শনিবার , ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > ভ্যারাইটিজ > গাজীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ক্ষুদে উদ্যোক্তা সাইদুলের গল্প

গাজীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ক্ষুদে উদ্যোক্তা সাইদুলের গল্প

শেয়ার করুন

সাদিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর: শৈশবে যত মধুর স্মৃতি আছে তার মাঝে দোকান দেওয়াটা অন্যতম। তবে সেই দোকান সকালে গড়লে ভেঙ্গে ফেলতাম বিকালেই, সেই খেলার ছলেই যে হয়ে ওঠা যায় ক্ষুদে উদ্যোক্তা তা আমরা হয়তো ভাবতেই পারিনা। ষষ্ঠ শ্রেণীর সাইদুল ইসলাম এই স্বপ্নকে বুকে ধরে গড়ে তুলেছেন ছোট্ট একটি দোকান, সাড়া জাগিয়েছেন হাজারো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মনে।

সাইদুল ইসলাম নবি হোসেন ও হেনা আক্তারের একমাত্র সন্তান, লেখাপড়া করেন বাঘের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে, বয়স মাত্র ১২ বছর, খেলার ছলে মাত্র পাঁচশত টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে চার সপ্তাহে মুলধন দাড় করিয়েছেন প্রায় পনের’শ টাকায়। বিকেলে তার সম-বয়স্ক অনেক ছেলে মেয়েই তার দোকান দেখতে আসে, চলার পথে রিক্সা চালকেরা একটু প্রশান্তি পেতে বসে এক কাপ ঘরোয়া স্বাদের রঙ চায়ে চুমুক দেন। প্রথমে শুধু চিপস, চকলেট আর চা নিয়ে শুরু করলেও, ক্রেতার ব্যাপক চাহিদার কারনে দোকানে সংযুক্ত হয়েছে সিগারেট, রুটি, কলা, কেক ও অন্যান্য।

গাজীপুর জেলার ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের বাঘের বাজার পালপাড়া চলতি পথে সাইদুলের ছোট্ট দোকান চোখে পরবে। সংবাদ সংগ্রহের ছলে এক বিরতিতে এক কাপ চা আর সাথে তার মিস্টি আপনাকে নিয়ে যাবে শৈশবের মধুর স্মৃতির পাতায়।

দিনে কত টাকা বিক্রি হয় মুনাফা কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দিনে তিন-চাইর’শ বেচা হয়, এর মধ্যে দুই’শ বা আইড়াই’শ লাভ হয়”। তিনি আরো বলেন, ” স্কুল বন্ধ আব্বা-আম্মায় চাকুরী করে, সারাদিন বাড়িতে একা একা ভাল লাগে না, তাই ছোট্ট দোকান দিয়েছিলাম খেলার জন্য, এখন মা চা বানায় ফ্লাক্সে ভইরা দিয়া যায়, আমি সাড়াদিন বেচি”।

তবে নিঃসন্দেহে সাইদুল একজন ক্ষুদে উদ্যোক্তা, তার কাছে শেখার আছে অনেক কিছুই, প্রতিটি উদ্দোক্তাই দেশের অমুল্য সম্পদ। আসুন আমরা স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা করি।

>