মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > ঝুলে আছে প্রাথমিকের প্রধান শিকদের ২য় শ্রেণির মর্যাদা

ঝুলে আছে প্রাথমিকের প্রধান শিকদের ২য় শ্রেণির মর্যাদা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিকদের পদ মর্যাদার বিষয়টি। পদটিকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেডে উন্নীত করার বিষয়টিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সাড়া না মেলায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিকরা এখন বৃহত্তর আন্দোলনের অপোয় রয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপোয় রয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের স্বতন্ত্র বেতনস্কেলের পরিবর্তে প্রধান শিকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেডে উন্নীত করার দাবিটি দীর্ঘদিনের।পাশাপাশি সহকারী শিকদের বেতন বৃদ্ধি এবং সহকারী শিক থেকে প্রধান শিক পদে পদোন্নতির দাবিও রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের।

প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক শিার সার্বিক বিকাশ, গুণগত মানোন্নয়নের ল্েয, যোগ্য ও দ শিক গড়ে তোলার স্বার্থে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক পদকে আরও মর্যাদাসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় করতে গত বছরের ডিসেম্বরে এ পদকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীতের প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সহকারী শিকদের বেতনস্কেল আপগ্রেডের কথাও বলা হয় ওই প্রস্তাবে।

৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের জন্য এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে ৩১৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে তখন জানানো হয়েছিল।

বর্তমানে প্রধান শিকরা ১৩তম গ্রেডে (৫৫০০-১২০৯৫ টাকা) বেতন পেয়ে আসছেন। মন্ত্রণালয় প্রশিণপ্রাপ্ত প্রধান শিকদের বেতন দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় দশম গ্রেডে (৮০০০-১৬৫৪০ টাকা) উন্নীতের প্রস্তাব করে। এছাড়া প্রশিণবিহীন প্রধান শিকদের বেতন ১১তম গ্রেডে (৬৪০০-১৪২৫৫ টাকা) উন্নীত করারও প্রস্তাব করা হয়েছিলো।

পাশাপাশি প্রশিণপ্রাপ্ত সহকারী শিকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেডে (৫৯০০-১৩১২৫ টাকা) এবং প্রশিণবিহীন সহকারী শিকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে (৫৫০০-১২০৯৫ টাকা) উন্নীতের প্রস্তাব করা হয়।

দাবি আদায়ে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিলো শিকরা। কিন্তু দাবির বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরকারকে আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন শিকরা।

এর অংশি হিসেবে শিকদের একটি সংগঠন আগামী ২৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক সমিতির ব্যানারে শিক সমাবেশের আহবান করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৬ হাজারসহ বর্তমানে ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকায় যুক্ত।

সমিতির সভাপতি আবুল বাসার বলেন, ‘আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তিন দফা দাবিতে ডাকা সমাবেশে অন্তত ৫০ হাজার শিক উপস্থিত হবেন। সমাবেশ থেকে লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি আসবে।’

তবে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক সমিতির ব্যানারে অপর একটি সংগঠনের সভাপতি মু. আব্দুল আউয়াল তালুকদার বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পর নতুন কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

গত সপ্তাহে শিকদের দু’টি সংগঠন প্রাথমিক শিা সচিবের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। এ সময় বলা হয় শিকদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রধান শিকদের দাবির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন,‘প্রধান শিকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দান ও সহকারী শিকদের বেতন আপগ্রেড করার বিষয়টি অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে অর্থমন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শামসুদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘পদমর্যাদা উন্নীতের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত। তবে বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’

>