রবিবার , ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ , ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ , ১৫ই রজব, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > জিসিসি নির্বাচন ঃ সরকারের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধের অগ্নিশিখায় হেফাজত ও জামায়াত

জিসিসি নির্বাচন ঃ সরকারের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধের অগ্নিশিখায় হেফাজত ও জামায়াত

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও এ নির্বাচনে সবার আগে জয় প্রয়োজন হেফাজতে ইসলামের।

নির্বাচনে কোনো প্রার্থী না দিলেও এখন সবচেয়ে মাথাব্যথা হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামের। ইসলাম নিয়ে মাঠে কাজ করলেও পদ্ধতিগত ব্যাপক ফারাক এখন আর দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।

গাজীপুর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয় এনে দিতে মরিয়া এ দুই ঘরানার সংগঠন। হেফাজত ও জামায়াতের নেতা কর্মীরাও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত করতে মাঠে সার্বণিকভাবে কাজ করছে।

অনেকটা পর্দার আড়ালে মনে হলেও গাজীপুর নির্বাচনে জয় এখন হেফাজত ও জামায়াতে ইসলামের একমাত্র টার্গেট।

কারণ এদুটি দলের নেতা কর্মীরা মনে করছেন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন হলেও এর আগে ৪টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলররা যেভাবে গো হারা হেরেছেন, তাতে আগামী নির্বাচনে তার প্রভাব সুস্পষ্টভাবেই পড়বে।

হেফাজত ও জামায়াতে ইসলামের নেতা কর্মীরা বলছেন, তারা মহাজোট সরকারের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও নিগৃহীতের শিকার হয়েছেন। অতএব আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা এখন থেকেই মাঠে নেমেছেন।

এছাড়া মাঠে সরকার পতনের আন্দোলনে কোনো ফল না হওয়ায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনই তাদের জন্যে সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।

তাই বিএনপি’র প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নানের জন্যে হেফাজত ও জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির কর্মীদের চেয়েও অনেক বেশি তৎপর। মান্নানের বিজয় হেফাজত ও জামায়াতের মধ্যে যে পদ্ধতিগত ত্রুটি বা পার্থক্য ছিল তাও দূর করে দিয়েছে।

হেফাজতের নেতারা তাদের কর্মীদের বলছেন, যদি গাজীপুর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয় হয়, তাহলে তাদের অনেকে ঘরে ফিরতে পারবেন। কারণ গত ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তাদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর হেফাজতের অনেক নেতাই ঘরে ফিরতে পারেন নি।

মতিঝিলের ওই সমাবেশে গাজীপুর এলাকা থেকে হেফাজতের নেতা কর্মীদের একটা বিরাট অংশ যোগ দিয়েছিল। তাদের অনেকে এখন ভীত হয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন।

তাদের ধারণা গাজীপুর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় হলে তারা নিরাপদেই ঘরে ফিরতে পারবেন। পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই দিতে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান জয়ী হলে একটা বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

এজন্যে হেফাজতের নেতারা তাদের কর্মীদের মান্নানের পে দিনরাত কাজ করতে বলছেন। কারণ মতিঝিল শাপলা চত্বরে ক্রাকডাউনের পর হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অজস্র মামলা দিয়েছে। সারাদেশে এসব মামলার খড়গ নিয়ে কোথাও তারা দাঁড়াতে পারছেন না।

হেফাজতের এক স্থানীয় নেতা হাফেজ আমীর হামজা বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন গাজীপুর কেন্ত্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মনির আহমেদ খান যিনি এখনো ঘরে ফিরতে পারছেন না মামলার ভয়ে, নির্বাচনে মান্নান জিতলে তিনি ঘরে ফিরতে পারবেন। তিনি বলেন, মাওলানা মনির আহমেদ খান একজন ধর্মীয় নেতা অথচ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ায় তাকে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলামের গাজীপুর ইউনিটের প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেছেন, যদিও তারা কোনো নিশ্চয়তা পাননি তবুও তারা বিশ্বাস করছেন মান্নান জিতলে তারা নিরাপত্তা ফিরে পাবেন। তাই আমাদের কর্মীরা মান্নানের পে ভোট চাচ্ছেন।

জামায়াতে ইসলামের স্থানীয় নেতারাও বলছেন, গাজীপুরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করলে রাজনৈতিকভাবে তা এগিয়ে যাওয়ার একটি কৌশল হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আহমেদ আশরাফুল্লাহ ইতিমধ্যে তার নেতাকর্মীদের গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এম এ মান্নানের পইে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

>