শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > তথ্যপ্রযুক্তি > চলে গেলেন মাউসের জনক অ্যাঞ্জেলবার্ট

চলে গেলেন মাউসের জনক অ্যাঞ্জেলবার্ট

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥ ছোটবেলা থেকে আপনি কম্পিউটারের সঙ্গে একটি মাউস ব্যবহার করছেন। কখনও মাউসকে কম্পিউটারের ইঁদুর আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এই মাউসের প্রযুক্তি কার মাথায় সর্বপ্রথম আসে? ডগলাস কার্ল অ্যাঞ্জেলবার্ট সর্বপ্রথম কম্পিউটার মাউস তৈরি করেন। তাকে কম্পিউটার মাউসের আবিষ্কারক বলা হয়ে থাকে। এই আবিষ্কারক ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় তিনি নিজ বাসায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে স্টেট কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়ামকে ই-মেইলে জানিয়েছেন তার মেয়ে ক্রিস্টিনা। ক্রিস্টিনা জানান, তার বাবা অনেকদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি ঘুমের মধ্যেই মারা যান।
১৯২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি অরিজন রাজ্যের পোর্টল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন ডগলাস। তার বাবা ছিলেন একজন রেডিও মেকানিক এবং মা গৃহিণী। ওরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পড়াশোনা করা ডউগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাডার টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে নাসার পূর্বসূরি নাকাতেও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে ডক্টরেট করার জন্য সে চাকরি ছেড়ে দেন ডউগ। ক¤িপউটারকে মানবজ্ঞান বৃদ্ধিতে ব্যবহারের ওপর গবেষণা করতে স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটে (এসআরআই) যোগ দেন এ গবেষক। পরবর্তী সময়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত অগমেন্টেশন রিসার্চ সেন্টারে এ নিয়ে অধিকতর গবেষণা চালাতে থাকেন তিনি।
তবে মাউস উদ্ভাবন করেও তা থেকে তেমন কোনো অর্থ পাননি ডউগ। কারণ ১৯৮৭ সালের আগেই শেষ হয়ে যায় তার পেটেন্টের মেয়াদ। তখনও অতি প্রয়োজনীয় এ যন্ত্রের ব্যবহার ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েনি। ১৯৮৩ সালে ৪০ হাজার ডলার বিনিময়ে অ্যাপলকে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয় এসআরআই। এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটিরও বেশি মাউস বিক্রি হয়েছে। ১৯৬০ সালে কাঠ আর দুটি চাকা দিয়ে ক¤িপউটারের মাউস তৈরি করে প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাডার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করা ডগলাস। জানা যায়, ১৯৬০ সালে প্রথম অ্যাঞ্জেলবার্ট এক টুকরো কাঠে মোড়া দুটি লোহার হুইলকে কম্পিউটার মনিটরে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। যা অনেক পরে আধুনিক মাউসে রূপ নেয়। এরপর ১৯৬৮ সালে অ্যাঞ্জেলবার্ট সর্বপ্রথম কম্পিউটার মাউসের ডেমো প্রদর্শন করেন। তার গবেষণাগারের সহায়তায় চালু হয় আরপানেট; যেটিকে ইন্টারনেটের পূর্বসূরি হিসেবেই জানে সবাই। ১৯৬৮ সালে সানফ্রান্সিসকোয় এক সম্মেলন করে প্রথম মাউসের ব্যবহার দেখান ডউগ। ওই সম্মেলনেই টেলিকনফারেন্সিং ও টেক্সটভিত্তিক লিংক স¤পর্কে নিজের ধারণা উপস্থাপন করেন তিনি। শুধু মাউস নয়, তার জীবদ্দশায় তিনি কম্পিউটার সম্পর্কিত আরও অনেক কিছুর ধারণা দিয়েছেন যেগুলো এখন কম্পিউটারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বিবেচনা করা হয়। নিত্যদিনের ব্যবহার্য এ জিনিসগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিডিও কনফারেন্সিং, ওয়ার্ড প্রসেসিং, হাইপারটেক্সট এবং কোলাবরেটিভ এডিটিং। তার গবেষণার ফসল আমাদের বর্তমান কম্পিউটারের গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস। উল্লিখিত এসব প্রযুক্তি তিনি ৯ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে ডেমো হিসেবে প্রদর্শন করেন। যা ‘দ্যা মাদার অব অল ডেমোস’ হিসেবে পরিচিত। উপরে উল্লিখিত সব কিছুই তিনি ৯ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে ডেমো হিসেবে প্রদর্শন করেন। যা ‘দ্য মাদার অব অল ডেমোস’ হিসেবে পরিচিত। ইউটিউবে এ বিষয়ের ভিডিওটি দেখুন যঃঃঢ়://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?ভবধঃঁৎব=ঢ়ষধুবৎ-বসনবফফবফ্া=ুঔউা-ুফযুগণ এই ঠিকানায়। অ্যাঞ্জেলবার্ট শুধু মাউসেরই জনক নয় সেই সঙ্গে ইমেইল, ওয়ার্ড প্রসেসিং, ভিডিও টেলিকনফারেন্স প্রযুক্তি নিয়েও বেশকিছু দিন শুরুর দিকে কাজ করেছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমান ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থারও নকশাবিদ।

>