সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > চূড়ান্ত হয়নি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি সংক্রান্ত নীতিমালা

চূড়ান্ত হয়নি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি সংক্রান্ত নীতিমালা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রদেয় বিভিন্ন ফি-সংক্রান্ত নীতিমালা ১০ মাসেও চূড়ান্ত হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে নীতিমালাটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

এদিকে এইচএসসির ফল প্রকাশ হওয়ায় বছরের দ্বিতীয় সেশনে (শরৎ) ভর্তির তারিখ এরই মধ্যে ঘোষণা করতে শুরু করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। চলতি মাসের শেষ দিকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করবে তারা। নীতিমালা না থাকায় এ বছরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছামতো ফি আদায় করবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছামতো ভর্তি ও অন্যান্য ফি আদায় করে। নীতিমালা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া যায় না। তবে নীতিমালা করতে আমরা চেষ্টা করছি।’ ইউজিসির একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করা জরুরি উল্লেখ করে গত বছরের অক্টোবরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠায় ইউজিসি। কিন্তু মন্ত্রণালয় এখনো তা চূড়ান্ত করেনি। শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, নীতিমালার কাজ চলছে। তবে কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে প্রতি বছরই ভর্তির সময় ইউজিসির কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে লিখিত অভিযোগ আসে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুসারে ভর্তি ফি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে রাখতে বেশ কয়েকবারই নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা মানছে না। এ অবস্থায় ইউজিসি আবারো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি আদায়-সংক্রান্ত নীতিমালা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ পাঠাবে বলে জানা গেছে।

গত বছর পাঠানো ইউজিসির সুপারিশে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, টিউশন ফি এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট ও প্রশংসাপত্র ইত্যাদি সরবরাহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চহারে ফি নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছরই সব ফি বাড়ায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সহজলভ্য ও সব শ্রেণীর জন্য উন্মুক্ত রেখে এবং মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের পথ আরো সুগম করতে শিক্ষার্থীদের প্রদেয় বিভিন্ন ফি ও চার্জ সহনীয় পর্যায়ে রাখা অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করে ইউজিসি।

রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের হিসাবে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী শীর্ষ ২০টি বিষয়ে পড়াশোনার খরচ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। এই বছর এ খরচ আরো বাড়তে পারে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) পড়তে খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা, মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ১ লাখ থেকে তিন লাখ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইসিই) ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়।

>