বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > কড়া নাড়ছে নব প্রজন্ম

কড়া নাড়ছে নব প্রজন্ম

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের আগমনী বার্তা। উত্তরাধিকারের রাজনীতির দুই মেরুতে দুই নেত্রীর দুই পুত্র তাদের আগমনী বার্তা জানান দিয়েছেন দেশে-বিদেশে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একদিকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিষেক, অন্যদিকে বিরোধী দল রয়েছে তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায়। বর্তমান এবং সাবেক এ দুই প্রধানমন্ত্রীপুত্রকে নিয়ে হঠাৎই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

বঙ্গবন্ধুর নাতি, প্রয়াত পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান রাজনীতির ক্ষেত্র, অন্যভাবে বললে, দলকে নেতৃত্ব দেবার লক্ষ্য সামনে রেখে নিজেদের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন। জয় বিদেশ থেকে সস্ত্রীক দেশে এসে, আর তারেক বিদেশে বসে।  বিদেশে বসেই দলের কাণ্ডারির ভূমিকায় নামতে হচ্ছে তাকে।

সজীব ওয়াজেদ জয় ও তারেক রহমান—এ মুহূর্তে এই দুজনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে রাজনীতি। তাদের নিয়েই সরগরম এখন রাজনীতির চেনা অঙ্গন। জয়-তারেকের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলছে। এককথায় দুই নেত্রীর ওপর থেকে ফোকাসটা এখন অনেকটাই সরে গেছে তাদের পুত্রদের দিকে।

সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সদস্য। ২০১০ সালে রংপুর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ পান। এর বাইরে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাও তিনি। সম্প্রতি গণভবনে রংপুর আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জয়কে রংপুর-৬ আসনে প্রার্থী করার দাবি ওঠে। নির্বাচনে কোনো দলের প্রার্থী হতে হলে ওই দলের সঙ্গে কমপক্ষে তিন বছর সংশ্লিষ্ট থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই মধ্যে জয়ের জন্য এ বাধা অপসারিত হয়েছে।

১৯৭৫ সালে নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর তখন শিশু আর আজ তরুণ সমাজের প্রতিনিধি সজীব ওয়াজেদ জয় মায়ের সঙ্গে জার্মানি-লন্ডন হয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন করেন। সবশেষ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসনে পড়াশোনা। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক একজন সিনেটরের কন্যা ক্রিস্টিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক।

তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর পেশা হিসেবে ব্যবসাকে বেছে নেন। বগুড়ায় বিএনপির সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে তারেক রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। ২০০২ সালে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এরপরই সারাদেশে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক গণসংযোগ করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারান্তরীণ থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সব মামলায় তিনি জামিন পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লন্ডনে যান। বর্তমানে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জায়েমা রহমানকে নিয়ে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের কিংস্টোনে বসবাস করছেন।

গত ২৩ জুলাই বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগের ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখেন জয়। বক্তব্যে জয় বলেন, আমার কাছে তথ্য আছে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জিতবে। জয়ের এ বক্তব্যে ‘কুটিল ষড়যন্ত্রের’ ইঙ্গিত দেখতে পায় বিএনপি। এরপর ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে চলতে থাকে সংবাদ সম্মেলন, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য।

তবে জয়ের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী বক্তব্যের মতো ‘উদ্দীপনামূলক’ বলে মনে করছে যুবলীগ।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জয়ের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, দলের নিষ্ক্রিয় কর্মীদের সক্রিয় করতে পারলে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে বলেই জয় বোঝাতে চেয়েছেন। জয়কে নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্য নিতান্তই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক, অনাকাক্সিক্ষত ও দুর্ভাগ্যজনক বলে জানানো হয়।

উভয় দলের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জয়ের কথাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা বরাবরই ষড়যন্ত্র করে অভ্যস্ত তারাই জয়ের কথায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে।

জয়ের বক্তব্যের আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৫ জুলাই তারেক রহমান লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে উন্নয়নের সাত দফা রূপরেখা তুলে ধরেছেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা, কৃষিখাত, শিল্পায়ন, পরিবেশ ও পর্যটন শিল্প, রাজধানীর যানজট নিরসন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, পরিবর্তনের রাজনীতির স্বার্থে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের হাতে আগামী নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য একটি প্রার্থী তালিকা দিয়ে আসেন।

লন্ডনের চিকিৎসাধীন থাকা তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কিছুদিন লাগবে। চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনলাইন শাখায় আইন বিভাগে পড়াশোনা করছেন বলেও জানানো হয়। বিভিন্ন দেশের সংসদীয় পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিসহ বিশ্বায়ন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। নভেম্বরে তার দেশে ফেরার গুঞ্জন রয়েছে।

জয়ের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনা নানাভাবে সহযোগিতা করে চলেছেন। সমান্তরালে খালেদা জিয়াও তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতার যোগান দিচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন প্রণীত ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের প্রাধান্যেরই বার্তা পাওয়া যায়। কমিশনের তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ২৩ লাখ নতুন ভোটার তালিকায় যোগ হচ্ছে, যাদের সবাই তরুণ। ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশই নতুন প্রজন্মের। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্বেও নতুন প্রজন্মের অভিষেক মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়।

ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তনে রাজনীতিতে, সংসদে, মন্ত্রিসভায় আগমন ঘটেছে নব প্রজন্মের প্রতিনি

>