সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ছোট হয়ে আসছে তিতাস

ছোট হয়ে আসছে তিতাস

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া: এককালের ক্ষরস্রোতা তিতাস নদীর সেই বিশালতা আর নেই। প্রাচীনতম জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে গ্রামগঞ্জে সহজে পণ্য পরিবহন আর যাতায়াতে ব্যবহার হতো এ  নদী। এখন এটি ক্রমেই পরিণত হচ্ছে শীর্ণ খালে। এক সময় লঞ্চের শব্দ আর বড় বড় পাল তোলা নৌকার মাঝি-মাল্লাদের ভাটিয়ালি গান আর বাঁশির সুরে ঘুম ভাঙত তিতাসপাড়ের মানুষের। এখন ধারণ করেছে এর ভিন্ন রূপ।
প্রভাবশালীরা এর দু’পাড়ে গড়ে তুলেছে বড় বড় অবৈধ স্থাপনা আর দালানকোঠা। নদীর বিভিন্ন স্থানে পলি আর আবর্জনা জমে শীর্ণকায় হয়ে যাচ্ছে কালজয়ী ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মলবর্মণের তিতাস একটি নদীর নামের সেই তিতাস নদী। এ নদীর প্রবাহিত পানি ব্যবহার করে হাজার হাজার কৃষক ফলাত জমিতে সোনার ফসল। নদী মাছশূন্য হয়ে পড়ায় তিতাসপাড়ের জেলে সম্প্রদায়ের চলছে চরম দুর্দিন। তাদের জীবন-জীবিকায়ও এসেছে পরিবর্তন। এক সময় যে নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বাণিজ্যিক হাট-বাজার, সেই নদীর করুন দশায় তিতাসপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা এখন হুমকির সম্মুখীন।
মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে জেলা শহর ঘেঁষে ৭টি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গিয়ে মেঘনাবক্ষে মিলিত হয়েছে এ তিতাস নদী। নদীর বিভিন্ন অংশে পলি জমে ও ডুবোচরের কারণে নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদী দীর্ঘ দিনেও খনন না হওয়ায় হাজার হাজার একর ধানি জমির ক্ষতি হচ্ছে বছরের পর বছর।
বর্তমান সরকারের শাসনামলের শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত তিতাস নদী পুনঃখননের ঘোষণার দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় মানুষের মনে দেখা দিয়েছে হতাশা। এদিকে নদীর পশ্চিম তীরে জেলা শহর ঘেঁষে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অপ্রয়োজনীয় সেভ প্রটেকশনের কাজ করা হলেও অতি প্রয়োজনীয় নদী পুনঃখনন এখনও অনিশ্চিত।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, তিতাস নদী পুনঃখননের জন্য সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এখনও আসেনি।
দীর্ঘদিনেও তিতাস নদী খননের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় জনতার মাঝে আবারও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। আর এ দাবি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আবারও ফুঁসে উঠছে। তবে আগের মতো স্রোতস্বীনি তিতাস হারিয়ে ফেলা যৌবন আবারও ফিরে পাবে এ আশায় বুক বেঁধে প্রতীক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিগগিরই এ তিতাসপাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী খননের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনসহ স্থানীয় লোকজন।

>