সোমবার , ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ , ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > জিসিসি নির্বাচনে ২৭ নং ওয়ার্ড মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যাখান করছে ভোটাররা

জিসিসি নির্বাচনে ২৭ নং ওয়ার্ড মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যাখান করছে ভোটাররা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। মহানগর জুড়ে অলি-গলিতে ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টার।
দেশের আলোচিত মাদকের গ্রাম লক্ষীপুরা, পূর্ব চান্দনা আংশিক এবং শিক্ষিত মানুষের আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (সার্ডি) নিয়ে গঠিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে ভোটার সংখ্যা ২১৫০০। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার গার্মেন্ট শ্রমিক।
আলোচিত এই ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে অসংখ্য নারী কেলেংকারীর নায়ক মাদকাসক্ত আব্দুল মতিন, গাঁজা চাষী ও মাদক ব্যবসায়ী জাবেদ আলী জবে, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হানিফ উদ্দিন তালুকদার, মো. কামরুল হাসান কাকুল, সাইদুল ইসলাম সোহেল, আলহাজ আব্দুল বারি ও আহামদ আলী রুশদী।
এর মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মতিনের প্রতীক চাঁদ ও জাবেদ আলী জবের প্রতীক মোড়গ এবং সাবেক ছাত্র নেতা ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ আহামদ আলী রুশদী আপলে প্রতীক নিয়ে জয়ের আশায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থীরা নতুন মুখ। তাঁরা পরিচিত হতে কেইবা নির্বাচন করার জন্যই করছেন।
ভোটাররা বলছেন- পরিস্থিতি যাই হোক আহামদ আলী রুশদীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে জাবেদ আলী জবের। কারণ এলাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের পছন্দ করে।
২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দেশের অন্যতম আলোচিত মাদকের গ্রাম হিসেবে লক্ষীপুরার কুখ্যাতি রয়েছে। নগরায়নের ফলে বিভিন্ন জেলার শান্তিপ্রিয় নতুন মানুষ এই গ্রামে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাঁরা মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের পছন্দ করে না। তাঁরা এবার শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন প্রার্থীকেই ভোট দিবেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানিয়েছেন, লক্ষীপুরার অন্যতম সমস্যা মাদক, সন্ত্রাস, জলবদ্ধতা এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা। সাবেক জনপ্রতিনিধি এ ব্যাপারে কিছুই করেননি। সুতরাং তাঁকে আর নয়। আমারা কাউন্সিলর হিসেবে শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন একজন নতুন প্রতিনিধি চাই।
এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (সার্ডি) এলাকায় অসংখ্য বিজ্ঞানী ও শিক্ষিত মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিটি করপেরেশনের কোন উন্নয়নের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত শিক্ষিত পরিবারের ভোটাররা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের উচ্চ শিক্ষিত বিজ্ঞানী ও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবার মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীকে নির্বাচিত করবেন? নাকি একজন শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেনÑ বিষয়টির দিকে দৃষ্টি রাখছেন সারা দেশের সচেতন নাগরিকগণ।
ভোটাররা জানিয়েছেন, অসংখ্য নারী কেলেংকারীর নায়ক মাদকাসক্ত আব্দুল মতিন মদ খেয়ে ফুল¯িপ্রডে গাড়ি হাকিয়ে বাচ্চাদের মত চলাফেরা করে। অন্যদিকে মতিনের ভায়রা জাবেদ আলী জবের বাড়ির ছাদে গাঁজা চাষের অভিযোগে তার ছেলেকে গ্রেফতার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে মামলা চলমান রয়েছে।
এসব কারণে বারি, ব্রি এবং সার্ডি এলাকায় নির্বচনী প্রচারাভিযান চালাতে গিয়ে মতিন ও জবের নিয়োগকৃত শ্রমিকরা প্রত্যাক্ষিত হয়েছে।
কয়েকজন বিজ্ঞানী জানান, মাদক ও সন্ত্রাস যুব সমাজ ধ্বংসের প্রধান কারণ ও দেশের প্রধান সমস্যা। এবারের নির্বাচনে বারি, ব্রি এবং সার্ডি শিক্ষিত ও সচেতন একজন ভোটারও তাদের ভোট দিবে না। তারা জানান, আমরা শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করবো।
এলাকার মহিলা ভোটাররা জানিয়েছেন, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত জনেরা যখন বলবে তোমরা মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যাবসাীয়কে ভোট দিয়েছÑ তখন লজ্জায় মুখ দেখানো যাবে না। আমরা আমাদের সন্তানদেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অবশ্যই মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যাবসাীয়দের ভোট দিব না।

>