সোমবার , ১লা মার্চ, ২০২১ , ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৬ই রজব, ১৪৪২

হোম > রাজনীতি > জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিতে প্রস্তুত

জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিতে প্রস্তুত

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহাজোট সরকারের দুঃশাসন ও দুর্নীতির জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন
খালেদা জিয়া। বলেছেন, দেশের দুরবস্থার জন্য মহাজোট সরকারই দায়ী। এ দুরবস্থা থেকে মুক্তির জন্য একটি অবাধ নিরপে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া দরকার। আর ওই নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে মহাজোট সরকারকে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে জনগণ প্রস্তুত। সরকার তাদের অপকর্ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভয় পায়। গতকাল রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের আমলে দেশে কোন উন্নয়ন হয়নি। সরকার চার বছরে কোন ভাল কাজ করেনি। মিথ্যাচার, অত্যাচার ও দুর্নীতি ছিল তাদের মূলনীতি। আগামীতে আমরা মতায় গেলে ব্যাপক পরিবর্তন ও সংস্কার করে নতুন সরকার গঠন করা হবে। বিসিএসের কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রদের দাবি যৌক্তিক। সরকার অন্যায়ভাবে তাদের ছাত্রলীগ ক্যাডারদের দিয়ে মেধাবী শিার্থীদের ওপর হামলা করিয়েছে। ফুটেজ দেখে তাদের ধরার দরকার নেই। এই সরকার এদের চাকরি না দিলেও আগামীতে বিএনপি মতায় গেলে মেধার ভিত্তিতে তাদের সবাইকে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সব প্রতিষ্ঠান সরকার ধ্বংস করেছে। সব জায়গায় দুর্নীতি ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষ কোথাও নিরাপদ নয়। সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে বিদেশীরা বিনিয়োগ করছেন না। জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ প্রায়। আর এসবের কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই এ সরকারের হাত থেকে রা পেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিরোধী নেতা বলেন, সরকার ষড়যন্ত্র করে জাতিকে বিভক্ত করতে চায়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু তারা ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচন কমিশন শক্ত হলে সুষ্ঠু হলে নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু এ নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন ও অথর্ব। তাদের নিজেদের কথা বলার যোগ্যতা নেই। তারা সরকারের কথামতো চলছে। এ কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি ঈদের পর কঠিন আন্দোলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মানুষ, গণতন্ত্র, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রার জন্য ঈদের পর আন্দোলন শুরু করতে হবে। শান্তিপূর্ণ সে আন্দোলন কর্মসূচিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, আবদুল হালিম, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মবিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা শামসুল আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান ও ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি যোগ দেন। ইফতারপূর্ব আলোচনায় ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক আমীর মরহুম মুফতি ফজলুল হক আমিনীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন ১৮ দলের শীর্ষ নেতারা। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

>