সোমবার , ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ , ১১ই মাঘ, ১৪২৭ , ১১ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > সারাদেশ > গাজীপুরে ভাড়াটিয়াকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেফতার ৩

গাজীপুরে ভাড়াটিয়াকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেফতার ৩

শেয়ার করুন

সাদিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুরে সদর উপজেলায় ভাড়াটিয়া কিশোরীকে বাড়ির মালিক কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাকরির খোঁজে আসা ভুক্তভোগী জয়দেবপুর থানাধীন ভৌরাঘাটা এলাকায় মৃত গিন্দু সিকদারের পুত্র আলী সিকদারের (২৫) বাড়িতে ভাড়া থাকাকালীন লোকজনের অনুপস্থিতিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কুপ্রস্তাবে সারা না দেওয়ায়, আসামি আলী তার প্রস্তাবে রাজি না হলে চাকরি করতে দেবে, অন্য কোথাও ভাড়া থাকতে দেবেনা মর্মে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এরই জের ধরে গত শনিবার রাত ১০টা নাগাদ ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়, ভুক্তভোগী নানা ভাবে বোঝানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বকভাবে ধর্ষণ চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে লোকজনের ভয়ে আসামী আলী সিকদার তার বাড়ির আরো দুই ভাড়াটিয়াসহ মোট চারজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীর গলাচেপে ধরে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মোটর বাইক মারফত দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে। পথে সাহসী এক যুবকের বাধার মুখে ভুক্তভোগী রক্ষা পান। ভুক্তভোগী বিচার চাওয়ার চেষ্টা করলে আসামীরা ভুক্তভোগীকে খুন যখমের সহ মিথ্যা মামলা দিয়ে সর্বস্বান্ত করার ভয় দেখায়।

ঘটনা মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগী জয়দেবপুর থানায় ৪জনকে আসামি করে মামলা (নং-০৮, তাং ১০/০১/২০২১) করেন। এ মামলার আসামীরা হলেন ভোরঘাটা এলাকার গিন্দু সিকদারের পুত্র আলী সিকদার (২৫), ভবানীপুরের ওমর ফারুকের পুত্র জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (২৪), জামালপুর জেলা মাদারগঞ্জ থানা দক্ষিণ চড় এলাকার আলম বেপারীর পুত্র আবু বক্কর সীমান্ত (২০), নেত্রকোণা জেলা মোহনগঞ্জ থানা কুশুমা গ্রামের নিপেন্দ্র চন্দ্র দাশের পুত্র রাজন চন্দ্র দাশ (১৯)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মামলার আসামী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, আবু বক্কর সীমান্ত ও রাজন চন্দ্র দাশকে গ্রেফতার করে। তবে মামলার প্রধান আসামী বাড়ির মালিক আলী সিকদার এখনো পলাতক।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, আমরা ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন (সংশোধনী) ২০০৩ এর ধর্ষণ চেষ্টা ও সহায়তা আইনে মামলায় ৩ জনকে গ্রেফতার করে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়।

>