সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > জাতীয় নির্বাচনে ধান ঠেকাতে গম ষড়যন্ত্র

জাতীয় নির্বাচনে ধান ঠেকাতে গম ষড়যন্ত্র

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বা বিএনএফ নামে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দল হিসেবে বিএনএফ নিবন্ধন পাক চাইলেও নতুন এই দলটির প্রতীক নিয়েই ঘোর আপত্তি বিএনপির।

বিএনপি মনে করছে, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সরকারির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দৃশ্যপটে আসতে চাচ্ছে বিএনএফ। আরো স্পষ্ট করলে বিএনপির ধান প্রতীকের বিপরীতে গম প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসছে বিএনএফ।

আর এখানেই বিএনপির আপত্তি। তারা দলটির নিবন্ধন ও গমের শীষ প্রতীক নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিএনএফ- কে গমের শীষ প্রতীক ও লগো বরাদ্দ দিয়ে নিবন্ধন দিলে ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে বিএনপি।

বিএনপির সাবেক নেতা আবুল কালাম আজাদের দল বিএনএফ-কে নিবন্ধন ও গমের শীষ প্রতীক না দিতে ইতোমধ্যে তিনবার নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বরাবরই ইসির তরফ থেকে কোনো কিছু যাচাই-বাচাই না করে কাউকে নিবন্ধন বা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

তবে এতে আশ্বস্ত হতে পারছে না বিএনপি। দলটির মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। দলটির নেতারা মনে করেন, গমের শীষ প্রতীক জাতীয় নির্বাচনের ব্যালেটে থাকলে তাদের ধানের শীষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কারণ হিসেবে তারা তুলে ধরছেন, ধানের শীষ আর গমের শীষ দেখতে প্রায় একই ধরনের। বেশিরভাগ অল্প বা অশিক্ষিত ভোটাররা এটার পার্থক্য করতে পারবেন না। বিশেষ করে নারী ভোটাররা। তারা ব্যালটে শুধু প্রতীক দেখে ভোট দেন। সেক্ষেত্রে গমের শীষ প্রতীক ব্যালটের প্রথমেই পেয়ে গেলে আর নিচের দিকে তারা যেতে চাইবেন না।

ফলে ধানের শীষের ভোট গমের শীষে ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে অনেক বেশি। এতে নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে বলেও বিএনপির নেতাদের।

বিএনপির অধিকাংশ নেতা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘বিএনএফের মত ইতোপূর্বে একটি সংগঠন জাহাজ প্রতীক চেয়ে ইসিতে আবেদন করে। ব্যালেট বাক্সে নৌকার মত জাহাজ কিছুটা দেখতে এক হওয়ায় সেই সময় আওয়ামী লীগ তা বাতিল করতে ব্যাপক আন্দোলন করে। পরে নির্বাচন কমিশন জাহাজ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া থেকে বিরত থাকে।’

তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, সেই সময়ে আওয়ামী লীগ যদি জাহাজ প্রতীক মেনে না নিতে পারে, তাহলে আমরা কেন ধানের শীষের মত অভিন্ন গমের শীষ প্রতীক মেনে নেব?

বিএনপি ভাঙতে ও ফলাফলে বিপর্যয় ঘটাতে সরকার ইসিকে ব্যবহার করে বিএনএফ-কে দিয়ে এমন ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার আরটিএনএন- কে বলেন, ‘বিএনপি ভাঙার জন্য যত ধরনের ষড়যন্ত্র প্রয়োজন বিএনএফ তা করছে। আশা করেছিলাম নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কমিশন যা করছে তাও ষড়যন্ত্রেরই অংশ।’

তিনি বলেন, ‘ইসিতে রাজনৈতিক দলের জন্য ১৪০টি প্রতীক আছে। সেখানে গমের শীষ প্রতীক নেই। তাহলে কীভাবে তাদের গমের প্রতীক দেয়ার চিন্তা করছে তারা। বিএনএফ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটা একটি ভুঁইফোড় সংগঠন।’

এমকে আনোয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি ওই ধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে এবং তাদের নিবন্ধন ও গমের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়, তাহলে বিএনপি নির্দলীয় সরকারের সঙ্গে কমিশনারদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনএফ তাদের পোস্টারে বিএনপির লগো, জিয়াউর রহমানের ছবি ও তার ১৯ দফা ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই বিএনএফ সেই বিএনএফ (জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত) নয়। বিএনপিকে ভাঙতে একটি মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ এটি।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গমের শীষ আর ধানের শীষ প্রায় কাছাকাছি। নির্বাচনের ব্যালেটে যদি দুটি প্রতীক থাকে ভোটাররা দিধায় পড়ে যাবে। দেখা গেল ধানের শীষের সমর্থকরা ভুলক্রমে গমের শীষে সিল মারছে। এতে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তন হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনএফ বিএনপির ১৯ দফাকে হুবহু নিজেদের ঘোষণাপত্র করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠা জিয়াউর রহমানের ছবি ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করছে। এই পুরো বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি। তাদের অনুরোধ করেছি বিএনএফ-কে নিবন্ধন ও গমের শীষ প্রতীক বরাদ্দ থেকে বিরত থাকতে।’

বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনএফ- এর প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ আরটিএনএন- কে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের দল বিএনএফ। সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রথমে এই দল গঠন করেন, পরবর্তীতে তা বিএনপিতে রুপ নেয়।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আর্দশ এখন আর বিএনপিতে নেই। দলটি এখন দুর্নীতিবাজ আর সুবিধাভোগীদের দখলে। জিয়ার আদর্শ জনগণের সামনে তুলে ধরতেই বিএনএফ আবার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।’

কালাম বলেন, ‘জিয়ার চেতনা সত্যিকার অর্থে রুপ দিতে শিগগিরই বিএনপির অনেক সাবেক সংসদ সদস্য বিএনএফ- এ সম্পৃক্ত হবেন। আগামী নির্বাচনে আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী  দিব।’

খালেদা জিয়া জীবিত থাকার পরও আপনারা জিয়ার চেতনার সত্যিকার উত্তরাধিকার দাবি করছেন কেন জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একই সঙ্গে সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনএফ বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আবুল কালাম আজাদ অস্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিএনএফ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলে বিএনএফ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে আছেন বিএনপির সাবেক নেতা আবুল কালাম আজাদ ও এলডিপির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম।

>