শুক্রবার , ১৫ই জানুয়ারি, ২০২১ , ১লা মাঘ, ১৪২৭ , ১লা জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > চুইঝালের বাণিজ্যিক চাষ, ভাগ্য ফেরাতে পারে লালমনিরহাটের কৃষকদের

চুইঝালের বাণিজ্যিক চাষ, ভাগ্য ফেরাতে পারে লালমনিরহাটের কৃষকদের

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ॥
লালমনিরহাট: চুইঝাল গাছ হয়তো অনেকে চিনেন না। চুইঝালকে লালমনিরহাটের স্থানীয়রা চিনেন ‘চইপান’ নামে। উত্তরাঞ্চলের ঝাড় জঙ্গলে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠা সেই চুইঝাল এখন স্থান করে নিয়েছে কৃষকের বাগানের গাছগাছালিতে। সম্প্রতি কদর বেড়েছে চুইঝালের। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিদিনই দলে দলে পাইকাররা ছুটছেন চুইঝালের সন্ধানে। চুইঝালকে কৃষকদের ভাগ্য বদলের নতুন সেনসেশন বলে মনে করছেন তারা।

চুইঝাল অন্য গাছের সাথে আশ্রয় নিয়ে বেড়ে উঠে। তাছাড়া মাটিতে লতানো ফসল হিসেবেও বেড়ে তাদের বৃদ্ধি ঘটায়। মোটামুটি সব গাছের সাথেই বাড়ে। এর মধ্যে আম, কাঁঠাল, মেহগনি, সুপারি, শিমুল, নারিকেল, মেহগনি, কাফলা (জিয়ল) গাছে ভালো হয়। আবার আম, কাফলা ও কাঁঠাল গাছে বেড়ে ওঠা চুই সবচেয়ে বেশি ভালোমানের বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চুইঝালের বাণিজ্যিক চাষের ব্যাপক সম্ভাবনার বিষয়টি। জেলার ৫টি উপজেলাতেই ব্যক্তি উদ্যোগে হয়ে আসছে এর চাষ। তবে তা সীমাবদ্ধ রয়েছে বসতভিটায় লাগানো সুপারি, আম, কাঠাল বা অন্য কোনো গাছেই। এমন চুই চাষের দেখা মিলেছে আদিতমারীর দেওডোবা এলাকার শিক্ষক পংকজ কান্তি রায়, কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়ায় পলাশ চন্দ্র ও তাঁর আশেপাশের বাড়ীতে এবং গোড়লের মোজাম্মেল হক সহ অনেকের বসতভিটায়।

এ ছাড়াও চুইঝাল চাষের খোঁজ মিলেছে পঞ্চগ্রাম, মেঘারাম, ভেলাবাড়ী, ভোটমারী, দইখাওয়া, বড়খাতা সহ প্রায় সকল গ্রাম এলাকাতেও। এক সময়ের পান চাষের জায়গাটি দখল করে নিতে যাচ্ছে স্থানীয় ভাষার এ চইপান বা চুইঝাল। উদ্যোগ দেখা গেছে ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ীদেরও। তারা বর্গা কিংবা চুক্তিভিত্তিক চুইঝালের চারা লাগিয়ে চলছেন কৃষকদের গাছবাগানে। এমনই পান ব্যবসায়ী চুইঝালচাষী গোড়লের আব্দুল হাকিম, উত্তর শ্রুতিধরের হাসানুর রহমান এবং দক্ষিণ মুসরত মদাতী গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র রায়।

>