বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > রাজনীতি > জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ খালেদার

জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ খালেদার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বসিক) নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল দেখা করতে এলে এ খালেদা জিয়া উপস্থিত নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দেন।
রোববার রাত নয়টার দিকে খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। মেয়র কামাল এ সময় খালেদাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন দান এবং খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপির সব স্তরের নেতারা সহযোগিতা করায় তিনি ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারপারসনসকে।
খালেদা জিয়া বসিক নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করায় বরিশালবাসীকে ধন্যবাদ জানান। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতো বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি প্রধান বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণেই এ বিজয় পেয়েছি। এ বিজয়ে উল্লাস প্রকাশ করে থেমে থাকলেই চলবে না। আগামী দিনের আন্দোলনকে বেগবান করে এ সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করতে হবে। সে সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গণতান্ত্রিক সরকার কায়েম করতে হবে।”
মানুষ এখন পরিবর্তন চায় বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “গত সাড়ে চার বছরে মানুষ কিছুই পায়নি। হত্যা, নির্যাতন, গুম, লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের ভোট দিয়েছে। তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ অভিযোগ করে খালেদা বলেন, “এ অথর্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আমাদের দাবি অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমাদের ফলাফল ভাল হওয়ায় আমরা খুশি হলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। ভোট কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি, হামলা মামলাসহ নানামুখী অন্যায় করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তারা সরকারের নির্দেশে অন্যায় কজে সহায়তা করেছে।”
তিনি দাবি করেন,নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরও বেশি ভোটে বিজয়ী হতো এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হতো।
বাংলাদেশে যতো বড় বড় সেতু হয়েছে সব বিএনপি করেছে দাবি করে এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে যে উন্নয়নের ফিরিস্তি গেয়েছেন তা মিথ্যে। তাদের লুটপাটের কারণেই পদ্মা সেতু হয়নি।
এ সময় বরিশালের শহরের উন্নয়নের জন্য সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য মেয়র কামালকে নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “দলের কেউ দুর্নীতি করেছে তা শুনতে চাই না। আমি চাই সব নেতারা নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কাজ করবেন।” তিনি বলেন, রাজনীতি সেবার জন্য লুটপাটের জন্য নয়।
সাক্ষাতে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধূরী, সেলিনা রহমান, মেজর হাফিজ উদ্দিন, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোশারফ হোসেন শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরওয়ার, মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ এমপি, সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন মঙ্গু, কামাল যে ফোরাম থেকে নির্বাচন করেছেন, সেই বরিশাল নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ডা. আজিজ রহিম, কামালের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক এবায়দুল হক চানসহ বরিশালের সিনিয়র নেতারা।
নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ছিলেন আলহাজ্ব এ কে এম শহীদুল্লাহ, মো. হাবিবুর রহমান টিপু, খায়রুল মামুন শাহীন, গাজী মনোয়ারুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম শহীদ।
গত ১৫ জুনের বসিক নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৪০টি ওয়ার্ড কাউন্সিলার পদের মধ্যে ২৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে।
এদিকে বরিশালের নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল রোববার সকালে গাজীপুর যান। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মান্নানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচরণা শেষে ঢাকায় ফিরে কামাল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

>