মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > জিসিসি’র ১৯ কাউন্সিলর স্কুল পাস করেননি ॥ মামলার আসামি ২৫

জিসিসি’র ১৯ কাউন্সিলর স্কুল পাস করেননি ॥ মামলার আসামি ২৫

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ॥
গাজীপুর: গত ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিকল্পিত, আধুনিক, যানজটমুক্ত শহর ও নাগরিক সুবিধা পাওয়ার আশায় মহানগরীর ছয় লাখের বেশি ভোটার রায় দিয়েছেন। নির্বাচিত করেছেন তাদের পছন্দের প্রতিনিধি । কেমন তাদের যোগ্যতা, কী তাদের পেশা তা জানার কৌতূহল এখন এলাকাবাসীর মধ্যে। নবনির্বাচিত কাউন্সিলররা কি পারবেন নগরবাসীকে যোগ্য সেবা দিতে?

গাজীপুর সিটিতে নির্বাচিত হয়েছেন ৫৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর। তাদের মধ্যে ১৯ জন স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। ২৫ জনের বিরুদ্ধে এক বা একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচিত ৫৭ কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৭ জনের পেশা ব্যবসা। তাদের মধ্যে ঠিকাদার থেকে শুরু করে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত ১৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে নয়জন স্কুলের গণ্ডি পার হননি। নবনির্বাচিত এসব কাউন্সিলরদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। নির্বাচিত কাউন্সিলরদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচিত সাধারণ কাউন্সিলর
শিক্ষাগত যোগ্যতা: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত ৫৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত আছেন মাত্র চারজন। এ ছাড়া, নির্বাচিতদের মধ্যে তিনজন স্বশিক্ষিত, পাঁচজন অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন, ১২ জন মাধ্যমিক, ১১ জন উচ্চমাধ্যমিক, ১১ জন স্নাতক ও দুজন দাখিল পাস রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণী, পাঁচজন অষ্টম শ্রেণী ও একজন নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। হলফনামায় দুজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা না হলেও তারা শুধু নাম স্বাক্ষর করতে পারেন বলে জানা গেছে।

উচ্চশিক্ষিত চার কাউন্সিলরের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোলায়মান মিয়া, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ খলিলুর রহমান, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আব্বাছ উদ্দিন ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ তানভীর আহম্মেদ মাস্টার্স পাস করেছেন।

হলফনামায় স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি মোহাম্মদ আলী, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেদি হাসান ফারুক ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ বাদল ।

অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন কাউন্সিলররা হলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সফর আলী, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলহাজ মিজানুর রহমান, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ আবদুল আলেক ।

এ ছাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবির পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুস সালাম আহমেদ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাইজউদ্দিন মোল্লা, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফয়সাল আহমেদ সরকার, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাবেদ আলী ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের জান্নাতুর রহমান অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বজলুর রহমান নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন।

পেশা : নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ৪৭ জনের পেশা ব্যবসা। এর মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছোলায়মান মিয়া, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আব্বাছ উদ্দিন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সফর আলী, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক আহমেদ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের খায়রুল আলম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের জান্নাতুর রহমান, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছানোয়ার রহমান ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদুর রহমান পেশায় ঠিকাদার।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাহফুজুর রহমান ভাঙ্গারি ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম হোসেন বাতিল মালের ব্যবসা করেন। কৃষির সঙ্গে জড়িত ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুর রহমান। এ ছাড়া, ছয়জন আছেন বাড়ির মালিক। দুজনের ইটভাটার ব্যবসা আছে। তিনজন তাদের পেশা উল্লেখ করেননি।

মামলা
নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৫ জন এক বা একাধিক মামলার আসামি। এর মধ্যে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তানভীর আহমেদ, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের হেলালউদ্দিন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের শফিউদ্দিন ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ আবদুল আলেকের বিরুদ্ধে পাঁচটি করে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

চারটি করে মামলা আছে ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুস সালাম ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক আহমেদ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুর রহমান তিনটি করে মামলার আসামি। বাকিদের কেউ একটি, কেউবা দুটি মামলার আসামি।

নির্বাচিতদের প্রসঙ্গে আলাপকালে গাজীপুরের কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও সমাজসচেতন ব্যক্তি বলেন, “রাজনীতিকদের পুঁজি হচ্ছে জনগণ। তারা জনসেবায় নিজেদের মনোনিবেশ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা ব্যবসায়ী, তাদের পক্ষে পুরোপুরি জনসেবক হওয়া সম্ভব নয়। কারণ তারা অন্য পেশায় নিয়োজিত।”

সংরক্ষিত কাউন্সিলর
শিক্ষাগত যোগ্যতা: সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত ১৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে তিনজন স্বশিক্ষিত। একজনের অক্ষরজ্ঞান রয়েছে। এ ছাড়া, দুজন মাস্টার্স, দুজন এলএলবি, দুজন বিএ ও দুজন এইচএসসি পাস। চারজন অষ্টম শ্রেণী ও একজন দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি দুজন।

উচ্চশিক্ষিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোসাঃ শিরিন আক্তার ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনে আরা সিদ্দিকা এমএস পাস করেছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোছাঃ বকুল আক্তার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোছাঃ আমেনা খাতুন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার নূরন্নাহার স্বশিক্ষিত এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পারভীন আক্তার অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি ১ নম্বর ওয়ার্ডের পারভীন আক্তার ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মোছাঃ রীনা আক্তার ।

পেশা: নির্বাচিত সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১৯ কাউন্সিলরের মধ্যে নয়জন গৃহিণী। দুজন আইন ও চারজন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। দুজন ব্যবসা করেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঞ্জুমানারা ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মোসাঃ আয়েশা আক্তারের পেশা আইন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনে আরা সিদ্দিকা, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোসাঃ হাছিনা মমতাজ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোসাঃ নাসরিন আক্তার ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়া শারমিন শিক্ষকতা পেশায় আছেন। এ ছাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিরিন চাকলাদার বিউটি পারলারের এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেরা আক্তার মৌসুমীর ক্ষুদ্র ব্যবসা রয়েছে।

>