বুধবার , ৩রা মার্চ, ২০২১ , ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৮ই রজব, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > কোটাবিরোধী ভাঙচুরকারীরা চাকরি পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

কোটাবিরোধী ভাঙচুরকারীরা চাকরি পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাম্প্রতিক কোটাবিরোধী আন্দোলনে যারা ভাঙচুর চালিয়েছেন, পিএসসিসহ অন্য কোথাও তাদের চাকরি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের ছবি সংরক্ষণ করে পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। ছবি দেখে দেখে ভাইভা নেয়া হবে। তাদের পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চাকরি হবে না। এমনকি অন্যে কোথায়ও চাকরি হবে না। তারা কিসের মেধাবী? যারা মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে খাটো করে দেখতে চায়, গাড়ি ভাঙচুর করে, তাদের চাকরি পাওয়া অধিকার নেই।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসবভন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ হওয়ায় আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিকে তারা ওই ফলাফল বাতিলের দাবি জানালেও পরবর্তী সময়ে এ আন্দোলন কোটাবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভাঙচুর চালান কোনো আন্দোলনকারী। তাদের উদ্দেশেই এমন কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কোটা পদ্ধতি নিয়ে আন্দোলন করছে। মেয়েদের কোটা দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কিসের আন্দোলন? মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধারা যদি ঝুঁকি না নিয়ে দেশ স্বাধীন করতেন, তাহলে পাবলিক কমিশন সার্ভিস চালুই হতো না। তাদের অবদানকে খাটো করার জন্য কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? মেবাধী ছাত্ররা গাড়ি পোড়ায় না। উচ্ছৃঙ্খল হতে পারে না। এরা কি চাকরি পাওয়া যোগ্য? তাদের যারা উসকানি দিচ্ছে, তারা কি আগামীতে রাজাকার-আল বদর কোটা দিয়ে দেশ চালাবে?”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশের সুযোগ আওয়ামী লীগই করে দিয়েছে। বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আন্দোলন করে অন্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। যারা গাড়ি ভাঙচুর করে, স্থাপত্য ভাঙচুর করে তারা কতটুকু মেধাবী? তাদের মেধা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আমার এ কথার পরে অনেকেই অনেক প্রতিক্রিয়া করতে পারেন।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দেশে এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”

যুদ্ধাপরাধীর রায় নিয়ে বিএনপির নীরবতায় সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “সমগ্র জাতি যেখানে বিচার চায়, তখন বিচার চায় না শুধু একটি দল, তার নাম বিএনপি। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায় দিচ্ছেন, দেশের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করছে,  সেখানে বিএনপি উচ্চবাচ্য করছে না। ক্রমান্বয়ে তারা যুদ্ধাপরাধীদেরই সমর্থন করছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধে যারা হরতাল দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে হত্যার সঙ্গে জড়িত জাতি তাদের বিচার করবে।”

তিনি বলেন, “যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, রমজান মাসে তারা অপরাধীর রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দেয়। অপরাধীর বিচার হবে। সংবিধান মানলে বিচার মানতে হবে। রায়ের সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করতে পারবে। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দেয়া আরেক ধরনের অপরাধ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে অগ্রগতি অর্জন করছে। নারীরা এখন সবক্ষেত্রে বিচরণ করছে। তখন নারীদের নামে নানা কর্থা শুনতে হয়। ধর্মের নামে নারীদের সাফল্যকে পিছনে ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভবিষতে আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না এসে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত ক্ষমতায় আসে তাহলে লাখ লাখ নারী গার্মেন্টস কর্মী চাকরি হারাবেন। রিক্ত হাতে ফিরে যাবেন। হাজার হাজার যুবক কর্মসংস্থান হারিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নেবেন। হাওয়া ভবনের মতো অন্য একটি ভবন তৈরি করে দেশকে অকার্যকর করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হবে। বিনামূল্যে বই দেয়া বন্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করে।”

গাজীপুরসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ এবং দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক আহ্বান করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। সংসদ উপনেতা সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহসহ বেশিরভাগ নেতাই এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন শেখ হাসিনা। জানা গেছে, ওই বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের করণীয় এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হবে

>