সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > আন্তর্জাতিক > জিএসপি বাতিলে উন্নতির সুযোগ বাংলাদেশের

জিএসপি বাতিলে উন্নতির সুযোগ বাংলাদেশের

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা বা জিএসপি বাতিলের সিদ্ধান্ত শ্রমমান ও কর্মপরিবেশ তৈরির পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারকে সুযোগ করে দিয়েছে। ঢাকার এই সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।

আগামীতে পুনরায় জিএসপি পেতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। শুক্রবার দুপুরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র তাঁর ওয়াশিংটন ডিসির কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। পোশাকশ্রমিকদের শ্রমমানের দুরাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি বাতিলের একদিন পর প্যাট্রিক ভেনট্রেল এ অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি সিরিয়া, মিশর, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া প্রভৃতি দেশ সম্পর্কেও কথা বলেন।

ভেনট্রেল বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে কিন্তু শ্রমিকদের উপযুক্ত কাজের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে অথনৈতিকভাবে সফল দেশ হিসেবে দেখতে চাই। পোশাকশিল্প বাংলাদেশের মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের হতে সাহায্য করবে। তবে এসব কিছুই হবে উপযুক্ত কর্মপরিবেশে।’

জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জিএসপি সুবিধা দিয়ে আসছে। ১২৭টি দেশের পাঁচ হাজার পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে থাকে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে জিএসপি বাতিল কার্যকর হবে।

প্যাট্রিক ভ্যানট্রেল বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারে। এ জন্য ঢাকার সঙ্গে আমরা অব্যাহতভাবে কাজ করে যাব। কারখানায় অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভবনধসের মতো ভয়াবহ ঘটনা আমরা আর দেখতে চাই না। শ্রমিক অধিকার ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো সফলভাবে মোকাবিলায় ভবিষ্যতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ নিশ্চিত করবে।’

শ্রমমান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘সংগঠিত হওয়ার অধিকার, দর-কষাকষির প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়াসহ শ্রমিক অধিকার ও শ্রমমানের বিষয়ে আমরা উন্নতি দেখতে চাই।’

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) মাইক ফ্রোম্যান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই শুধুমাত্র জিএসপি ফিরিয়ে দেওয়া নয়, বাংলাদেশের শ্রমিকরা নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানের কাজের পরিবেশ পাচ্ছে না সেটাও দেখার বিষয়।’
শ্রম আইন সংশোধন বা পরিবর্তন জিএসপি ফিরে পেতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন ফ্রোম্যান।

সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করছি। প্রয়োজনে সরকারের যে ধরনের সাহায্য চাইবে তাই দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদিও জিএসপির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণেই আমদানি করে থাকে তারপরও আমরা মনে করি এটি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করবে।’

>