মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > গাজীপুর সিটি নির্বাচন এরশাদের সঙ্গে আজমত উল্লার বৈঠক

গাজীপুর সিটি নির্বাচন এরশাদের সঙ্গে আজমত উল্লার বৈঠক

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা। আজ সোমবার সকাল পৌনে নয়টায় রাজধানীর বনানীতে এরশাদের বাসায় এ বৈঠক হয়।
বৈঠকের বিষয় জানতে চাইলে আজমত উল্লা বলেন, ‘আমি এরশাদ সাহেবের বাসায় গিয়েছিলাম। তাঁর কাছে দোয়া চেয়েছি। তিনি আমাকে দোয়া করেছেন।’
জাতীয় পার্টি আপনার পক্ষে নামছেন কি না, জানতে চাইলে আজমত উল্লা বলেন, জাতীয় পার্টি এ ব্যাপারে ঘোষণা দেবে।
এরশাদের বরাত দিয়ে তাঁর প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় জানান, প্রকাশ্যে কাউকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি করলে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন হবে। এরশাদ আজমত উল্লাকে বলেছেন, ‘তুমি একজন ভালো ক্যান্ডিডেট। দোয়া করি, তুমি ভালো করবে।’ বৈঠকে আজমত উল্লার সঙ্গে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম, আবদুস সাত্তার ও টঙ্গীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সুনীল।
টঙ্গী পৌরসভার ১৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা আজমত উল্লা খান এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী। ১৫ বছর ধরে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকায় সংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মীও তাঁর সঙ্গে আছেন। কিন্তু জাতীয় বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার সমালোচনা তাঁকে শুনতে হচ্ছে।
সদ্য অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশনে পরাজয়, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও নাটকীয়তা এবং বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে হেফাজতে ইসলাম, এমনকি ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সক্রিয় প্রচারণা আওয়ামী লীগকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। এতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একা হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল।
বিএনপির পক্ষে হেফাজতের দাঁড়ানোর বিষয়টি আওয়ামী লীগ স্বাভাবিকভাবে নিলেও জাতীয় পার্টিকে পাশে না পাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না সরকারি দলটি। এরশাদ মহাজোটে থাকায় ও বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানের সঙ্গে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মাহমুদ হাসানের দ্বন্দ্ব থাকায় আওয়ামী লীগ ধরে নিয়েছিল, জাতীয় পার্টিকে তারা পাশে পাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি উল্টো। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এরশাদের বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের নেতারা ভেবেছিলেন, জাতীয় পার্টি তাঁদের পাশে আসবে। কিন্তু শনিবার জেলা ও পৌর জাতীয় পার্টির সব নেতা বৈঠক করে মান্নানের পক্ষেই তাঁদের অবস্থান ঘোষণা করেন। আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে দলটির এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান বেলা ১১টায় বলেন, ‘সকালে কার সঙ্গে কী বৈঠক হয়েছে, তা আমি জানি না। আমি আগেও বলেছি, আমাদের অধিকাংশ নেতা-কর্মী বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। আর আমি এ নির্বাচনে কাউকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেব না। আমি এখনো আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি।’

>