শনিবার , ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > খেলা > ‘জিমি’ রহস্যের জট খুলছে

‘জিমি’ রহস্যের জট খুলছে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমির মোবাইলের খুদে বার্তায়  হুমকির রহস্য জট খুলতে শুরু করেছে। কাল-পরশুর মধ্যেই রহস্যের জট পুরোপুরি খোলার ব্যাপারে আশাবাদী ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘র‌্যাব-ডিবি মিলে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে। আশা করছি তারা আমাদের দু’-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিবেন, যা রবি কিংবা সোমবার আপনাদের সামনে প্রকাশ করতে পারবো।’ বিশেষ সূত্রে জানা গেছে খুদে বার্তার নম্বর ধরে তদন্ত শেষ করেছে র‌্যাব।  কে নম্বরটি ক্রয় করেছেন, কোথা থেকে কেনা হয়েছে সবকিছু রয়েছে র‌্যাব’র কাছে। এদিকে র‌্যাব পুলিশের আগেই রহস্যের জট নিজেই খুলে দিয়েছেন জিমি, হুমকির খবর চার দিন পরে ফেডারেশনকে জানালেও মাফ চাওয়ার খবর সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করে। তার এমন ভূমিকায় অনেকেই মনে করছেন হুমকিদাতা জিমির পরিচিত।
গত ১৮ই জুলাই জাতীয় দলের হয়ে এশিয়া কাপে অংশ নিলে বাড়িতে র‌্যাব পাঠিয়ে উঠিয়ে আনার হুমকি দেয়া হয় রাসেল মাহমুদ জিমিকে। অজানা কারণে শুরুতে বিষয়টি চেপে যান জিমি। জিমির চেপে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে ভয়ে অস্থির হয়ে পড়ে তার পরিবার। পরিবার থেকে নাকি  খেলা ছেড়ে দেয়ার চাপও দেয়া হয় তাকে। ‘টেলিভিশনে এসব খবর  দেখে আমার আম্মা খেলা ছেড়ে দিতে বলেছেন। অসুস্থ বাবাও তাকে নিয়ে ভীত, বলেন জিমি। অথচ ১৮ই জুলাইয়ের ঘটনা তিনি প্রকাশ করেন ২১শে জুলাই, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের সঙ্গে সাাতের সময়। তারও তিনদিন পর বংশাল থানায় করেন সাধারণ ডায়েরি। ওইদিনই ফেডারেশনের প থেকে পল্টন থানায় আরও একটি ডায়েরি করা হয়। একই সঙ্গে র‌্যাব ও ডিবি’র সহায়তা চেয়ে চিঠি দেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ। সঙ্গে সঙ্গে জিমিকে করা খুদে বার্তার নম্বর নিয়ে মাঠে নামে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ। আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে হুমকির রহস্যের। প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব বের করে আনে আসল রহস্য।
জানা গেছে, জিমিকে যে নম্বর থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে, ওই নম্বরটি কেনা হয়েছে ১৫ই জুলাই। বংশালের মকিম বাজারের ১৪২/আর/২ এর এরফান ভিলা থেকে হকি ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার নামে কেনা হয় নম্বরটি। এতে ছবি ব্যবহার করা হয় বর্তমান কমিটির আরেক সদস্যের। ১৮ই জুলাই উক্ত এয়ারটেল নম্বরটি থেকে হকি ফেডারেশনের আগের কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে ১০টি খুদে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়। আর র‌্যাব পাঠানোর হুমকিসহ জিমিকে ৪টি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এসব তথ্য ধরেই তদন্তে নামে র‌্যাব।
র‌্যাব কর্মকর্তারা কথা বলেন বর্তমান কমিটির ও আগের কমিটির দুই সদস্যের সঙ্গে। এতেই ঘাবড়ে যান হুমকিদাতা। বিষয়টি মীমাংসা করতে অন্য এক নম্বর থেকে মা চেয়ে জিমির কাছে নতুন খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এতে লেখা হয় হুমকি দেয়ার জন্য নয়, সতর্ক করার জন্য জিমিকে খুদে বার্তাটি পাঠানো হয়েছে। এতে যদি জিমি কষ্ট পেয়ে থাকে, তবে তার কাছে মা প্রার্থনা করেন প্রেরক।
প্রসঙ্গতঃ মৃত হকিতে নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে দেড় বছরে। জিমি, চয়ন, জাহিদদের সাফল্যে নতুন করে হকিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন উদীয়মানরা। কিন্তু এক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল হকি। একপ অন্যপরে বিপে বিষোদগার করতে থাকে। নির্বাচনী কলহ ছড়াতে থাকে চারদিকে। এক সময় নির্বাচনী কলহে জড়িয়ে পড়েন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও। খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির মুখপাত্র হিসেবে সাবেক কোন খেলোয়াড় নয়, মিডিয়ার সামনে চলে আসেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাই। এমনকি জিমির মতো তারকা হকি খেলোয়াড়ও জড়িয়ে পড়ে নির্বাচনী বেড়াজালে। নির্বাচনী কুটিলতায় জড়িয়ে রোষানলের শিকার হন তারা। নির্বাচনের পরও এটা চলতে থাকে। যার সর্বশেষ শিকার জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি। ধারণা করা হচ্ছে জিমির হুমকি ও ফেডারেশনের নির্বাচন একই সূত্রেই গাঁথা।

>