বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > খেলা > চ্যালেঞ্জের মুখে খাজা রহমতউল্লাহর দায়িত্ব গ্রহণ

চ্যালেঞ্জের মুখে খাজা রহমতউল্লাহর দায়িত্ব গ্রহণ

শেয়ার করুন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ খাজা রহমতউল্লাহ দায়িত্ব নিলে হকির কোন কর্মকাণ্ডে নেই মোহামেডানসহ প্রিমিয়ার লীগের ৬ কাব। মোহামেডান জোট হকির কোন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করলে অনিশ্চিত চলতি মওসুমের দল-বদল। দল-বদল না হলে খেলোয়াড়দের আন্দোলনের শঙ্কা। এসব চ্যালেঞ্জের মুখেই গতকাল হকির দায়িত্ব নিলেন খাজা রহমতউল্লাহ। অন্তর্র্বতীকালীন সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত হোসেন ডালিম দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন রহমতউল্লাহর কাছে।
হাইকোর্টে মামলা জটিলতার কারণে ২৭শে জুন নির্বাচন হলেও ১৬ দিন পর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হকি ফেডারেশনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কমিটিকে বৈধতা দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। বৈধতা প্রাপ্তির তিন দিন পর গতকাল বিকালে অন্তর্র্বতীকালীন কমিটির কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিলেন সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতুল্লাহ। আগের বার এডহক কমিটির হয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মাত্র দেড় বছরেই হকিতে নতুন জোয়ার এনেছেন। এশিয়ান হকিতে বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় তুলে ধরেছেন তিনি। এবারও তিনি এলেন নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার আগেই বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন খাজা রহমতউল্লাহর কমিটি। দল-বদলের দাবিতে অপোয় থাকা জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও ফুঁসে উঠতে পারেন যে কোন সময়। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য সুখবর দিলেন খাজা রহমতুল্লাহ, ‘চলতি মওসুম থেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন অবকাঠামোর মধ্যে আনা হবে। শুরুতে ২০ থেকে ২৪ জনের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে।’ তাতেই সমাধান হচ্ছে না তাও জানেন নতুন সাধারণ সম্পাদক। কারণ জাতীয় দলের হয়ে খেলে মাত্র ২০-২৪ জন খেলোয়াড়। এর বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের আন্দোলন কিভাবে দমাবেন তিনি। এ ব্যাপারে নতুন সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘দু’বারই আমি দলবদলের সঙ্কট নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসলাম। আগেরবার এসেই আমি দল-বদল দিয়েছিলাম। এবারও তাই হবে। আমার বিশ্বাস খেলোয়াড়দের স্বার্থের কথা ভেবেই কাবগুলো দল-বদলে অংশ নেবে। অনেক সংগঠক রয়েছেন, যারা হকিকে ভালবাসেন। তারা হকির স্বার্থেই দল-বদলে অংশ নেবেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়দের দিয়ে আন্দোলন করানোর এ প্রক্রিয়ায় হকির জন্য ভাল নয়। যে রাস্তাটা তারা দেখাচ্ছেন, এটা মোটেও ঠিক নয়।’ আগস্টে মালয়েশিয়ায় ইপোতে হবে এশিয়া কাপ হকি। সেখানে ভাল করার ল্েয পাকিস্তানি নাভিদ আলমকে কোচ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে রহমতুল্লাহ। হকির ‘ভিশন-২০২২’ প্রসঙ্গ টেনে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এডহক কমিটির দায়িত্ব পালন করার সময় এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এখন নির্বাচিত কমিটি। ভিশন সফল করতে পরিকল্পিত গাইড লাইন তৈরি করব। অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও খেলোয়াড়দের ফ্যাসিলিটিজ বাড়াতে চাই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় স্পন্সররা আসছে।’ তিন লাখ ডলার ব্যয়ে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (আইএইচএফ) দেয়া অ্যাস্ট্রোর্টাফ ও ফাডলাইট স্থাপনে আর্থিক সমস্যা মিটেছে! দেড় লাখ ডলার দিচ্ছে অলিম্পিক সলিডারিটি, ৭৫ হাজার ডলার দিবে আইএইচএফ। বৃহস্পতিবার হকি ফেডারেশন সভাপতিকে বেজমেন্ট নির্মাণে বাকি ৭৫ হাজার ডলার দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আহাদ আলী সরকার। এসব হকির পজিটিভ দিক উল্লেখ করে সবকিছু ভুলে সবাইকে হকির উন্নয়নের জন্য আমি আহ্বান জানাই। একসঙ্গে কাজ করার জন্য সবাইকে প্রয়োজন। আপনারা আসুন। হকির উন্নয়নের জন্য আমরা এক সঙ্গে কাজ করি।’

>