মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > গোলহীন নেইমার, পিষ্ট সান্তোস

গোলহীন নেইমার, পিষ্ট সান্তোস

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ব্রাজিলের কাব সান্তোসকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করে জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফি জিতেছে স্প্যানিশ কাব বার্সেলোনা। ৪৮তম টুর্নামেন্টে এটি বার্সেলোনার ৩৬তম শিরোপা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটিই বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে একই দিনে অভিষেক হলো তাদের নতুন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার ও কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর। দিনটি মার্টিনোর জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল নেইমারের জন্য। ন্যু ক্যাম্পে নিজের জাত চেনানোর তাগাদা ছিল এদিন তার। আর প্রতিপরে বিবেচনায় স্মৃতিময় একটি ম্যাচ ছিল নেইমারের। তার বেড়ে ওঠা সাবেক ব্রাজিলিয়ান কাব সান্তোস ছিল এদিন তার প্রতিপ। বার্সেলোনার হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই তার সাবেক কাবের মুখোমুখি হতে হলো এই ব্রাজিল তারকার। নিজের প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ডের কাব লেচিয়ার বিরুদ্ধে খেললেও বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলা হয়নি তার। তবে এদিনই প্রথমবারের মতো একই দলের হয়ে পাশাপাশি এ দুই তারকাকে দৌড়াতে দেখল ফুটবল বিশ্ব। আর তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৫ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধে নেইমার মাঠে নামার মাত্র ১৫ মিনিট পর মাঠ ছাড়েন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময় মাঠে থেকেও সাবেক কাবের বিরুদ্ধে কোন গোলের দেখা পাননি ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার। কিন্তু সেস ফ্যাব্রিগাসকে দারুণ একটি গোল করার বল যোগান দিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। এর আগে একটি দারুণ শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে না চলে গেলে সাবেক কাবের বিরুদ্ধে বার্সেলোনার হয়ে ব্যক্তিগত প্রথম গোলের দেখা পেয়ে যেতেন নেইমার।
নেইমার দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে ওঠে পুরো ন্যু ক্যাম্প। হর্ষধ্বনি আর করতালি দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নেয় বার্সেলোনার সমর্থকরা। তবে একই সঙ্গে সাবেক সমর্থকদের দুয়ো ধ্বনিও শুনতে হয়েছে তাকে। নেইমার বিড়ম্বনায় পড়েন মাঠে নামার একটু পরই। সান্তোসের লোগো সংবলিত জার্সি গায়ে দেয়া এক সমর্থক দৌড়ে মাঠে নেমে যান। নেইমারকে মাঠের বাইরে বের করে আনার জন্য চিৎকার করতে থাকেন তিনি। তুমি এখানে কেন, তুমি এখানে কেন, বলে চিৎকার করতে থাকেন ওই সমর্থক। নিরাপত্তারী কর্মীরা তাকে বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে আসেন তারা। দুই নায়কের উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সান্তোসকে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতে নেয় বার্সেলোনা। খেলার ৭ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
তিন মিনিট পর লিওর আত্মঘাতী গোলে স্বাগতিকদের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বিরতিতে যাওয়ার আগে অ্যালেক্সিস সানচেজ ও পেদ্রোর গোলে বার্সেলোনা ৪-০-তে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে সেস ফ্যাব্রিগাস করেন জোড়া গোল। ৬৮ মিনিটে তার দ্বিতীয় গোলটির বল যোগান দেন নেইমার। আরও দু’বার সান্তোসের জালে বল জড়ান আদ্রিয়ানো (৭৫) ও জিন ম্যারি ডংগু (৮৩)। ৮ গোলের ম্যাচে কোন গোল করতে না পারলেও হতাশ নন নেইমার। বলেন, গোল করতে না পারায় আমি চিন্তিত নই। বার্সেলোনার হয়ে এখানে খেলাই অনেক কিছু। সেস, জাভি ও মেসিদের সঙ্গে খেলতে পারাটা দারুণ একটি ব্যাপার।

>