পৃষ্ঠার খসড়া আইনে আরো বলা হয়েছে, শিক্ষার মান উন্নয়নে গাইড বই, নোট বই, প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুখস্থবিদ্যা নিরুৎসাহিত করতে সব পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে নেয়া হবে। পরীক্ষা পাসের সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মা-বাবার উভয়ের নাম উল্লেখ থাকবে।

নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, জাতীয়করণ, এমপিও প্রদান ও পরিচালনা সম্পর্কে শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি, জনবল কাঠামো এবং বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও মন্ত্রণালয় বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিপত্র বা নীতিমালা এবং নির্দেশিকার অধীনে প্রদান করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও একটি সরকারি কলেজ নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা জাতীয়করণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আদালতের আদেশ ছাড়া স্থগিতকৃত এমপিওর কোনো বকেয়া প্রদান করা হবে না। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে মামলা বা অন্য কোনো কারণে এমপিও উত্তোলন সম্ভব না হলে পরে বকেয়া হিসেবে এমপিওর টাকা উত্তোলন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আর্থিক দায়-দায়িত্ব বহন করবে।

খসড়া শিক্ষা আইনে আছে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে পরিচালিত হবে। শিক্ষার প্রয়োজনীয় অর্থায়নে জাতীয় বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকে বিকল্প অর্থায়ন উৎসাহিত করা হবে। কোনো করদাতা শিক্ষা খাতে অর্থ সাহায্য করলে তাকে কর রেয়াতযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা হবে। আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থসংস্থানের বিষয়ে স্থানীয় সরকারের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।

দেশে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। যার লক্ষ্য হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক এবং মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। স্থায়ী শিক্ষা কমিশন জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নে সরকার ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। শিশুর শিক্ষা অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দলিলাদির ওপর গবেষণা, শিক্ষা বিষয়ে আন্তর্জাতিক দলিল অনুসমর্থন বা স্বাক্ষর প্রদানে সরকারকে পরামর্শ দেবে শিক্ষা কমিশন।

>