সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > জাপা’র জরিপে ৬৮ ভাগই তত্ত্বাবধায়ক চায়

জাপা’র জরিপে ৬৮ ভাগই তত্ত্বাবধায়ক চায়

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের ৬৮ ভাগ মানুষ আগামী নির্বাচন নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চায়। পাশাপাশি শতকরা ৫৮ ভাগ ভোটার ভোট প্রদানে নিরাপদ বোধ করেন না বর্তমান সরকারের অধীনে। প্রকাশিত জাতীয় পার্টির দলীয় জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। এ জরিপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া ও জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। জরিপ রিপোর্টে বলা হয়েছে, এইচ এম এরশাদ তুলনামূলকভাবে বেশির ভাগ মানুষের কাছে পছন্দনীয় নেতা। শেখ হাসিনা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের। খালেদা জিয়া সম্পর্কেও একই মতামত দেয়া হয়। যদিও জনপ্রিয়তার এ সূচক নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে দ্বিমত পোষণ করেন জাতীয় পার্টির নেতারা। রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত পার্টির তথ্য উপস্থাপন বিষয়ক সম্মেলনে এ জরিপ প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা ও রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উইং-এর প্রধান ববি হাজ্জাজ এ জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ৭১-এর সংগ্রাম ছিল বঙ্গবন্ধুর। আর ২০১৩ সালের সংগ্রাম এরশাদের। তবে এ জরিপের তীব্র বিরোধিতা করেন পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। এ নিয়ে কয়েক মিনিট হৈ-হট্টগোল হয়। এ অবস্থায় মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বক্তৃতা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, এ জরিপে কোন ভুল হয়ে থাকলে আগামী দিনে তা সংযোজন ও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ সময় চুপচাপ বসেছিলেন। রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, এ জরিপ নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করেছে। আমরা ২৩ বছরে যা করতে পারিনি পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তা করে দেখিয়েছেন। তথ্য উপস্থাপন বিষয়ক সম্মেলনে কয়েকটি ব্যানার টাঙিয়ে তাতে বলা হয় ‘দুই নেত্রীর সময় শেষ, পল্লীবন্ধু গড়বে দেশ’। এতে আরও বলা হয় শতকরা ৮২ ভাগ লোক এরশাদকে, শতকরা ৭৩ ভাগ লোক শেখ হাসিনাকে ও শতকরা ৭২ ভাগ লোক বেগম খালেদা জিয়াকে পছন্দ করেন।
এছাড়া, দেশের বর্তমান অবস্থা, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন সহ সাম্প্রতিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় পার্টির জরিপে। তুলে ধরা হয়েছে রাজনৈতিক দল-নেতা সম্পর্কে মানুষের মতামত ও সংসদ নির্বাচনের েেত্র বিবেচ্য বিষয়গুলো। নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে জরিপে বলা হয় শতকরা ৬৮ ভাগ লোক মনে করে আগামী নির্বাচন নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত, কিন্তু এই সংখ্যাটি বেড়ে শতকরা ৮৩ ভাগে দাঁড়িয়েছে ঢাকাবাসীর েেত্র। তবে শতকরা ৬৪ ভাগ মানুষ মনে করে নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্দলীয় সরকারের অধীনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। আর শতকরা ২৮ ভাগ মানুষ মনে করে বর্তমান সরকারের অধীনেও তা সম্ভব। শতকরা ৮ ভাগ মানুষ এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি। বর্তমান সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয় তাহলে শতকরা ৫৮ ভাগ ভোটার ভোট প্রদানে নিরাপদ বোধ করবে না বলেও জরিপে বলা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শতকরা ২৬ ভাগ মানুষ শিতি হিসেবে ভোট দেন, তবে প্রায় কাছাকাছি সংখ্যক মানুষ শতকরা ২৪ ভাগ সৎ হিসেবে তাকে ভোট দেন। তার ধার্মিক চরিত্রটি ভোট দেয়ার েেত্র প্রথম পছন্দ হলেও শতকরা মাত্র ১৭ ভাগ মানুষ তাকে ধার্মিক হিসেবে ভোট দেন।

>